রিপাবলিকান কনভেনশনে এবার ক্রুজকে নিয়ে বিতর্ক
রিপাবলিকান কনভেনশনে এবার ক্রুজকে নিয়ে বিতর্ক
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-২২ ০২:৩৭:৪১
প্রিন্টঅ-অ+




রিপাবলিকান দলের জাতীয় সম্মেলনের তৃতীয় দিনও নানা বিতর্কে ঘোলাটে হয়ে থাকল। প্রথম দুই দিন গেছে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়ার মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার ভাষণ চুরির অভিযোগ নিয়ে। এ নিয়ে হুলুস্থুল তর্ক সামলাতেই সময় পার হয়েছে। গতকাল বুধবার টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ মূল মঞ্চ থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্পকে অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে আবার বিতর্ক শুরু হয়।

বাছাইপর্বের নির্বাচনেই ট্রাম্প ও ক্রুজ একে অন্যের সঙ্গে বাগ্‌যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন। ট্রাম্প ক্রুজের নাম দিয়েছিলেন ‘লাইং টেড’ (‘মিথ্যুক টেড’)। তিনি ক্রুজের স্ত্রী হাইডিকে ‘কুশ্রী’ ও বাবা রাফায়েলকে জন এফ কেনেডি হত্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনেছিলেন। অপমানিত ক্রুজ ভোটে পরাজিত হলেও চেষ্টা করেছিলেন সম্মেলনের ডেলিগেটদের নিজের পক্ষে টেনে ট্রাম্পের মনোনয়ন আটকে দিতে। তিনি সম্মেলনে আসবেন না, তেমন আগাম ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এতে দলের বিভক্তি আরও বাড়ার আশঙ্কায় ট্রাম্প সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্রুজকে ভাষণ দিতে আমন্ত্রণ জানান।

ক্রুজ ১৮ মিনিটের ভাষণের শুরুতে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান। তবে একবারও তাঁর নাম উচ্চারণ করেননি। তিনি প্রত্যেক রিপাবলিকান-সমর্থককে নিজেদের বিবেক অনুযায়ী ভোটদানের পরামর্শ দেন। ক্রুজ ট্রাম্পকে অনুমোদন করবেন না, সে কথা স্পষ্ট হওয়া মাত্রই উপস্থিত দর্শক তাঁর উদ্দেশে ‘ছি’ ‘ছি’ করতে থাকেন। বক্তৃতা শেষে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পর ক্রুদ্ধ রিপাবলিকান-সমর্থকেরা ক্রুজ ও তাঁর স্ত্রী হাইডিকে ঘিরে ধরে উচ্চ স্বরে গালাগালি করেন।

বেশির ভাগ ভাষ্যকার একমত, সাম্প্রতিক মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে দুই প্রধান দলের কোনো প্রার্থীকেই এমন বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এ বছরের রিপাবলিকান দলের জাতীয় সম্মেলন অন্য সব বছর থেকে ভিন্ন হবে। জাঁকজমকপূর্ণ টেলিভিশন শো মাথায় রেখেই তিনি সম্মেলনটি পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তা যে এমন নাটকীয়ভাবে তাঁর লক্ষ্য থেকে ছিটকে যাবে, তা বোধ হয় কল্পনায় ছিল না।

তৃতীয় দিনেও মেলানিয়া ট্রাম্পের ভাষণ নিয়ে বিতর্ক চলে। আট বছর আগে দেওয়া মিশেল ওবামার ভাষণের সঙ্গে স্পষ্ট মিল থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ও অন্যরা চুরির প্রশ্ন ওঠে না বলে দাবি করতে থাকেন। গতকাল দুপুরের দিকে সেই সুর বদলে যায়। জানানো হয়, মেলানিয়া ট্রাম্প নিজে নন, মেরেডিথ ম্যাকাইভার এই ভাষণ লিখেছিলেন। মেলানিয়া তাঁকে মিশেল ওবামার ২০০৮ সালের ভাষণের কিছু প্রিয় অংশ পড়ে শুনিয়েছিলেন। মেরেডিথ সেটিই ভাষণে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে মেরেডিথ পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে ট্রাম্প তাতে রাজি হননি।

রিপাবলিকান সম্মেলনের তিন দিনই পার হয় হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে গোপনীয় ই-মেইলের ব্যাপারে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে। বলা হয়, হিলারি প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য অযোগ্য।

তৃতীয় দিনের মূল আকর্ষণ হওয়ার কথা ছিল ট্রাম্পের রানিং মেট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মাইক পেন্সের ভাষণ। এই দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ট্রাম্পের দ্বিতীয় পুত্র এরিক ট্রাম্প ও সাবেক রিপাবলিকান স্পিকার ন্যুট গিংগ্রিচের ভাষণ। এ ছাড়া ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও ৯০ সেকেন্ডের এক ভিডিও বার্তায় হিলারি ক্লিনটনকে পরাস্ত করার পক্ষে জোর আবেদন রাখেন। ট্রাম্প নিজেও পুত্র এরিকের ভাষণের সময় সম্মেলনকক্ষে অবস্থান করেন। কিন্তু টেড ক্রুজের অনুমোদনে অস্বীকৃতি নিয়ে বিতর্কে এ সবকিছুই ঢাকা পড়ে যায়।

এদিন সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে ট্রাম্পের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ছোটখাটো কয়েকটি সংঘর্ষ হয়। রেভল্যুশনারি কমিউনিস্ট পার্টির একদল সমর্থক মার্কিন পতাকা পোড়ানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ১২ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে। আগামীকাল শুক্রবার দলের মনোনয়ন গ্রহণ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত ভাষণের মাধ্যমে এই সম্মেলন শেষ হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর