ভবিষ্যতের ভাসমান বিমানবন্দর
ভবিষ্যতের ভাসমান বিমানবন্দর
২০১৬-০৭-১৬ ১৮:১৯:২৬
প্রিন্টঅ-অ+


একবিংশ শতাব্দীকে বলা হচ্ছে প্রাযুক্তিক উৎকর্ষতার সময়। এই উৎকর্ষতার সময়ে প্রতিদিন নিত্য নতুন প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবনযাপন এখন অনেক সহজ থেকে সহজতর হয়ে উঠছে। তাই বলে ঝামেলাও যে শুরু হচ্ছে না তা কিন্তু নয়। বিশেষ করে নগরসভ্যতা কেন্দ্রিক সময়ে স্থান একটি বড় সমস্যা, যেখানে প্রতিনিয়তই বাড়তি জনগোষ্ঠির চাপ সামলাতে হয় নগরগুলোকে। অথচ এই নগরগুলোই হলো একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল স্থান। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই নগরগুলোতে গতি একটি বড় ব্যাপার। আর এই গতির প্রশ্নে সবচেয়ে এগিয়ে বিমান। কিন্তু একটি বিমান হলেইতো আর হয় না, এর জন্য চাই বিমানবন্দর। আর বর্তমান এই স্থান সঙ্কটের সময়ে একটি বিমানবন্দরের জন্য জায়গা বের করা খুব সহজ কাজ নয়।

এই সমস্যা মাথায় রেখে অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা যে কাজ করছেন না তা নয়। কিছু বিজ্ঞানীতো পানির উপর ফ্লিট বানানোর পরিকল্পনাও করে ফেলেছেন। কিন্তু পানির উপরের ফ্লিটেও কিছু ঝামেলা রয়েই যাচ্ছে। বিশেষত হংকং এবং ওসাকা এক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে আছে। তারা সমুদ্রে তৈরি করছে বিশাল বিমানবন্দর। কিন্তু তারপরেও কিছু দ্রষ্টা রয়েই যান, যারা আরও উন্নত ও ভিন্ন কিছু চিন্তা করতে পছন্দ করেন।

বিমানবন্দর শুধু হলেই হচ্ছে না আজকাল। কারণ বিমানেরও রয়েছে রকমফের। সাধারণ প্যাসেঞ্জার বিমানের জন্য এক রকমের বিমানবন্দরের প্রয়োজন হলেও, যুদ্ধ বিমান বা ছোটো বিমান চলাচলের জন্য চাই আবার বিশেষ ধরনের রানওয়ে বা বিমানবন্দর। তাই বর্তমানে চাইলেও একই বিমানবন্দর থেকে সকল ধরনের বিমান উড্ডয়ন সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু একটি শহরে এরকম ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনীতা মাথায় রেখে বিমানবন্দর তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে যদি এমন হয়, প্রয়োজন হলেই বাড়িয়ে নেয়া যাচ্ছে রানওয়ে। কিংবা ধরা যাক, আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় আছে বিমানবন্দর। সেখানে চাইলে নামতে পারছে যেকোনো বিমান। তাহলে কেমন হবে?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা আইসবার্গের উপর রানওয়ে নির্মানের চেষ্টা করেছিলেন। প্রজেক্ট হাবাক্কুক নামের ওই প্রকল্পটি আলোর মুখ না দেখলেও ধারনাটি কিন্তু ঠিকই মানুষের মাথায় রয়ে যায়। ১৯৯৫ সালের দিকে ১৭টি জাপানি কোম্পানি মিলিতভাবে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্মোচন করে। ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাজ হয় জাপান সরকারের সহায়তার জন্য ভাসমান বিমানবন্দর তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করা। যদি এই প্রকল্পের পরিকল্পনা সফল হয় তবে টোকিও উপকূলের কাছাকাছি এই বিমানবন্দর স্থাপন করা হতে পারে। এখন পর্যন্ত বিমান শিল্পের ইতিহাসে জাপানের ‘টোকিও মেগা ফ্লোট’ প্রকল্পটি হলো সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত প্রকল্প।

এই প্রকল্পের অধীনে চার হাজার মিটার লম্বা রানওয়ে তৈরির পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি যাতে চারটি বিমান উড্ডয়ন করতে পারে এমন স্থান রাখার কথা মাথায় রাখা হয়েছে সর্বাগ্রে। তবে সান ডিয়াগোতেও এমনি একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। তারাও একটি ভাসমান বিমানবন্দর তৈরির উদ্দেশ্যে প্রকল্প প্রস্তাব করেছিল। ওশানওয়ার্কস ডেভলপমেন্ট এবং ফ্লোট ইঙ্ক নামের দুটি প্রতিষ্ঠান এই কাজের জন্য নির্ধারিত হয়।

প্রাথমিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ব্যয় করা হয় বিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও এখন পর্যন্ত ওই প্রকল্পের কোনো সফলতার খবর পাওয়া যায়নি। সান ডিয়াগোর ওই প্রকল্পটির স্বপ্ন দেখেছিলেন টেরি ড্রিনকার্ড নামের এক প্রকৌশলী।
ড্রিনকার্ডের পরামর্শক ও প্রকৌশলী কমান্ডার বাড স্ল্যাবার্ট অবশ্য আশাবাদী ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে। তার মতে, কিছু সরকার ইতোমধ্যেই ছোটো ক্ষেত্রে ভাসমান বিমানবন্দরের কথা ভাবছেন। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এনিয়ে কিছু কাজও চলছে।

কিন্তু আমাদের এই অঞ্চলে বিমান ব্যবহারের হার অনেক বেশি। এক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই বিমান বিষয়ে নিত্য নতুন ভাবনার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। আমাদের এই প্রকল্পের আওতায় রানওয়ের পাশাপাশি কিছু দালানও তৈরি করতে হবে, যাতে দক্ষিণ চীন সাগরসহ কিছু নন-ইকোনোমিক জোনকে এর আওতায় আনা সম্ভব হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর