গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল কী, রাওনিচকে বোঝালেন মারে
গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল কী, রাওনিচকে বোঝালেন মারে
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-১১ ০৬:০৮:১৪
প্রিন্টঅ-অ+


গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে এর আগেও খেলেছেন আরও ১০ বার। কিন্তু ১১তম বারে এসেই সম্ভবত প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে ফেবারিট হয়ে খেলতে নেমেছিলেন অ্যান্ডি মারে। উইম্বলডনের ফাইনালে আজ ফেবারিটের মর্যাদাটা কী দুর্দান্তভাবেই না রাখলেন ব্রিটিশ টেনিস তারকা! পুরোটা ম্যাচ সদর্পে খেলে সরাসরি সেটে হারিয়ে দিলেন কানাডার মিলোচ রাওনিচকে। জিতলেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম।
কখনো ফেদেরার, কখনো জোকোভিচের দাপটে আগের দশ ফাইনালে মাত্র দুবার হাসি নিয়ে ফিরতে পেরেছিলেন মারে। কিন্তু এবার জোকোভিচ অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নিয়েছেন তৃতীয় রাউন্ড থেকে, ফেদেরারও সেমিফাইনালে হেরে গেছেন রাওনিচের কাছে। এতেই কি বুকের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো জেঁকে বসা চাপটা সরে গেল মারের? দুর্দান্ত সার্ভিস, তার চেয়েও ভালো রিটার্নের প্রদর্শনী দেখিয়ে ম্যাচটা জিতলেন ৬-৪,৭-৬ (৭-৩),৭-৬ (৭-২) গেমে।
অল ইংল্যান্ড ক্লাব ঠিক ধ্রুপদি টেনিস দেখেছে, বলা যাবে না। ম্যাচটা বরং ছিল দুই প্রজন্মের দুই টেনিস তারকার জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষার লড়াই। ২৯ বছর বয়সী মারের জন্য উপলক্ষটা ছিল ক্যারিয়ারের প্রত্যাশা-প্রাপ্তির ব্যবধান কিছুটা ঘোচানো। রাওনিচের জন্য আরও অনেক বেশি কিছু। এই প্রথম যেকোনো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে ওঠা র‍্যাঙ্কিংয়ের সাতে থাকা কানাডিয়ানের। কিন্তু উপলক্ষটা প্রেরণার বদলে হয়তো উল্টো চাপ হয়েই এল রাওনিচের কাছে। না হলে যে দুর্দান্ত টেনিস তিনি সেমিফাইনালে খেলেছিলেন ফেদেরারের বিপক্ষে, সেটি আজ কেন উধাও হয়ে যাবে? মারে যেন আজ উল্টো রাওনিচকে বুঝিয়ে দিলেন, গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল কী বিষম চাপ!
প্রথম সেট জিততে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি দ্বিতীয় বাছাই মারেকে। নিজেদের প্রথম তিন গেম দুজনই জিতেছেন। কিন্তু চতুর্থ সেটে এসে রাওনিচের সার্ভিস ভেঙে দেন মারে। সেটিই গড়ে দেয় ব্যবধান। রাওনিচ নিজের পঞ্চম গেম জেতেন বটে, কিন্তু মারেও নিজের সার্ভিসের গেম দুটি জেতায় শেষ পর্যন্ত ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-৪।
দ্বিতীয় সেটে অবশ্য বেশ ভালোই লড়েছেন রাওনিচ। নিজেদের গেম দুজনই জেতায় শেষ পর্যন্ত ৬-৬ সমতায় চলে যায় গেম, গড়ায় টাইব্রেকারে। অবশ্য এর আগে সপ্তম ও নবম গেমে দুবার রাওনিচের সার্ভিস ভাঙার খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন মারে। রাওনিচ তখনো ভেঙে পড়েননি, তবে টাইব্রেকারে গিয়ে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। বেশ সহজেই মারে জেতেন ৭-৩ ব্যবধানে।
পরপর দুই সেট হেরে কিছুটা কি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন রাওনিচ? বিরতিতে কাগজে লেখা কিছু একটা পড়ে নিয়েছিলেন। হয়তো নিজেকে উদ্বুদ্ধ করার মন্ত্র। কিন্তু তৃতীয় সেটের গল্পটাও হলো দ্বিতীয় সেটের মতো। ৬-৬ গেমে সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারে রাওনিচের অসহায় আত্মসমর্পণ। এবার মারের জয় ৭-২ ব্যবধানে।
রাওনিচের প্রথম শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে অল ইংল্যান্ড ক্লাবে কাল ব্রিটিশদেরই উৎসবে ভাসালেন মারে। সূত্র : স্টার স্পোর্টস।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ক্রীড়া এর অারো খবর