আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রি করছে ইউরোপীয় দেশগুলো
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রি করছে ইউরোপীয় দেশগুলো
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-২৮ ০০:২৪:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+


ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অস্ত্র রফতানি আইন লঙ্ঘন করে পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রি করছে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গত চার বছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে অন্তত ১ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে। বেশির ভাগ অস্ত্রই সিরিয়া ও এর সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে এসেছে বলে এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইসলামি জঙ্গি সংগঠন। এদের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমা সমর্থিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মি, ইসলামিক স্টেট, আল কায়েদা সমর্থিত জাবাত আল-নুসরা ফ্রন্ট এবং ইয়েমেনের সুন্নি বিদ্রোহীরা। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, একে-৪৭ এর মতো কয়েক হাজার অ্যাসল্ট রাইফেল, মর্টার শেল, রকেট লঞ্চার, ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী অস্ত্র ও ভারি মেশিন গানের মতো অস্ত্র বলকান অঞ্চল দিয়ে আরব উপদ্বীপ ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে পৌঁছেছে। ধারণা করা হয়েছে, এসব অস্ত্রের বেশিরভাগই গত ৫ বছর ধরে চলমান সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানটি চালিয়েছে, বলকান ইনভেস্টিগেটিং রিপোর্টিং নেটওয়ার্ক (বিআইআরএন) ও অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি)। এক বছর ধরে অস্ত্র রফতানির তথ্য, জাতিসংঘের তথ্যা, বিমান চলাচল ও অস্ত্র চুক্তি পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে কীভাবে পূর্ব ইউরোপের বসনিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, মন্টেনেগ্রো, স্লোভাকিয়া, সার্বিয়া ও রোমানিয়া থেকে এসব অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।

২০১২ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই আটটি দেশ সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের কাছে অন্তত ১ বিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করা হয়েছে।

অতীতে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অস্ত্র ক্রয় না করলেও ২০১৫ সালে বেশ কয়েকটি চুক্তি অনুমোদনের ফলে অস্ত্র বিক্রি বৃদ্ধি পায়।

অস্ত্র বিক্রিকারী দেশগুলোর জাতীয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকার পরও অস্ত্র রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের মধ্যেও আশঙ্কা ছিল এসব অস্ত্র সিরিয়ার সরকারবিরোধী বিদ্রোহীরা ব্যবহার করতে পারে বলে।

পূর্ব ও সেন্ট্রাল ইউরোপীয়ান অস্ত্র ও গোলাবারুদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। যা ব্যবহার করছে পশ্চিমা সমর্থিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মি। এছাড়া এসব অস্ত্র ব্যবহার করছে আনসার আল-শাম, আল কায়েদা সমর্থিত জাবাত আল-নুসরা ফ্রন্ট, ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর মতো ইসলামি সংগঠনগুলো। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ সমর্থিত গ্রুপ ও ইয়েমেনে সুন্নি যোদ্ধারা ব্যবহার করছে এসব অস্ত্র।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক গবেষক প্যাট্রিক উইলকেন ও ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের অস্ত্র বিষয়ক দূত বদিল ভ্যালেরো জানান, এসব অস্ত্র বিক্রির বেশ কয়েকটি ইইউ, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অস্ত্র রফতানি আইন ভঙ্গ করে থাকতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর