পরিচয় গোপন করে ঝিনাইদহে ছিলো নিবরাস
পরিচয় গোপন করে ঝিনাইদহে ছিলো নিবরাস
২০১৬-০৭-১৫ ০৬:২১:২৪
প্রিন্টঅ-অ+


ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় চিহ্নিত জঙ্গি নিবরাস ইসলাম পরিচয় গোপন করে সাঈদ নামে ঝিনাইদহ শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

ওই বাড়ির মালিক সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট কওছার আলী মোল্লার স্ত্রী বিলকিস নাহার জানান, সোনালীপাড়া মসজিদের ইমাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া বিভাগের ছাত্র রোকনুজ্জামান তাদেরকে এই বাসা ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করেন। নিবরাস ইসলাম ওরফে সাঈদ গত ২৮ জুন পর্যন্ত প্রায় চার মাস ওই ভাড়া বাড়িতে ছিলেন। ওই বাসায় নিবরাসের সঙ্গে আরও ৭/৮ জন যুবক থাকতেন।

তবে নিবরাসকে তিনি সাঈদ নামে জানতেন বলে দাবি করেছেন বিলকিস। গত সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধান দলের কাছে বিলকিস নিবরাস ইসলামের ছবি দেখে তাকে সাঈদ বলে শনাক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিলকিসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুলশান হামলায় সন্দেহভাজন জঙ্গি নিবরাস ইসলামই সাঈদ কি-না জানি না।

কারণ হিসেবে তিনি টেলিভিশন দেখেন না বলে জানান। তবে গত সোমবার ঢাকা থেকে আসা এক টেলিভিশন রিপোর্টার যে ছবি দেখিয়েছেন সেই ছবির সঙ্গে তার বাড়ি ভাড়া নেওয়া সাঈদের চেহারার মিল রয়েছে বলে তিনি জানান।

ঝিনাইদহ শহরের সোনালীপাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় সরকার কেসি বিশ্ববিদালয় কলেজের ছাত্র নওর জামিল বর্ষণ জানান, সাঈদ তাদের পাড়ায় চার মাসের বেশি সময় ভাড়া ছিলেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যলয়ে ভর্তি হবেন বলে তাদের জানিয়েছিলেন। ওই পাড়ায় থাকার সময় সাঈদ তাদের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন।

তিনি জানান, ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের পর তারা তাজ্জব হয়ে যান। তাদের সঙ্গে খেলা করা সেই সাঈদই নিবরাস ইসলাম বলে তারা ছবি দেখে জানতে পারেন।

এদিকে জঙ্গি নিবরাস ইসলামকে সহায়তার অভিযোগে বিলকিসের স্বামী কওছার আলী মোল্লা, দুই ছেলে ঝিনাইদহ কলেজের ছাত্র বিনছার আলী ও নারিকেলবাড়িয়া কলেজের ছাত্র বেনজির আলী এবং হামদহ সোনীপাড়া মসজিদের ইমাম যশোরের ঝিকরগাছার নায়রা গ্রামের রোকনুজ্জামান ও শারশিনা মাদ্রাসার ছাত্র আদর্শপাড়া কচাতলার মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের কিশোর ছেলে হাফেজ আব্দুর রবকে ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় আইন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কয়েকজন ধরে নিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন বিলকিস।

তবে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার শেখ এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এদের কে আটক করেছে, কেন করেছে বলতে পারছি না।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর