ভয়াবহ বন্যায় তিস্তা পাড়ের লাখো মানুষ
ভয়াবহ বন্যায় তিস্তা পাড়ের লাখো মানুষ
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৭-২৭ ১৬:৫৩:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


৮৮’ ও ৯৬’ সালের চেয়েও ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলা করছে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ৪ উপজেলার প্রায় লাখো মানুষ। উজানের লাগামহীন ঢলের পানি আসায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে। স্রোতের টানে ভেসে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সড়ক ডুবে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে মঙ্গলবার বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী ১৬ গ্রামের ভাসছে বন্যার পানিতে। এলাকাবাসী জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রবল স্রোতের টানে বিধ্বস্থ হয়েছে অন্তত অর্ধশত ঘর-বাড়ি। রাস্তা, গুচ্ছগ্রাম ও বাঁধে আশ্রিতদের সংখ্যা বাড়ছে।

ডিমলা উপজেলা বন্যা তথ্য কেন্দ্র সূত্র মতে, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ এলাকার বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে ৮৩০ পরিবার।

এদিকে, কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির ফসল প্লাবিত হয়েছে। নিমজ্জিত রয়েছে ৩০০ হেক্টরের ফসল ও ৩৫ হেক্টর আমনের বীজতলা।

এলাকাবাসী জানায়, ৮৮’ সালে একদিনে ঢল এসে সব লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল। এবারের উজানের টানা ঢল বিগত সময়ের বন্যাকে হার মানিয়েছে।

ডিমলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানান, বন্যা ও ভাঙনের কারণে ডিমলা উপজেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড বাইপাসে উজানের ঢলের চাপ বাড়ছে। এটি বিধ্বস্ত হলে তিস্তা নদী আরেক দফায় গতিপথ পাল্টে ফেলতে পারে। এমনটি ঘটলে তিস্তা ব্যারাজ অকেজো হয়ে পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ফ্লাড বাইপাস এলাকায় সর্তকাবস্থায় নজরে রাখা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, গত কয়েক দিনের বন্যা ও ভাঙনে ডিমলা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও জলঢাকা উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম বন্যা ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ্যদের মধ্যে শুকনো খাবার, চাল একশ তিন মেট্রিক টন, নগদ টাকা চার লাখ ৩৫ হাজার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রেখে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র জানায়, মঙ্গলবার তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কিছুটা কমলেও বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি ঘটেনি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

পরিবেশ এর অারো খবর