উত্তাল কাশ্মীরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭
উত্তাল কাশ্মীরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-১১ ০৬:০৪:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+




কাশ্মীরি জঙ্গিদের ‘পোস্টার বয়’ বুরহান মুজাফফর ওয়ানির দাফনকে কেন্দ্র করে সেখানে এখনো সংঘর্ষ চলছে। অশান্ত এ উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছে। উত্তেজিত জনতা ওই পুলিশ সদস্যকে বহনকারী গাড়িটি পাশের ঝিলাম নদীতে ছুড়ে ফেলে।

এদিকে গোটা উপত্যকায় কারফিউ জারি রয়েছে। বেশির ভাগ এলাকাতেই মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের অমরনাথ যাত্রাও স্থগিত রাখা হয়। তবে একটি সূত্র অমরনাথ যাত্রার ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, আজ সকালে পুলওয়ামার নিওয়া এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় ইরফান আহমাদ মালিক নামে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ আহত হন। আহত অবস্থায় তাঁকে নিকটবর্তী এসএমএইচএস হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তিনি মারা যান। অন্যদিকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে এএফপিকে বলেন, উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে পুলওয়ামা এলাকায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়। আর গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার রাতে বিভিন্ন হাসপাতালে ছয়জন মারা যায়।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করছেন। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। গতকাল শনিবার তিনি তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেন, ‘মূল্যবান কতগুলো জীবন ঝরে যাওয়ার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বিগ্ন।’

এদিকে মেহবুবা মুফতি এসব মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের কারণে এতগুলো মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে। অনেকে আহত হচ্ছেন। যেকোনো মূল্যে এটি এড়িয়ে যেতে হবে।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভেঙ্কইয়া নাইডু বলেন, ‘আমরা খুবই অবাক হচ্ছি, কতিপয় লোক তথাকথিত এসব বিক্ষোভকারীকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করছে; যারা এই সন্ত্রাসীদের জন্য সহানুভূতি দেখাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বুরহানও ওয়ানি একজন হিজবুল কমান্ডার। কীভাবে এ ধরনের লোকের প্রতি একজন ভারতীয় ব্যক্তির সহানুভূতি থাকতে পারে? সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের কার্যক্রম সহ্য করবে না।’

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ্মীরের অধিকাংশ এলাকাতেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণের পুলওয়ামা, অনন্তনাগ ও কুলগাম জেলায় বিক্ষোভের মাত্রা বেশি। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ৯৬ জন নিরাপত্তাকর্মীসহ ২০০ জনের বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় তিনটি থানা, বেসামরিক প্রশাসনের তিনটি কার্যালয়, এক পিডিপি বিধায়কের বাড়ি, বিজেপির একটি স্থানীয় কার্যালয় ও বেশ কয়েকটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়।

এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো আজও কাশ্মীর উপত্যকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কারফিউ অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের ডাকা হরতালে কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি ও মিরওয়াইজ ওমর ফারুক গৃহবন্দী রয়েছেন। একইভাবে সতর্কতা মূলকভাবে আটক করা হয়েছে মোহাম্মদ ইয়াসিন মালিককে।

বছর দু-এক ধরে বুরহান ওয়ানি কাশ্মীরি জঙ্গিদের মুখচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। দক্ষিণ কাশ্মীরের ট্রাল এলাকার ২২ বছরের এই সুদর্শন যুবক হয়ে ওঠেন হিজবুল মুজাহিদীনের স্বঘোষিত কমান্ডার। শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দক্ষিণ কাশ্মীরের কোকরনাগ এলাকায় হানা দেয়। দুই সঙ্গীসহ বুরহান এই হানায় নিহত হন।
গতকাল বুরহান ও তাঁর সঙ্গীদের দাফন সম্পন্ন হয়। গোলমালের আশঙ্কায় রাজ্য প্রশাসন আগে থেকেই উপত্যকায় কারফিউ জারি করেছিল।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর