ঘরে বসেই অফিস করেছেন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা
ঘরে বসেই অফিস করেছেন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা
২০১৬-০৭-২১ ০৭:৩৫:১৮
প্রিন্টঅ-অ+


‘নিরাপত্তা ঝুঁকি-সংক্রান্ত তথ্যের আলোকে আমরা সব কর্মীকে ২০ জুলাই বাসা থেকে দাফতরিক কার্যক্রম চালানোর অনুরোধ করছি। কাজ-সংক্রান্ত কোনো প্রয়োজন হলে আপনারা সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’ কর্মীদের উদ্দেশে এ বার্তাটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি উন্নয়ন সংস্থার। এ নির্দেশনা মেনে কর্মীরাও ঘরে বসেই গতকালের দাফতরিক কাজ সম্পাদন করেন। অর্থাত্ ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চললেও অফিস ছিল বন্ধ।

জাতিসংঘের বাংলাদেশ কার্যালয়সহ অধীনস্ত সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও গতকাল ঘরে বসে অফিস করেছেন। জাতিসংঘের মতোই গুলশানে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদেরও ঘরে বসে দৈনন্দিন দাফতরিক কাজ সম্পাদন করতে বলা হয়। ফলে গুলশান এলাকায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো গতকাল অঘোষিত বন্ধ ছিল।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, কর্মসম্পাদনের ক্ষেত্রে বিকল্প এ পদ্ধতি নিরাপত্তাজনিত কারণেই একদিনের জন্য (গতকাল) চালু করা হয়।

গুলশানে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘরে বসে অফিস করার মৌখিক নির্দেশনা বা অনুরোধ ছিল প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সব কর্মীর প্রতি। এর মধ্যে রয়েছে প্ল্যান বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো প্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) ঢাকা কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারাও বিষয়টি স্বীকার করেন। সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, শুধু গতকালের জন্যই এ নির্দেশনা। আজ থেকে আগের মতোই অফিসে গিয়ে সব কাজ সম্পাদন করতে হবে হয়তো।

গুলশান শুধু নয়, পাশের বাড্ডা এলাকায়ও অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় গতকাল বন্ধ রাখা হয়। যদিও সকালের দিকে এসব কার্যালয় খোলা ছিল। বেলা ১১টার মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এ এলাকায়ই অবস্থিত তৈরি পোশাকের ইউরোপীয় ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশের কার্যালয়। সকালে কিছু কর্মী কার্যালয়ে এলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের চলে যেতে বলা হয়।

অ্যাকর্ডের দেখাদেখি তৈরি পোশাকের একটি বিদেশী ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও কর্মীদের জানিয়ে দেয় যে, চাইলে তারা বাসায় চলে যেতে পারেন। পরে বেলা ২টায় প্রতিষ্ঠানের সব কর্মী অফিস ত্যাগ করেন।

ক্রেতা প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইউরোপীয় সব ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ঢাকার অফিসে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পরবর্তী ঘোষণা দেয়া পর্যন্ত প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তারা।

এর মধ্যেও কিছু বিদেশী প্রতিষ্ঠান গতকাল তাদের অফিস স্বাভাবিক নিয়মে খোলা রাখে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রথমে বন্ধ রাখার কথা ভাবা হলেও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার বিষয়টি সরকারের কোনো নিরাপত্তা সংস্থা থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। এ কারণে মৌখিকভাবে গতকাল অফিস করতে বলা হয় আমাদের। অফিস করতে বলা হলেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশীসহ ২০ জিম্মিকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ২০ জুলাই আবারো সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিদেশী কার্যালয়গুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে গতকাল ঘরে বসেই অফিস করেন আন্তর্জাতিক সংস্থার অনেক কর্মী।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, বিদেশী বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের ঘরে বসে অফিস করার বিষয়টি তার জানা নেই। কোন সংস্থা নির্দেশনা দিয়েছে সেটি আগে জানতে হবে। তবে এতে আতঙ্কিত বা শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কূটনৈতিক এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য রয়েছেন। নাশকতামূলক যেকোনো কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

গুলশান হামলার পর বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দেয় বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি চায় জাপান। গত বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করে জাপান। সে সঙ্গে জাপানের বেসরকারি সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা প্রদানে নিয়োজিত নিরাপত্তারক্ষীরা যাতে প্রয়োজনীয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন, সে অনুমতিও চেয়েছে ঢাকায় জাপানের দূতাবাস।
গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাপানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। এর ফলে জাপান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কার্যালয়গুলোর সামনে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর