স্মার্টফোনে মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারে নেতৃত্ব এশিয়ার
স্মার্টফোনে মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারে নেতৃত্ব এশিয়ার
২০১৬-০৭-১৭ ০৩:০৮:১৮
প্রিন্টঅ-অ+


ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ আধিপত্য করছে গোটা বিশ্বে। তবে মেসেজিং অ্যাপ বদলে দিয়েছে পূর্ব এশিয়াসহ পুরো এশিয়াকে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা অন্য অ্যাপ্লিকেশনের চেয়ে বেশি ব্যবহার করেন মেসেজিং অ্যাপ। নেতৃত্বে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও সিঙ্গাপুর। খবর ইকোনমিক টাইমস।

বাজার বিশ্লেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিএফকের সাম্প্রতিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এ তিন দেশের ৮০ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী সপ্তাহে অন্তত একবার মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেন।

জাপানে মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার হয়ে থাকে খুব কম। সপ্তাহের ভিত্তিতে জাপানিদের পাঁচজনের মধ্যে দুজনেরও কম এ অ্যাপ ব্যবহার করেন। জার্মানির গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (এপিএসি) ডিজিটাল মার্কেটিং ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক কার্তিক ভেঙ্কটকৃষ্ণান বলেন, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য টেক্সট ব্যবহার করেন। ফোনে কথা বলেন খুব কম সংখ্যক মানুষ। তাই মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে এ অঞ্চলে বাড়ছে।

মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহার প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার ছাড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে। ব্যবসায়ও গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছে মেসেজিং অ্যাপ। যেমন— চীনে টেনসেন্টের উইচ্যাট, জাপানে লাইন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কাকাওটক। এ মেসেজিং অ্যাপগুলো লক্ষ্যে থাকা নির্দিষ্ট ভাষা অথবা কমিউনিটিভিত্তিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মনোযোগ আকর্ষণে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সুবিধা নেয়। প্রতিযোগিতাও বাড়িয়ে তোলে। মেসেজিং অ্যাপগুলোর সফলতার গণ্ডি এখন পর্যন্ত স্থানীয় বাজারে সীমাবদ্ধ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় উইচ্যাটকে। এ মেসেজিং অ্যাপের রয়েছে ৭০ কোটিরও বেশি চীনা ব্যবহারকারী। এশিয়ার অন্য বাজার দখলের চেষ্টা উইচ্যাট করলেও তা সহজ হবে না। ইউরোপের বাজার দখল করে আছে হোয়াটসঅ্যাপ, উত্তর আমেরিকায় মেসেঞ্জার। এসব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবেলা সহজ হবে না উইচ্যাটের জন্য।

গবেষণা বলছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচ অনলাইন ভোক্তার মধ্যে চারজন স্মার্টফোনের মাধ্যমে দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এ অঞ্চলে স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা ও ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নত হওয়ায় হ্যান্ডসেট ডিভাইসই হয়ে উঠেছে ভোক্তাদের ইন্টারনেট অ্যাকসেসের প্রধান মাধ্যম। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মূল অনলাইন ব্যবহারকারী দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে দৈনিক ৮৩ শতাংশ স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সক্রিয় থাকেন। এতে এগিয়ে আছেন চীনারা। পরের অবস্থান থাই, ইন্দোনেশিয়ান, সিঙ্গাপুরিয়ান ও ভিয়েতনামিজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অন্তত একটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে ভারতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ও ইন্দোনেশিয়ার অর্ধেকেরও বেশি কানেক্টেড কনজিউমারের। এ শীর্ষ দুই বাজারের ভোক্তারা বলছেন, তারা ব্র্যান্ড প্রকাশিত অনলাইন ভিডিও ও বিজ্ঞাপন দেখেন। ই-কমার্স, শপিং অ্যাপের জনপ্রিয়তাও ভারত, ইন্দোনেশিয়ায় বাড়ছে। সপ্তাহে একাধিকবার শপিং অ্যাপ ব্যবহারকারী অনলাইন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভারতীয় ও চীনাদের হার যথাক্রমে ৫৪ ও ৪৮ শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা দুটো দেশ হচ্ছে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো উন্নত বাজারের ভোক্তারা অনলাইন শপিংয়ে সক্রিয় থাকেন পারসোনাল কম্পিউটারে (পিসি)। অনলাইন শপিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ার অন্যতম কারণ মোবাইল পেমেন্ট সিস্টেম। স্মার্টফোনে অর্থ আদান-প্রদানের বিষয়টি নগদ অর্থ পাঠানোর চেয়ে সহজ। আর এটি নিরাপদ বলে মত প্রকাশ করেন ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার যথাক্রমে ৭২ ও ৬০ শতাংশ ব্যবহারকারী।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর