আইইবিতে এস এন্ড ডব্লিউ কমিটির ২৩৪তম বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
আইইবিতে এস এন্ড ডব্লিউ কমিটির ২৩৪তম বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-০১ ০৫:৪৩:০৪
প্রিন্টঅ-অ+



আইইবি’র কাউন্সিল হলে গতকাল বৃহস্পতিবার ৩০ জুন, ২০১৬ খ্রি. বিকাল ৪ টায় সার্ভিসেস এন্ড ওয়েলফেয়ার(এস এন্ড ডব্লিউ) পূর্ণাঙ্গ কমিটির ২৩৪তম বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এস এন্ড ডব্লিউ কমিটির সম্মানী চেয়ারম্যান, সদস্য সচিবসহ কমিটির সাধারণ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী মোঃ আতাউল মাহমুদ।
সভার আলোচ্যবিষয় সমূহ ছিলঃ
১। এস এন্ড ডব্লিউ পূর্ণাঙ্গ কমিটির ২৩৩তম সভার কার্যবিবরণী নিশ্চিতকরণ;
২। বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থায় বিরাজমান সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা;
৩। বিবিধ।

প্রথমেই এস এন্ড ডব্লিউ কমিটির প্রথম আলোচ্যবিষয় ২৩৩তম সভার কার্যবিবরণী নিশ্চিতকরন সম্বন্ধে বক্তারা আলোচনা করেন। ২৩৩তম সভার অন্যতম আলোচ্যবিষয় ছিল ৬৮তম ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’র সফল উদযাপন। বক্তাদের বক্তব্যে এটি স্পষ্টভাবেই উঠে আসে যে এবারের ইঞ্জিনিয়ার্স ডে আইইবি’র নেতৃবৃন্দ হতে সাধারণ সদস্য সকলের ব্যাপক আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের ফলশ্রুতিতে অত্যন্ত সফলতার সাথে আয়োজন করা গিয়েছে। আর মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সকলের এই পরিশ্রমকে সার্থক করার পাশাপাশি আইইবি’র ভাবমূর্তিও অনেক ইতিবাচকভাবে সমগ্র দেশের সামনে উপস্থাপন করেছে।

এরপর বক্তারা ২৩৪তম সভার ২য় আলোচ্যবিষয়-বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থায় বিরাজমান সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগে শুন্যপদ পূরণে অনীহা, বিভাগীয় প্রধানদের উদাসীনতায় প্রকৌশলীদের পদন্নোতি আটকে থাকা, ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার প্রকৌশলীদের মধ্যে বেতন বৈষম্য, কতিপয় বিভাগের প্রকৌশলীদের মধ্যে যথাযথ ঐক্যের অভাব(যা বিভিন্ন দাবিদাওয়া আদায়ে অন্যতম প্রতিবন্ধক), বিভিন্ন বিভাগের সমিতিগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতাসহ বিবিধ সমস্যা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়।
“চারজন সচিবের নেতৃত্বে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল গত এপ্রিল মাসে। আজ জুন মাসের শেষদিন অথচ সেই প্রতিবেদনের কোন হদিস নেই। এতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয় যে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্য দূর করার স্বদিচ্ছা তাদের আদৌ রয়েছে কি না” এমনই অভিযোগ করেন প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন।
প্রকৌশলী নুরুন্নবি প্রধান বলেন, “আমার কাছে এটা অনেকটা ‘শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেয়া’র মতই মনে হয়। আমাদের সমস্যা কিংবা বৈষম্য আমাদের চেয়ে ভালভাবে উপলব্ধি কেউ করতে পারবে না। তাই সমন্বয় কমিটিতে আমাদের ভূমিকাটাই মুখ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের সেই কমিটিতে কোন ভূমিকাই নেই। সচিব মহোদয়রা আমাদের আমাদের চলমান বৈষম্য নিয়ে মাথা ঘামান না। তাই, আমাদের উচিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মত কঠোর আন্দোলনে যাওয়া। তারা সচিব মন্ত্রী কারো অধস্তন না থাকার জন্য যে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তারই ফলশ্রুতিতে তারা আজ সুপার গ্রেড অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের ঐক্যের অভাবে আমরা পারি নি সে রকম একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে”।
সভায় সকলের সমস্যা ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সভার কমিটির সদস্য সচিব এবং আইইবি’র সম্মানী সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সবুর। তিনি বিভিন্ন বিভাগে শুন্য পদ পূরণ সম্বন্ধে বলেন, “ইতোমধ্যেই আমরা বিভিন্ন বিভাগের শুন্যপদ পূরণের ব্যাপারে যথাযথ কতৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। তারপরও যদি সেটি পূরণ না হয় আপনারা আমাদের জানাবেন। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব”।
পদোন্নতি সমস্যা সম্বন্ধে মোঃ সবুর বলেন, “পদোন্নতি স্ব স্ব বিভাগের আওতাধীন বিষয়। আমরা যারা বিভিন্ন বিভাগের প্রধান হিসেবে আছি তাদের প্রতি আমার আহ্বান যে আপনারা এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন”।
এছাড়াও তিনি বিভিন্ন দাবিদাওয়া আদায়ে প্রকৌশলী সমাজের মধ্যে ঐক্যহীনতা দেখা যায় তা দূরীকরণে আরও সচেষ্ট হবার আহ্বান জানান।


ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর