জঙ্গি হামলায় খালেদা ও পাকিস্তান দায়ী: ১৪ দল
জঙ্গি হামলায় খালেদা ও পাকিস্তান দায়ী: ১৪ দল
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-১২ ১৯:০১:২৫
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএসের অস্তিত্ব নেই। গুলশানের রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়ার ঈদগাহ মাঠে জঙ্গি হামলার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও পাকিস্তান দায়ী। ২০১৪-১৫ সালে সারা দেশে পেট্রলবোমায় মানুষ হত্যার ধারাবাহিকতা এই জঙ্গি হামলা। তাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো ঐক্য নয়। প্রতিরোধের মাধ্যমেই এই জঙ্গি হামলার জবাব দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দল আয়োজিত এক সমাবেশে প্রায় সব বক্তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল এটাই।
সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে এই ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সমাবেশ’-এর আয়োজন করা হয়। এতে ১৪ দলের শরিক ছাড়াও সরকারপন্থী বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের অংশগ্রহণ ছিল। এর আগে বেছে বেছে হত্যার প্রতিবাদেও ১৪ দল অনুরূপ কর্মসূচি পালন করে। সেগুলোতেও আইএসের অস্তিত্ব অস্বীকার ও খালেদা জিয়াকে দায়ী করে বক্তৃতা দেওয়া হয়।
সমাবেশ উপলক্ষে শহীদ মিনারের প্রতিটি প্রবেশপথে তিন-চার স্তরের পাহারা বসানো হয়। সমাবেশস্থলের কাছে আর্চওয়ে বসিয়ে প্রত্যেকের শরীর তল্লাশি করা হয়। এরপরও সমাবেশস্থল ও এর আশপাশে বিপুল জনসমাগম হয়। তবে কিছু কিছু নেতা বক্তৃতা দিয়েই চলে যান। তাঁদের অনুসরণ করে স্থান ত্যাগ করেন কর্মীরাও। ফলে শেষের দিকে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায় সমাবেশস্থল।
সমাবেশ থেকে ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ঘোষণা করেন, জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে ২০ জুলাই ঢাকায় অভিভাবক ও ২১ জুলাই নারী সমাবেশ হবে। ২৪ জুলাইয়ের পর বিভিন্ন জেলা সফর করে ১৪ দলের নেতারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে জনমত গঠন করবেন। এ ছাড়া এ মাসের মধ্যেই পাড়া-মহল্লা-গ্রামে জঙ্গিবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে।
মোহাম্মদ নাসিম খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে চান। প্রাক্তন শিবিরকর্মীরা জঙ্গি হয়েছে। এদের সঙ্গে মিলে আপনি ক্ষমতায় যেতে চান।’
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া গুলশানে জঙ্গি হামলার পরদিন বেলা ১টা ২২ মিনিট পর্যন্ত এটাকে রক্তাক্ত অভ্যুত্থান বলে জপেছেন। আইএসপিআর (আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর) সফল অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পর ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। পাকিস্তানি এজেন্ট ও একাত্তরের ঘাতকদের সঙ্গে ঐক্য হতে পারে না। স্বাধীনতা ও প্রগতিশীল শক্তির মধ্যে ঐক্য হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, গুলশান হামলার পর খালেদা জিয়া সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন দেওয়ার দাবি করেন। এর মাধ্যমে তিনি ‘ঘর পোড়ার আগুনে নির্বাচনের আলু পোড়া’ দিতে চেয়েছেন।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, মাদারীপুরে হাতেনাতে ধরা পড়ে জঙ্গি ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়া কৈফিয়ত চেয়েছেন। এ থেকে প্রমাণ হয় তিনি জঙ্গিদের মদদদাতা।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ২০১৪-১৫ সালে যারা আগুন-সন্ত্রাস করেছে, তারাই সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা করছে। তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। তাদের ধ্বংস করা হবে। এর আগে কোনো বিশ্রাম নয়।
সমাবেশে বিএনপি ছেড়ে তৃণমূল বিএনপি গঠন করা নাজমুল হুদা ১৪ দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা খালেদাকে এত গুরুত্ব দেন কেন? আপনারা আপনাদের কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যান। ওনার কিছু করার ক্ষমতা নেই।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
সমাবেশে ১৪ দলের শরিক তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার ও পাকিস্তান দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর