ঢাকা-দিল্লি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক বৃহস্পতিবার
ঢাকা-দিল্লি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক বৃহস্পতিবার
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-২৫ ০৩:৫০:৫৩
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আগামী ২৮ জুলাই দিল্লিতে শুরু হবে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে জোড়া সন্ত্রাসী ঘটনার পর উগ্রবাদ দমনে এ বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে বেনাপোলের সমন্বিত চেকপোস্ট উদ্বোধনকালে এক ভিডিও কনফারেন্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে ভারত এবং হাসিনা যেন নিজেকে একা না মনে করেন।
বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা রোববার বিকালে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান খান কামালের দিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করেন।
কামাল বুধবার দিল্লি যাচ্ছেন এবং শনিবারে দেশে ফিরবেন। তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন বলে কথা রয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ-ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল।
পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে।
এদিকে সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী ঘটনার পরে এ বৈঠকে নিরাপত্তা ও জঙ্গিবাদ দমনে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এছাড়া সীমান্ত হত্যা, সীমানা অবকাঠামো, প্রত্যার্পণ [এক্সট্রাডিশন] চুক্তির পরিবর্তন, সংখ্যালঘু নির্যাতন, মাদক চোরাচালান, মানব পাচার ও অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তথ্য সরবরাহ ছাড়াও সন্ত্রাসবাদ দমনে অনেক বিষয়ে সহযোগিতা শুরু হয়েছে এবং সেগুলোকে আরও বেগবান করার বিষয়টি এ বৈঠকে আলোচিত হবে।
এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা ও এর সমাধান একক কোনও দেশের পক্ষে সম্ভব নয় এবং সেই আলোকে নতুন কোনও সহযোগিতার প্রস্তাব এলে তা নিয়েও আলোচনা হবে।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, সীমান্ত হত্যা ক্রমান্বয়ে কমে এলেও সম্প্রতি সীমান্তে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার জন্য।

বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যার্পণ চুক্তির একটি ধারা গত সোমবার কেবিনেট বৈঠকে সংশোধন করা হয়েছে এবং সেটি এখানে আলোচিত হবে।

প্রত্যার্পণ চুক্তির ১০(৩) ধারার সংশোধনীতে বলা হয়েছে, চুক্তিকারী কোনও দেশে যদি ফেরতযোগ্য অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি থাকে, তবে তাকে ফেরত পাঠানো যাবে। আগে ওয়ারেন্ট ছাড়াও কোর্টের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণাদির বিষয়টি উল্লেখ ছিল।

সীমান্ত অবকাঠামো বিষয়ে ভারতের একধিক প্রস্তাব বিষয়েও এ বৈঠকে আলোচনা হবে বলে কর্মকর্তাটি জানান।

সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনও দেশের কোনও স্থাপনা থাকতে পারবে না কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে দুই শতাধিক স্থাপনা স্থাপনের অনুরোধ আছে, যার মধ্যে শতাধিক অনুমোদিত।

কর্মকর্তাটি বলেন, নিরাপত্তা, বাস্তব প্রয়োজন, সীমান্তে এর প্রভাব এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে বাংলাদেশ এর অনুমোদন দিয়ে থাকে এবং এ বিষয়গুলো নিয়ে এ বৈঠকে কথা হবে।

এদিকে ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রিংলা পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক ঢাকায় খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকের তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। তবে তিনি আশা করেন আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এটি হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগস্ট মাসে এ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, আগামী অক্টোবরে ব্রিকস-বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য শেখ হাসিনাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে হাসিনা-মোদির একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর