জঙ্গি দমনে পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ের উপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জঙ্গি দমনে পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ের উপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-১২ ১৯:০৮:৩১
প্রিন্টঅ-অ+


সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জোরালো অবস্থানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার শিকড় খুঁজে বের করার প্রত্যয় জানিয়েছেন। তিনি গতকাল সোমবার বিকেলে গণভবনে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের সঙ্গে আলোচনায় এ প্রত্যয়ের কথা জানান।
আলোচনাকালে নিশা দেশাই সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে তথ্য বিনিময়ের ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর জানায়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের জানান, নিশা দেশাইও উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত তরুণেরা সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণি থেকে এসেছে এবং তারা রোমাঞ্চপিয়াসী হয়ে পড়েছিল। সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করে সামাজিক এই হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন।
নিশা দেশাই বলেন, ‘আমাদের এটা একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে, আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কারিগরিসহ আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তৈরি আছি।’
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধনী পরিবারের সন্তানেরা গুলশানের সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত। এর পেছনে কারা ছিল, এসব তরুণকে কারা দলে ভিড়িয়েছে, তা আমরা খুঁজে বের করব।’ নিখোঁজ তরুণদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সমস্যার গভীরে না গিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঢালাওভাবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমালোচনা করে থাকে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্র যে বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিতে চাইছে, তা যাচাই-বাছাইয়ের পর কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নেওয়া হবে, সেটি বাংলাদেশ জানাবে। বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তৈরি আছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বেলা তিনটায় সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে নিশা দেশাইয়ের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনার জন্য নিশা দেশাই এসেছেন। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকার জোরালো আশ্বাস দিয়ে গেছেন।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা যে ধরনের সহযোগিতা চাইব, সে ধরনের সহযোগিতা তাঁরা আমাদের করবেন। কী ধরনের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন, তা আমরা মূল্যায়ন করব। তারপর তাঁদের জানাব। যেভাবে আমরা চাইব, সেভাবে তাঁরা সহযোগিতা করবেন।’
নিশা দেশাই সাংবাদিকদের বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির পক্ষে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি সমর্থন জানাতে আমি এখানে এসেছি। প্রধানমন্ত্রীকে (শেখ হাসিনা) ফোন করার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী (জন কেরি) আমাকে এখানে আসতে বলেন, যাতে করে আমরা এই বার্তা দিতে পারি, বিরাট এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি এবং একসঙ্গে কাজ করতে তৈরি আছি। নিহত ও তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাচ্ছি। সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করার ব্যাপারে আমরা দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
নিশা দেশাই জানান, গোয়েন্দা তথ্য, প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র তৈরি আছে।
হলি আর্টিজান বেকারি পরিদর্শন: নিশা দেশাই গতকাল গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের পর ওই রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান। বেলা ১১টার দিকে নিশা দেশাই মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটকে নিয়ে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের রেস্তোরাঁটিতে যান। এ সময় তাঁকে রেস্তোরাঁ ঘুরিয়ে দেখান পুলিশের উপকমিশনার জসিমউদ্দিন।
১ জুলাই গুলশানের এই রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ সময় তারা ১৭ জন বিদেশি, ২ জন বাংলাদেশি ও ১ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিককে হত্যা করে।
দুই উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ: দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নিশা দেশাই। এতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে দুই দেশের সহযোগিতার প্রসঙ্গ প্রাধান্য পায়।
রাতে ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে নৈশভোজ সারেন নিশা। সেখানেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে সকালে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার তিন শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন নিশা দেশাই। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই তিন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের কাছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের বিশ্লেষণ জানতে চান।
সফরের শেষ দিনে নিশা দেশাইয়ের আজ মঙ্গলবার সকালে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সফর শেষে দুপুরে তাঁর শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর