কল ড্রপে মিনিট নয়, টাকা ফেরত দিতে হবে
কল ড্রপে মিনিট নয়, টাকা ফেরত দিতে হবে
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-১৭ ১৯:১০:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+


কল ড্রপ নিয়ে দেশের সেলফোন গ্রাহকদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। আর কল ড্রপের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কল মিনিট ফেরত দেয়ার অফারও চালু করে শীর্ষ অপারেটরগুলো। তবে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মিনিট নয়, বরং অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হবে বলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সেলফোন অপারেটরদের সেবার মান পর্যবেক্ষণ ও গ্রাহকরা প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে কিনা, তা জানতে আগস্টে দেশব্যাপী জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। দেশের ১৫টি জেলাকে তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত করে এ জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে কমিশন।

এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বণিক বার্তাকে বলেন, কল ড্রপ নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে কল ড্রপ কমিয়ে আনার বিষয়ে সেলফোন অপারেটরদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অপারেটররাও কল ড্রপে মিনিট ফেরত দেয়ার অফার চালু করেছিল। তবে কল ড্রপের কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত তিনটি কারণে কল ড্রপ হতে পারে। প্রথমত. কোনো নির্দিষ্ট স্থানে যদি সেলফোন টাওয়ারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকে। দ্বিতীয়ত. কোনো টাওয়ারের আওতায় যদি ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত গ্রাহকের চাপ তৈরি হয়। তৃতীয়ত. প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে যদি টাওয়ার ডাউন থাকে। এছাড়া লোডশেডিং ও অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ বিচ্ছিন্নতাসহ অন্যান্য সমস্যার কারণেও কল ড্রপ হতে পারে।

গত প্রায় দেড় দশকে টেলিযোগাযোগ সেবার ব্যাপ্তির পাশাপাশি এর মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগও বেড়েছে। মূলত নেটওয়ার্ক বিছিন্নতা, নিম্নমানের ভয়েস সেবা, এসএমএস আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, কল ড্রপ ও অতিরিক্ত বিল আদায়সহ অপারেটরদের সেবার বিষয়ে আরো বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকের।

টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিশ্চিত করতে গত বছরের জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা জারি করে বিটিআরসি। ভয়েস কল, এসএমএস ও ইন্টারনেট সেবার পাশাপাশি গ্রাহকদের অভিযোগ ব্যবস্থাপনার মানও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা মানদণ্ড অনুযায়ী ১৩টি বিষয়ে অপারেটরদের সেবার মান নির্ধারিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভয়েস কল করা ও গ্রহণ এবং এসএমএস আদান-প্রদানে সাফল্যের হার, ইন্টারনেট সেবার গতি ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বেঁধে দেয়া মানদণ্ড অনুযায়ী সেবা দিতে হবে অপারেটরদের। এটি নিশ্চিত করতে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে বিটিআরসি। এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বেশকিছু তথ্য নির্দিষ্ট মেয়াদে সংরক্ষণে অপারেটরদের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ভয়েস ও ডাটাভিত্তিক সেবার মান পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় আরো যন্ত্রপাতি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। জানা গেছে, সেবার মান পর্যবেক্ষণে বহনযোগ্য বা স্থায়ী পর্যবেক্ষণ যন্ত্রপাতি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকছে টুজি, থ্রিজি, এলটিই, ওয়াইম্যাক্স, সিডিএমএ সেবা। এতে ভয়েস কল, এসএমএস ও ইন্টারনেট সেবার পাশাপাশি গ্রাহকদের অভিযোগ ব্যবস্থাপনার মানও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আসবে।

সেলফোন অপারেটরদের জন্য সেবার মানদণ্ড নির্দিষ্ট করতে ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য রেগুলেটরি ক্যাপাসিটি অব বিটিআরসি’ শীর্ষক এক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প শেষে দেয়া প্রতিবেদনে কল ড্রপ হার, এসএমএস সেবা প্রক্রিয়া সম্পন্নের হার, বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশনের (বিটিএস) কার্যক্রম বন্ধ থাকার হার ও ব্লক কলের হারসহ আরো বেশ কয়েকটি বিষয়ে মানদণ্ড নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কিউওএসের মানদণ্ড নির্ধারণ, অপারেটরদের তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরা ও সেবার মান নিশ্চিত করা বিটিআরসির দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে গ্রাহক সহজে পছন্দ অনুযায়ী অপারেটরের সেবা গ্রহণ করতে পারবে। পাশাপাশি এতে অপারেটরদের মধ্যেও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়টিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে। এসব দেশে এ-সংশ্লিষ্ট নীতিমালাও রয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিচ্ছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (টিআরএআই)। নীতিমালা অনুযায়ী সেবার মান নিশ্চিত হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণে কিউওএস নিরীক্ষা চালু রয়েছে দেশটিতে। প্রতি প্রান্তিকে এ খাতে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ ও মান নিশ্চিতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় সংস্থাটি। ড্রাইভ টেস্ট সরঞ্জামের মাধ্যমে অপারেটরদের সেবার মান পর্যবেক্ষণ করা হয়। সম্প্রতি দেশটিতে কল ড্রপের হার বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কল প্রতি ১ রুপি করে দিতে অপারেটরদের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিআরএআই।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর