"শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদের বীজ সমূলে উৎপাটিত হবে"
"শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদের বীজ সমূলে উৎপাটিত হবে"
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-২১ ০২:৩৩:০৯
প্রিন্টঅ-অ+




‘বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদের বীজ সমূলে উৎপাটিত হবে। আর আমি বিশ্বাস করি আমাদের প্রত্যেক প্রকৌশলী ভাইবোনেরই সামর্থ্য আছে তাদের নিজেদের জায়গা থেকে সমাজ ও দেশের পরিবর্তন করার। স্বাধীনতার পর থেকে যেমনটি আমরা সাফল্যের সাথে করে যাচ্ছি। তাই সম্প্রতি গুলশানে এবং শোলাকিয়ায় ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক জঙ্গি হামলার পরও আমি আশাবাদি এই ভেবে যে, আমাদের প্রকৌশলী সমাজ জাতির এই ক্রান্তিলগ্ন ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলা গড়ে তুলবে’- আজ বিকাল ৪ টায় আইইবি’তে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ আয়োজিত ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, নৈরাজ্য ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী প্রতিবাদ সভা’য় এর প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী প্রকৌশলী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত ১লা জুলাই ২০১৬ তারিখে গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে সশস্ত্র জঙ্গি কতৃক চালানো নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামায়াত শোলাকিয়ায় চালানো জঙ্গি হামলার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে বলেন। তার এই আহ্বানে সাড়া দিতেই আইইবি’তে আজ এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ। এই প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী প্রকৌশলী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী প্রকৌশলী হাসানুল হক ইনু এমপি।
প্রতিবাদ সভার সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সম্মানী সভাপতি অধ্যাপক ডঃ প্রকৌশলী এম হাবিবুর রহমান।
সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় সারা দেশের মানুষের মত প্রকৌশলী সমাজও বিস্মিত এবং একই সাথে ক্ষুব্ধ। আজ বিকাল ৪ টায় প্রতিবাদ সভা শুরু হলেও আইইবি’র সকল নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ সদস্যরা দুপুর ৩ টার আগে থেকেই আইইবি’তে উপস্থিত হতে শুরু করে। সভা শুরু হবার পূর্বেই অডিটোরিয়াম প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
প্রতিবাদ সভায় আইইবি’র নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ সদস্যরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার ব্যাপক নিন্দা জানান।
সভায় আইইবি’র সম্মানী সহ-সভাপতি আতাউল মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশ যখন সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সারা বিশ্বে একটি সমীহ জাগানো অবস্থানে পৌঁছেছে ঠিক তখনি আইএসের নামে বিএনপি জামায়াতের দোসররা বাংলাদেশের এই উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এসব জঙ্গি হামলা চালাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সারা দেশের মানুষকে এই জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর যে আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরই প্রেক্ষিতে আজকের এই প্রতিবাদ সভা। আমরা প্রকৌশলী সমাজ এই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিহত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ”।
আইইবি’র সহ-সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, “সকল প্রকৌশলী ভাইবোনদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা আপনাদের কর্মক্ষেত্রে সর্বদা সচেতন থাকবেন। কারন বিএনপি জামায়াত শিবিরের মতাদর্শে বিশ্বাসী অনেকেই আজ আমাদের কর্মস্থলে ভালো ভালো পদে রয়েছেন। এদের কখনো বিশ্বাস করবে না। এরা শুধু যে আপনাদের ক্ষতি করতে পারে তাই নয় এরা বাংলাদেশের শত্রু”।
গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তরায় হামলার সময় পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোঃ নুরুজ্জামান এবং তার স্ত্রী অবস্থান করছিলেন। ঐ রাতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলা অস্ত্র হাতে নিয়ে কি বীভৎস হত্যাকাণ্ড চালালো আমরা খুব কাছে থেকেও বুঝতে পারি নাই। সারা রাত আমরা ঐ এলাকা থেকে বের হতে পারি নাই”।
এরপর প্রতিবাদ সভার বিশেষ অতিথি মাননীয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, “গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি এবং শোলাকিয়ায় যে জঙ্গি হামলা এটিকে আমি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করি না। ঘটনার পেছনেও ঘটনা আছে। ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতির উপর চালানো গণহত্যা, ৭৫ এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, ২০০৪ সালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টায় গ্রেনেড হামলা এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০৯ সাল থেকে আজ অবধি একটি অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য সারা দেশে পেট্রোল বোমা দিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যা এবং সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা এসবই গুলশান এবং শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলার সাথে সম্পৃক্ত। এই অশুভ শক্তি সরকার পতনের চেষ্টায় বারবার ব্যর্থ হয়ে আজ সাধারণ নিরাপরাধ জনগন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বিদেশীদের উপর জঙ্গি হামলা চালাচ্ছে। সারা বিশ্বের কাছে তারা প্রমান করতে চায় বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। তারা ভেবেছিল এমন দু একটি হামলা চালালেই বহির্বিশ্বের চাপে সরকার ক্ষমতা থেকে সরে দাড়াতে বাধ্য হবে কিন্তু তা হয় নি। বরং এসব জঙ্গি হামলা সরকারের সাথে বহির্বিশ্বের সম্পর্ককে আরও সুসংহত হরেছে”।
হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, “আজ সবাই জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন। অনেকে বলছেন বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে তবেই নাকি তাদের সাথে ঐক্য সম্ভব। আমি ঐ দলের না। আমি মনে করি জঙ্গিবাদ লালন পালনকারী দলের সাথে কোন ঐক্য সম্ভব না। জাতির এই ক্রান্তিকালে জনগন তাদের ভুমিকার জন্য পাশ মার্কস পাবেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বলিষ্ঠ ভুমিকার জন্য পাশ মার্কস পাবেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ভুমিকার জন্য পাশ মার্কস পাবেন কিন্তু খালেদা জিয়াই শুধুমাত্র ব্যর্থ হলেন পাশ মার্কস অর্জন করতে”।
এরপর প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সভার সভাপতি অধ্যাপক ডঃ প্রকৌশলী এম হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি প্রকৌশলীরা। দেশে বর্তমানে যে দুটি ন্যাক্কারজনক জঙ্গি হামলা ঘটেছে আমরা প্রকৌশলীরা তার বিরুদ্ধে আজ একসাথে রুখে দাড়াতে সক্ষম হয়েছি। আমরা সক্ষম হয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সারা দিতে”।
তিনি আরও বলেন, “গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলায় নিহত ৭ জাপানী নাগরিকের মধ্যে ৪ জন প্রকৌশলী ছিলেন যারা মেট্রোরেল প্রকল্পে সম্পৃক্ত ছিলেন। ঐ ৪ জনের সাথেই অসংখ্যবার আমার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। তাদের মৃত্যু কোনভাবেই কাম্য নয় কারন তারা শুধুমাত্র বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সাহায্য করার জন্যই এদেশে এসেছিলেন। তাদের মৃত্যুতে আমি মরমাহত”।
প্রতিবাদ সভার প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী প্রকৌশলী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “দেশের সর্বক্ষেত্রে যখন স্থিতিশীলতা বিরাজ করছিল, জনমনে প্রশান্তি বিরাজ করছিল, অর্থনীতির চাকা দ্রুত বেগে ঘুরছিল ঠিক তখনি গুলশানে এবং শোলাকিয়ায় অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে জঙ্গি হামলা চালানো হল। সারা দেশের মানুষ গুলশান হামলার পর জঙ্গিদের নৃশংসতা দেখে হতবিহব্বল হয়ে পড়েছে। কি বীভৎসভাবে ধর্মের নামে কিছু বিপথগামী তরুন এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালালো। একসময় মনে করা হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীই জঙ্গি কার্যক্রমে লিপ্ত কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলা দুটিতে আমরা দেখেছি উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা এই হামলা চালিয়েছে। এতে বোঝা যায় জঙ্গিবাদের ধরন পাল্টেছে”।
তিনি আরও বলেন, “সরকারকে আন্তর্জাতিক মহলে বিব্রত করাই এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এতে বিভ্রান্ত হয় নি বরং তারা আমাদের আরও পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স দেখিয়ে আসছিলেন। এবার তিনি সমূলে এই জঙ্গিবাদের বীজ বাংলাদেশ থেকে উৎপাটন করবেন। আর এতে সবার মত আমরা প্রকৌশলীরাও সামনে থেকে আমাদের ভূমিকা পালন করব”।
এছাড়াও সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আইইবি’র ঢাকা সেন্টারের সম্মানী সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশিদ চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সম্মানী যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার মঞ্জুর মোরশেদ, আইইবি’র সম্মানী সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মঞ্জুরুল মঞ্জু প্রমুখ

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর