ক্যামেরনের উত্তরসূরি হবার দৌড়ে এগিয়ে আছেন তেরেসা
ক্যামেরনের উত্তরসূরি হবার দৌড়ে এগিয়ে আছেন তেরেসা
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-০৬ ২০:৪৫:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+


যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের উত্তরসূরি হওয়ার পথে বেশ এগিয়ে আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে। গতকাল মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের নেতা নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটাভুটিতে নিজ দলের ১৬৫ জন এমপির ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকার পক্ষে (রিমেইন) প্রচার চালানো তেরেসা মে প্রতিদ্বন্দ্বী বাকি চার প্রার্থীর চেয়ে বেশ বড় ব্যবধানেই এগিয়ে আছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যান্ড্রিয়া লিডসন পেয়েছেন ৬৬ ভোট। অ্যান্ড্রিয়া ইইউ ছাড়ার পক্ষের প্রচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ইইউ বিরোধী শিবিরের আরেক অন্যতম নেতা বিচারবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল গোভ ৪৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।

বাকি দুই প্রার্থীর মধ্যে সাবেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী লিয়াম ফক্স সর্বনিম্ন ১৬ ভোট পেয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েন। আরেক প্রার্থী কর্ম ও পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ক্র্যাব পেয়েছেন ৩৪ ভোট। চতুর্থস্থান অধিকারী হিসেবে দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি স্বেচ্ছায় প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। লিয়াম ফক্স ইইউ ত্যাগের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। অন্যদিকে স্টিফেন ক্র্যাব ছিলেন ইইউতে থাকার পক্ষে। তবে এই দুই প্রার্থীই তেরেসা মে’র প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। এদের সমর্থনের ফলে নেতা নির্বাচিত হওয়ার পথে তেরেসা মে’র অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাজ্যের থাকা না থাকা প্রশ্নে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়া ক্ষমতাসীন দলের ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নের জন্য তুলনামূলক যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন তেরেসা মে। গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ওই গণভোটে ইইউ ত্যাগের পক্ষে রায় দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। ফলে তিনি গণভোটের পরাজয় মেনে নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ কারণেই ক্ষমতাসীন দলে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই নতুন নেতাই আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবেন।

কনজারভেটিভ দলের নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দুজন এমপির সমর্থন লাগে। এরপর ‍দুটি ধাপে সম্পন্ন হয় এই নির্বাচন প্রক্রিয়া।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এক বৃহস্পতিবার থাকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। যেমন, এবার মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল গত বৃহস্পতিবার। এরপরের মঙ্গলবার দলীয় এমপিরা প্রার্থীদের ভোট দেন। সর্বনিম্ন ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন। এভাবে এমপিদের ভোটাভুটিতে প্রার্থী সংখ্যা দুজনে নামিয়ে আনা হয়। প্রার্থী সংখ্যা দুজনে নেমে না আসা পর্যন্ত এমপিরা প্রতি মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ভোট দিতে থাকেন।

এরপর দলের সদস্যরা ওই দুই প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে নেতা হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে সদস্যরা ভোট দেন। প্রায় দুই মাস ধরে চলে এই ভোটগ্রহণ। এ সময়ে দুই প্রার্থী সদস্যদের ভোট ভাগাতে প্রচার ও বিতর্কে অংশ নেন। ‘১৯২২ কমিটি’ নামে পরিচিত কনজারভেটিভ দলের স্থায়ী কমিটির প্রেসিডেন্ট এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এবার প্রথম ধাপের ভোটাভুটিতে প্রার্থী সংখ্যা তিনজনে নেমে আসায় আগামী বৃহস্পতিবারের ভোটাভুটির পর ঠিক হয়ে যাবে কোন দুজন যাচ্ছেন চূড়ান্ত ধাপে। যেখানে কনজারভেটিভ দলের প্রায় দেড় লাখ সদস্য ভোট দিয়ে তাদের পরবর্তী নেতা নির্বাচন করবেন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর জানা যাবে কে হচ্ছেন ক্যামেরনের উত্তরসূরি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর