নিষেধাজ্ঞার খড়গে কাশ্মীরের গণমাধ্যম
নিষেধাজ্ঞার খড়গে কাশ্মীরের গণমাধ্যম
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-১৮ ০৪:২৬:৪২
প্রিন্টঅ-অ+




ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ সেখানে চলমান সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, সরকারের মুখপাত্র নাঈম আখতার বলেছেন, ‘উপত্যকায় শান্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনাকাঙ্ক্ষিত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

৮ জুলাই পাকিস্তানের তরুণ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বুরহান ওয়ানি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হন। এরপর কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে নিহত হয় ৪০ জনের বেশি মানুষ। আহত হয় হাজারের বেশি। এরপর থেকেই এ অঞ্চলে কারফিউ জারি আছে।

নিরাপত্তা বাহিনী গত শনিবার কাশ্মীর টাইমস, গ্রেটার কাশ্মীর, কাশ্মীর ইমেজেস এবং রাইজিং কাশ্মীর নামের কয়েকটি সংবাদপত্র কার্যালয়ে অভিযান চালায়। কয়েকটি পত্রিকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ তাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া সংবাদপত্রের দোকান থেকে পত্রিকার কপি নিয়ে গেছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গতকাল পুলিশ স্থানীয় পত্রিকা অফিসে অভিযান চালায় এবং ৫০ হাজার কপি জব্দ করে। এমনকি আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত পত্রিকা প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এমনকি পত্রিকা অফিসের অনেক কর্মীকেও গ্রেপ্তার করেছে। পত্রিকার সম্পাদকেরা সরকারি এই পদক্ষেপকে ‘গণমাধ্যমের গলা চেপে ধরা ও বল প্রয়োগ’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান।

কাশ্মীর রিডার নামের একটি দৈনিক ইংরেজি পত্রিকা আজ রোববার তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, সরকার কাশ্মীরে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রকাশনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাই প্রতিষ্ঠানটি এই সংকটের মুহূর্তে পাঠকদের তাদের সঙ্গে থাকতে অনুরোধ জানায়।

শ্রীনগরভিত্তিক পত্রিকা রাইজিং কাশ্মীরের সম্পাদক সুজাত বুখারি বলেন, সরকারি এক কর্মকর্তা মৌখিকভাবে এ নিষেধাজ্ঞার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের ছাপাখানায় গত শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে অভিযান চালায় পুলিশ।

বুখারি এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘প্রেস ইমার্জেন্সি’ উল্লেখ করে বলেন, ‘২০০৮ এবং ২০১০ সালের সহিংস বিক্ষোভের সময়ও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তখনো কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রিকা প্রকাশ না করতে বলা হলো। সরকার চায় না মানুষ এখানকার পরিস্থিতি জানুক। আমরা অনলাইনে প্রকাশ করব, কিন্তু সেখানেও ইন্টারনেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা।’

উপত্যকার সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা গ্রেটার কাশ্মীরের প্রকাশক রশিদ মাকদোমি বলেন, ‘রাত তখন দুইটা। ছাপাখানায় অভিযান চালানো হয়...পুলিশ আমাদের ছাপা বন্ধ করতে বলল। আমাদের ছাপার কাজে ব্যবহৃত প্লেট নিয়ে নিল। উর্দু ভাষায় প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা উজমার এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কপি ছাপানো হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ আমাদের তিনজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করল এবং ছাপানো কপিগুলো নিয়ে গেল।’ তবে সকালে এসব কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

কেটি প্রেসের মালিক রাজা মহিউদ্দিন বলেন, তাঁর ছাপাখানায়ও অভিযান চালানো হয়েছে। এই ছাপাখানায় প্রায় আটটি পত্রিকা ছাপা হয়। তখন ছাপা হয়ে গেছে, এমন হাজার হাজার কপি ও প্রিন্টিং প্লেট পুলিশ নিয়ে যায়।

লাল চকের হকাররা জানান, পুলিশ তাঁদের পত্রিকা বিলি করতে দেয়নি এবং তাঁদের কাছ থেকে সব কপি নিয়ে যায়।

গতকাল সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা ‘সেন্সরশিপ বন্ধ কর’, ‘আমরা বাক্‌স্বাধীনতা চাই’—এমন বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে শ্রীনগরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর