তুরস্কে ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থান’: এবার ৪২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
তুরস্কে ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থান’: এবার ৪২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-২৭ ০৪:৩৪:০১
প্রিন্টঅ-অ+


তুরস্কে ‘ব্যর্থ গণঅভ্যুত্থান’ প্রচেষ্টায় সন্দেহভাজন হোতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা বলে চলমান ধরপাকড়ের অংশ হিসেবে এবার ৪২ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আর এরদোয়ান সরকারের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। দশ দিন আগের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর তুরস্কে বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হলেও ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ জুলাই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে হাজার হাজার সেনা, পুলিশ, বিচারক, প্রসিকিউটর ও সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করেছে তুরস্ক সরকার। তবে সোমবার প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এদিকে এ গ্রেফতারি পরোয়ানাকে ‘অন্যায্য’ বলে উল্লেখ করেছেন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের তুরস্ক প্রতিনিধি এরোল অনদেরোগলু। তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় যে গুলেন নেটওয়ার্ককে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে সাংবাদিকের সংযোগ রয়েছে কিনা কিংবা ওই পদ্ধতিতে সাংবাদিকরা অভুত্থান প্রচেষ্টা চালাতে পারেন কিনা তা খুঁজে বের করা অসম্ভব’।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন নাজলি ইলিসাক। তিন বছর আগে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত মন্ত্রীদের সমালোচনা করার জন্য তাকে সাবাহ নামে একটি সরকারসমর্থক সংবাদপত্র থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
তুরস্কের সরকার ব্যাপারটি নিয়ে কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য করে নি। তবে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার ভাষায় ভাইরাস মুক্ত করার জন্য শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন। ওই অভ্যুত্থানের পর তুরস্কে মৃত্যুদন্ড ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনার কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোয়ানসহ সরকারের অনেক উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি।

তবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান জাঁ-ক্লদ জাঙ্কার সতর্ক করে দিয়েছেন যে এমনটা করা হলে তুরস্কের ইইউ সদস্য হবার আলোচনা স্থগিত করে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় পড়ে শোনানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এখন ‘শান্তি পরিষদ’দেশ চালাবে এবং কারফিউ ও সামরিক আইন জারি থাকবে। একই সঙ্গে তুরস্কের বিদ্যমান বৈদেশিক সব সম্পর্ক বহাল থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রাধান্য পাবে। কারফিউর বিরোধিতা করে এরদোয়ানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়। অভ্যুত্থান চেষ্টার ‘ব্যর্থ’ হওয়ার পর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার, বরখাস্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। সূত্র: গার্ডিয়ান, রয়টার্স, বিবিসি

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর