রফতানি হচ্ছে যশোরে তৈরি পাথর ভাঙা মেশিন
রফতানি হচ্ছে যশোরে তৈরি পাথর ভাঙা মেশিন
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৭-২৭ ১৭:৩৭:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


১৯৯২ সালে ১২০০ টাকা পুঁজি নিয়ে যশোর শহরে রিপন মেশিনারিজ নামে কৃষিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের ব্যবসা শুরু করেন আশরাফুল ইসলাম বাবু। ব্যবসা ভালো হলে ১৯৯৫ সালে রিপন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে স্টোন মিনি ক্রাশার, ইট ও পাথরভাঙা মেশিন, ইস্পলার, প্রেসার পুলি, লাইনার স্লট প্লেট, পানির পাম্প, শ্যালো ইঞ্জিনের মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্র। এই প্রতিষ্ঠানের তৈরি পাথর ভাঙা মেশিন রফতানি হচ্ছে ভারতে।

আশরাফুল ইসলাম বাবুর ছেলে লিয়াকত হোসেন রিপন জানান, প্রতি মাসে তাদের তৈরি ১৫টি পাথরভাঙা মেশিন ভারতে রফতানি হচ্ছে। প্রতিটি মেশিনের দাম সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া দেশেও তাদের ইট ও পাথরভাঙা মেশিনের বাজার ভালো। শুধু রিপন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নয়, যশোরে অন্তত ৩০০ হালকা ও ভারী প্রকৌশল শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের পণ্য সারাদেশে ব্যবহার হচ্ছে।

যশোরে গত ২৯ মে শুরু হয় জাতীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও প্রযুক্তি মেলা। মঙ্গলবার শেষ হয়েছে মেলা। দেশীয় ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য সেবা ও প্রযুক্তির বিকাশ এবং প্রচারের উদ্দেশ্যে এই মেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি যশোর জেলা শাখা।

মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, বাস-ট্রাকের যন্ত্রাংশ উৎপাদন করছে এনায়েত লেদ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার হোসেন জানান, তাদের কারখানায় উৎপাদিত গাড়ির যন্ত্রাংশ সারাদেশে বিক্রি হচ্ছে। এগুলো মানসম্মত যন্ত্রাংশ, যা আগে বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। এখন গাড়ির মালিকরা তাদের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করছেন।

অগ্রণী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী শমসের আলী বলেন, তাদের কারখানা যশোর-নড়াইল রোডে অবস্থিত। সেখানে সরিষার তেল ভাঙানো মেশিন, বোতলজাতের জন্য ফিল্টার উৎপাদন হচ্ছে। তাদের পণ্য দেশের ৪০টি জেলায় যাচ্ছে।

যশোর বিসিকে ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং উৎপাদন করছে টিউবওয়েল, বিচালিকাটা মেশিন ও অটো বাইকের পার্টস। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ইলিয়াস হোসেন জানান, তারা চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ ভাঙা কাঁচামাল হিসেবে কিনে এনে তা গলিয়ে পণ্য উৎপাদন করছেন, যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তিনি বলেন, যদি সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যেত তাহলে এই শিল্প আরও বিকশিত হতো।

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি যশোর জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক সিরাজ খান মিন্টু জানান, জেলায় ৩০০টি হালকা ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান ভারী শিল্পপণ্য তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে পাথর, খোয়া ভাঙা মেশিন, কৃষি কাজে ব্যবহৃত মেশিনারি। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে বছরে হাজার কোটি টাকার পণ্য তৈরি হচ্ছে। তবে তিনি এই শিল্পের বিকাশে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। ভ্যাট নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, যশোরের ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প প্রতিষ্ঠান অনেক আগে থেকেই জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে। তাদের আরও বিকশিত হতে হলে আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে বের করতে হবে। কেননা উৎপাদিত পণ্যের পরিচিতি না থাকলে তা খুব বেশি এগোবে না। আর ব্যাংগুলোকে ভালো প্রতিষ্ঠানে এসএমই ঋণ দিতে হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর