সাকা-মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল
সাকা-মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-১৮ ০৮:২৮:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+


মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। দুটি আবেদনই খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। দু’টি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানির পর এই আদেশ দেওয়া হলো।

বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বহুল প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর এ দু’টি তৃতীয় ও চতুর্থ মামলা যার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হলো। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

রায়ের সময় উপস্থিত ছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, শিশির মনিরসহ আরও আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন বেঞ্চের চার বিচারপতি। শুনানি শেষ হলে আদালত আজ আদেশের দিন ধার্য করেন। এদিকে, বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর থেকে শুরু হওয়া সাকা চৌধুরীর আপিল রিভিউ শুনানি সাড়ে ১০টায় শেষ হলে দু’টি মামলারই একসঙ্গে রায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান আদালত।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগের মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানোর হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিলেন। ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে মুজাহিদের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালতে যান। সর্বোচ্চ আদালতও ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন। তবে প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল তাকে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ শুধু ষষ্ঠ অভিযোগে অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন।

২০১০ সালের ২৬ জুন হরতালের আগের রাতে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায়ই সে বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগে গ্রেফতার করা হয় তাকে।
১৯ ডিসেম্বর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। পরে ৩০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে প্রথমবারের মতো সাকা চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ১৭টির পক্ষে সাক্ষী হাজির করেন রাষ্ট্রপক্ষ। এগুলোর মধ্যে মোট ৯টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল ট্রাইব্যুনালের রায়ে। বাকি আটটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ যে ছয়টি অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করেননি সেগুলো থেকেও সাকা চৌধুরীকে খালাস দেওয়া হয়।

প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে চারটিতে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তিনটি অভিযোগের প্রত্যেকটিতে ২০ বছর এবং আরও দু’টি অভিযোগের প্রতিটিতে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছিল তাকে।

এরপর আপিল শুনানির পর এই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর দণ্ড থেকে বাঁচতে মুজাহিদের সামনে খোলা ছিল রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের পথ। তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুনর্বিবেচনা আপিল করার পর মঙ্গলবার ও বুধবার শুনানি শেষে আদালত চূড়ান্ত রায় শোনালেন। ফাঁসি থেকে বাঁচতে তাদের দু’জনের সামনে খোলা থাকলো একটাই রাস্তা তা হলো- রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর