৩০ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া যাবে পদ্মা!
৩০ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া যাবে পদ্মা!
২০১৬-০৭-১৯ ২১:৩৮:২৪
প্রিন্টঅ-অ+


স্বপ্নের পদ্মা সেতু ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। এরইমধ্যে মাত্র দুই বছরে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতুর দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ রোড।

মাদারীপুর পাঁচ্চর থেকে শরীয়তপুরের নাওডোবা পর্যন্ত এই সড়কের দৈর্ঘ্য সাড়ে ১০ কিলোমিটারেরও বেশি। এদিকে, মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-রুটে এখনও দীর্ঘ পথ যাত্রীদের পাড়ি দিতে হচ্ছে ফেরি, লঞ্চ, ট্রলার অথবা স্পিডবোটে। তবে কাজ শেষ হওয়া দেখে জনগণের পক্ষ থেকে সড়ক চালু করে দেওয়ার দাবি উঠেছে। এতে নৌ-পথের দূরত্ব ১০ কিলোমিটারেরও বেশি কমে যাবে এবং এই রুটে মাত্র ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে লঞ্চ বা ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিতে পারবেন যাত্রীরা।

বর্তমানে পদ্মা পার হতে সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মতো। আর স্পিডবোটে লাগবে ১০ মিনিটের মত।

আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এই সড়ক চালু করে ১০ কিলোমিটার দূরত্ব কমিয়ে কাওড়াকান্দি থেকে ফেরিঘাট কাঁঠালবাড়িতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে জানা গেছে, মাওয়া বা শিমুলিয়া থেকে কাওড়কান্দি পর্যন্ত নৌ-রুটের দূরত্ব প্রায় ১৭ কিলোমিটার। পদ্মা নদীর মূল অংশ মুন্সীগঞ্জের মাওয়া বা শিমুলিয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার। বাকি প্রায় ১১ কিলোমিটার এই নৌ-রুটের মাদারীপুরের কাওড়কান্দি পর্যন্ত বলতে গেলে পদ্মার শাখা নদী। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগে আরিচা বা পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের বিকল্প হিসেবে ১৯৮৬ সালের দিকে এখানে ফেরি ঘাটটি চালু হয়। শীতে কুয়াশা, বর্ষায় ডুবোচর আর গ্রীষ্মে নাব্যতা সংকটে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয়।

তবে লঞ্চ বা ফেরিতে করে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি অচিরেই ইতিহাস বা স্মৃতি হতে যাচ্ছে। নদী পথে নৌ-যানে চলতে চলতে দীর্ঘ সময় পদ্মার বুকে সারি সারি কাশবন, ফসলের ক্ষেত ও চরের মানুষের বাড়ি-ঘর ও জীবনযাপনের বিভিন্ন দৃশ্য হয়তো আর দেখা যাবে না। তবে জনগণ বাঁচবে দুর্ভোগ থেকে। কারণ পদ্মা সেতুর গোড়ার অংশ অর্থাৎ শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা থেকে মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ১০ কিলোমিটারের বেশি অংশে অ্যাপ্রোচ সড়ক, ৫টি সংযোগ সেতু, ৮টি আন্ডারপাস ও ২০টি কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। কাজ সম্পূর্ণই শেষ। ফিনিশিং বা সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও প্রায় শেষ।

মাদারীপুরে রেন্ট-এ কারের চালক ওবায়দুর রহমান বলেন, পাঁচ্চর থেকে নাওডোবা পর্যন্ত বিশাল রাস্তা হয়ে গেছে। এখন যদি সেখানে সড়ক চালু করে দেওয়া যায় তবে গাড়ি নিয়ে একেবারে পদ্মা নদীর কিনারে যাওয়া সম্ভব। তখন মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ফেরিতে করে গাড়ি নিয়ে এপার-ওপার যেতে পারবো।

স্থানীয় বাখরেরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন জানান, আমাদের এখানে অনেক উঁচু রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। এমনকি আমাদের এক পাশের লোকজনকে অপর পাশে যাওয়ার জন্য রাস্তার নিচ দিয়েও আবার রাস্তা করা হয়েছে। পাঁচটি ব্রিজও আছে। এখন এই রাস্তা চালু করে দিলে মানুষজন সহজেই ঢাকা যেতে পারবে। খুবই কম সময় লাগবে পদ্মা পার হতে। রাস্তার শেষ মাথা যেখানে সেখান থেকে পদ্মা নদী পার হতে অল্প সময় লাগবে।

পদ্মা বহুমুখী প্রকল্পের মাদারীপুর প্রান্তের চিফ সার্ভেয়ার আবুল কালাম হাওলাদার বলেন, পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক চার লেন আকৃতির। এই সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ। এখন চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। এই কাজও প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন যে কোনও সময় ঘোষণা দিয়ে সড়ক চালু করে দিলেই হয়।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন বিশ্বাস জানান, সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এই সড়ক চালু করে ১০ কিলোমিটার পথ কমিয়ে কাওড়াকান্দি থেকে ফেরিঘাট কাঁঠালবাড়িতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব কিছুই ঠিকঠাক। আমাদের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ। শুধুমাত্র সবুজ সংকেত বা নির্দেশনা পেলেই স্থানান্তর করা হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর