আইসল্যান্ড রূপকথা
আইসল্যান্ড রূপকথা
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৬-২৯ ২১:১২:১৩
প্রিন্টঅ-অ+


ম্যাচের আগে আইসল্যান্ড মিডফিল্ডার বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কিন্তু উদ্‌যাপন তাঁরা করবেন ইংল্যান্ডকে হারানোর পর। কাজটা তো করেই ফেলেছেন বিনারসনরা, ইউরোর শেষ ষোলোতে আজ ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে উঠে গেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। যেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

কত সহজে বলা হয়ে গেল! আইসল্যান্ড যা করেছে, সেটি তো রীতিমতো অবিশ্বাস্য! ছোট্ট একটি দ্বীপদেশ, এবারই প্রথম ফুটবলের বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে তারা। গ্রুপে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র, অস্ট্রিয়ার সঙ্গে জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে আসা। এসেই বিদায় করে দিল ইংলিশদেরও। সেই ইংল্যান্ড, যাদের ফুটবলকেই ধ্রুবতারা মেনে চলে আইসল্যান্ডের ফুটবল। সেই ইংল্যান্ড, যাদের এক লেস্টার শহরেই বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা আইসল্যান্ডের পুরো দেশের জনসংখ্যার সমান। ইউরোর ইতিহাসে তো বটেই, ফুটবলের ইতিহাসেই কি আর এমন কীর্তি খুব বেশি আছে?

জয়টাও কী দুর্দান্ত! পুরো ম্যাচে ইংল্যান্ড আধিপত্য ধরে রেখেছে ঠিকই। কিন্তু আইসল্যান্ড তাতে দমে না গিয়ে প্রতি–আক্রমণে উল্টো হুংকার ছড়াচ্ছিল। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইংল্যান্ডের জন্য ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ৪ মিনিটেই ড্যানিয়েল স্টারিজের দুর্দান্ত পাস ভেসে আসে বক্সে ঢোকা রাহিম স্টার্লিংয়ের কাছে। তরুণ উইঙ্গারকে বাধা দিতে গিয়ে উলটো বক্সে ফেলে দেন আইসল্যান্ড গোলকিপার । পেনাল্টি থেকে ইংলিশদের এগিয়ে নেন ওয়েইন রুনি।

কিন্তু এগিয়ে থাকতে পারল মাত্র ৯০ সেকেন্ড। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই চমক জাগিয়ে যাওয়া গুনারসনের লম্বা থ্রো-ইনই কাল হলো ইংল্যান্ডের জন্য। ডান প্রান্ত থেকে ইংল্যান্ড বক্সে ভেসে আসা বলটিকে ফ্লিক করে সামনে বাড়িয়ে দেন আরনাসন, পোস্ট থেকে ৪-৫ গজ দূরে থাকা ডিফেন্ডার রাগনার সিগুর্ডসন সেটিকে জড়িয়ে দেন জালে।

ওই গোলের ১২ মিনিট পরই আবারও আইসল্যান্ডের গোল! এবারেরটি ইংলিশ ডিফেন্সের বুক চিরে। মাঝমাঠ থেকে ৬-৭ পাসে ইংল্যান্ডের বক্সের সামনে বল নিয়ে আসে আইসল্যান্ড। নিজেদের মধ্যে পাস খেলেই বক্সের ঠিক প্রান্তে ফাঁকায় বল পেয়ে যান আইসল্যান্ড স্ট্রাইকার কোলবেইন সিগথরসন। তাঁর শট জালে জড়িয়েছে ঠিকই, তবে তাতে জো হার্টের দায়ও কম নয়। অন্য সময় দশবারের মধ্যে দশবারই যে শট সহজে ফিরিয়ে দিতে পারার কথা হার্টের, আজ সিগথরসনের তেমনই নিরীহ-দর্শন শট হার্টকে ফাঁকি দিয়ে জড়িয়ে গেল জালে।

প্রথমার্ধে এরপর পুরো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। ২৮ মিনিটে হ্যারি কেনের ভলি কিংবা ৪৩ মিনিটে স্টারিজের ক্রস-শটগুলো আইসল্যান্ড গোলকিপার দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই অবস্থা। বল দখল ইংল্যান্ডের বেশি ছিল, দাপটও। কিন্তু চারজনের দুটি সমান্তরাল লাইনে গড়া আইসল্যান্ডের রক্ষণকে আর ফাঁকি দিতে পারলেন আলী-কেনরা। বরং প্রতি–আক্রমণে বেশ কয়েকবারই ইংল্যান্ডকে ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিল আইসল্যান্ড। সে সময় অবশ্য হার্ট বাধা হয়ে না দাঁড়ালে হয়তো ইংল্যান্ডকে আরও বড় পরাজয়ের লজ্জাই পেতে হতো।

ম্যাচ চলার সময়েই টুইটারে ইংলিশ কোচ রয় হজসনের কৌশলের সমালোচনা করছিলেন অনেকে। গ্রুপ পর্বে দলের রক্ষণ ও আক্রমণে ভারসাম্য রেখে চলা অ্যাডাম লালানাকে না খেলানো, কিংবা জেমি ভার্ডিকে এত পরে নামানোর জন্য সমর্থকদের তোপের মুখেই পড়তে হচ্ছিল ইংলিশ কোচকে। ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরও আরও সমালোচনা হতো, কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে ম্যাচের পরপরই পদত্যাগ করেছেন হজসন। যেন ম্যাচের আগেই তাঁর পদত্যাগপত্র তৈরি করাই ছিল।

কিন্তু এই দিনটি হজসন বা ইংল্যান্ডের বিদায়ের নয়। এটি শুধু আইসল্যান্ডের জন্যই বরাদ্দ থাক। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলের খেলোয়াড়দের মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ‘লেস্টার রূপকথা’ থেকে প্রেরণা নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার কথা। লেস্টারের মতো টুর্নামেন্টের পুরো পথ পাড়ি দিতে পারবেন কি না, সেটি সময় বলবে। তা না হলেই বা ক্ষতি কী! সিগুর্ডসন-গুডিয়েনসনরা যে কীর্তি গড়েছেন, তাতে ফুটবলের ‘আইসল্যান্ড রূপকথা’ও তো অনেক অনেক দিন রোমাঞ্চ ছড়াবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ক্রীড়া এর অারো খবর