ট্রাকে সিএনজি স্টেশন
ট্রাকে সিএনজি স্টেশন
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-১৭ ১৯:১৪:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে সিএনজি বিক্রি করা হচ্ছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকে একাধিক বিশাল আকারের সিলিন্ডার যুক্ত করে সেখানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস মজুদ করা হয়। এর পর বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সিএনজি বিক্রি করা হয়। সিএনজিচালিত গাড়িগুলো এর গ্রাহক। ট্রাকগুলো যেখানে দাঁড়ায় সেই স্থান সিএনজি ফিলিং স্টেশনে রূপ নেয়। গ্যাস নিতে জড়ো হয় গাড়ি। এক পর্যায়ে যানবাহনের লম্বা সারি হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় যানজটও। এভাবেই প্রতিদিন অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পন্থায় গ্যাস বিক্রি চলছে প্রকাশ্যে।
ট্রাকের উপরে রাখা গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরণ হলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বিপদ! এলাকাভিত্তিক কতিপয় রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গত ছয় মাস ধরে চলছে ওই কাজ। কিন্তু প্রশাসনের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

সরকার সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস বিক্রির নিষেধাজ্ঞা দিলেও এসব ট্রাকে ২৪ ঘণ্টাই গ্যাস বিক্রি হয়।
এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) সুধীর কুমার রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, এসব ভাসমান গ্যাস বিক্রি বন্ধে আমরা অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অ্যাকশানে যাই। তবে এই অভিযোগে গত কয়েক মাসে আমরা ৬/৭টি গাড়িকে জরিমানা করেছি।
তিনি জানান, ট্রাকে সিএনজি বিক্রি অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বিপদ! সিএনজিবাহী ট্রাক যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই তা জব্দ করে থানায় আটক করা যাবে। সম্পূর্ণ বেআইনি প্রক্রিয়ায় কতিপয় দুষ্কৃতকারী ট্রাকে গ্যাস বিক্রি করছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. মকবুল হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ভাসমান গ্যাস বিক্রির কোনোরকম অনুমতি দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিভিন্ন সড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রুবেল দাশ, সেলিম উদ্দিন, পারভেজ, আব্দুর সালাম, বোরহান উদ্দিন, আব্দুর শুক্কুরসহ অনেকে কালের কণ্ঠকে বলেন, সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রতি পয়েন্ট গ্যাস বিক্রি হয় ১ টাকা ২০ পয়সায়। আর ভাসমান ট্রাক ফিলিং স্টেশনে প্রতি পয়েন্ট গ্যাসের মূল্য দ্বিগুণ অর্থাৎ ২ টাকা ৪০ পয়সা।
চালকেরা জানান, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় ২০০ থেকে ২২০ পয়েন্ট গ্যাস মজুদ করা যায়।
তাঁদের মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে হয় বলে দ্বিগুণ দামে এসব সিএনজি বিক্রি হয়।
এছাড়া সারা দেশে সিএনজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস বিক্রি বন্ধ থাকে সরকারি নির্দেশে। অথচ এসব ভাসমান স্টেশনে ২৪ ঘণ্টাই চলে গ্যাস বিক্রি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর