বিএনপিতে তোলপাড়
বিএনপিতে তোলপাড়
২০১৫-১১-০১ ১৫:১৯:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+


বিএনপির সহসভাপতি সমশের মবিন চৌধুরীর হঠাৎ পদত্যাগের ঘটনায় দলের ভেতরে-বাইরে তোলপাড় হচ্ছে। সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী সমশের মবিনের পথ ধরে শিগগির বিএনপি থেকে কি আরও কোনো নেতা পদত্যাগ করবেন? নাকি একটি বিচ্ছিন্ন ব্যাপার হিসেবে এখানেই ইতি ঘটবে পদত্যাগের ঘটনা? বিএনপির অন্দরমহলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের বেশ কিছু নেতা হতাশ, হাইকমান্ডের ওপর অসন্তুষ্ট। তবে তারা দলত্যাগের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত এখনই নেবেন, এমন কোনো আভাস নেই। আগামীতে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তাদের অবস্থান কী হয়_ তার ওপর নির্ভর করবে অনেক কিছু। এদিকে সমশের মবিনের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় ঘিরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী বলয়টি ভাঙনের মুখে পড়ার আভাস পাওয়া গেছে। সাবেক আমলা, বিএনপি চেয়ারপারসন ও গুলশান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে গড়ে ওঠা বলয়ের কর্মকাণ্ডের ওপর দলের হাইকমান্ডসহ অধিকাংশ নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ। পদাবনতি বা সরিয়ে দেওয়ার আগে নিজ থেকেই সরে দাঁড়াতে পারেন তারা।

সমশের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগ নিয়ে বিএনপিতে নানামুখী আলোচনার ঝড় বইছে। দলের এই পদত্যাগী সহসভাপতি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগের দায়িত্বে ছিলেন। আন্দোলনের মাঠে ব্যর্থ দলটি যখন প্রভাবশালী বিদেশি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সহযোগিতার ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল, সে মুহূর্তে তার অবসরে যাওয়ায় দলটির ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে নেতাদের একটি অংশ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাকে ব্যর্থ বলে মনে করছেন। অন্যদিকে সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে একটি পক্ষ তাকে অভিভাবক মনে করলেও, অপর পক্ষ তার বিরুদ্ধে গ্রুপিংয়ের অভিযোগ আনছেন।

সমশের মবিন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর দিন সিলেটে হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত করতে গিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, সমশের মবিনের পদত্যাগে বিএনপিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। বিএনপি একটি বড় দল। এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল গতকাল ফেসবুক স্ট্যাটাসে সমশের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগের ঘটনায় দুঃখ পেয়েছেন বলে লিখেছেন।


জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে দল ও রাজনীতি থেকে অবসরের কথা বললেও বাস্তবতা ভিন্ন। অনেকে বলছেন, দ্বিমুখী চাপে পদত্যাগ করেছেন সমশের মবিন। একদিকে মামলার মাধ্যমে সরকারি চাপ, অন্যদিকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অসদাচরণ। এই দ্বিমুখী চাপের কারণেই রাজনীতি থেকে অবসরে গিয়েছেন বলে মনে করছেন বিএনপির অনেক নেতা।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এক নেতা বলেন, কে কখন দল ছাড়েন, তা আগেভাগে বলা যায় না। স্বৈরাচার এরশাদের আমলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল হালিম চৌধুরী সকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করে বিকেলেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। একইভাবে আওয়ামী লীগ থেকেও মিজানুর রহমান চৌধুরী ও কোরবান আলী এরশাদের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে চলে যান।

সূত্র জানায়, বিএনপি থেকে সম্ভাব্য দলত্যাগীদের তালিকায় দলের স্থায়ী কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রয়েছেন। নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, দলের অবমূল্যায়নের কারণে বর্তমানে তাদের কেউ কেউ নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। আবার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কোথায় রাখা হয় তাও দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।


সূত্র মতে, কূটনৈতিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য একজন নেতা ছাড়াও দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও সরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়কেন্দ্রিক ওই কর্মকর্তারাও আন্দোলনকালে নাশকতার মামলার আসামি। তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। তাদের বিরুদ্ধে দলের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অপমানিত করা, জরুরি প্রয়োজনে তাদের চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না দেওয়া, পছন্দের ব্যক্তিদের কারণে-অকারণে খালেদা জিয়ার সামনে হাজির করা ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গোপনে সরকার ও বিএনপিতে দ্বৈত ভূমিকা পালনেরও অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি বা ২০ দলীয় জোটের গোপনীয় রাজনৈতিক কর্মকৌশলের পরিকল্পনাও ওই কর্মকর্তারা দ্রুত প্রতিপক্ষের হাতে পেঁৗছে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


সূত্র জানায়, দল পুনর্গঠনে বিতর্কিত ওই কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে পরীক্ষিত ব্যক্তিদের এসব পদে বসানোর পরিকল্পনা করেছেন তারেক রহমান। লন্ডনে অবস্থানকারী মা ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে এ বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে এসেছে। এরই মধ্যে দলকে ঢেলে সাজাতে থিংক ট্যাঙ্ক ৬০ পৃষ্ঠার একটি খসড়া পরিকল্পনা খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া ওই পরিকল্পনাটি নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন।


বিএনপির জ্যেষ্ঠ এক নেতা বলেন, সমশের মবিনের পদত্যাগে দলের তৃণমূলে একটি হতাশাজনক বার্তা পেঁৗছে গেল। মাঠের নেতাকর্মীরা মনে করতে পারেন, দলের ভবিষ্যৎ ভালো নয় আঁচ করতে পেরেই সাবেক কূটনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও বড় মাপের একজন নেতা দল ছাড়লেন। অন্যদিকে সমশেরের চলে যাওয়ায় খুশি হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তার বিরোধী নেতারা। তাদের একজন জানান, সমশের মবিন দলের দুঃসময়ে সরে পড়লেন। দল তাকে অনেক দিয়েছে। বিএনপির সবাই এখন নির্যাতিত। এ অবস্থায় তার চলে যাওয়া ঠিক হয়নি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর