স্মার্টফোন ব্যবহারে বলিরেখার ভয়
স্মার্টফোন ব্যবহারে বলিরেখার ভয়
২০১৬-০৬-২৯ ২০:২১:৩২
প্রিন্টঅ-অ+


দীর্ঘ সময় ধরে একটানা হাতেধরা ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহারকারীদের মুখে বলিরেখা আর ঘাড় ব্যাথায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেশি।

মোবাইল ফোন আর ট্যাবলেটসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট অতিরিক্ত ব্যবহারে ‘টেক নেক’ হতে পারে, যা বুড়ো হওয়ার প্রথম লক্ষণগুলোর দিকে নিয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেদের সঙ্গে চামড়া ঝুলে পড়া, চোয়ালের হাড় নেমে যাওয়া, কণ্ঠাস্থিতে ভাঁজ পড়া, গভীর ভাবে মুখের সৌন্দর্যকে প্রভাবিত করে ভ্রূকুটি দাগ পড়া, চোখের নিচে ফুলে যাওয়া, গলায় আনুভূমিক দাগ হওয়া- এমন সব প্রভাব ‘টেক নেক’-এর কারণে পড়ে থাকে, জানিয়েছে আইএএনএস।

“যারা হাতে ধরা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার সময় অনেক সময় ধরে ঝুঁকে বসে থাকেন, তাদের বলিরেখা হওয়ার আশংকা বেশি। মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানোর সময়কার ঝুঁকে থাকার স্থিতি মাথাব্যথা, অবশতা, উর্ধ্ববাহুতে টান লাগা আর হাত, বাহু, কনুই ও কব্জিতে ব্যথা ছাড়াও ঘাড়, পিঠ আর কাঁধের ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে,” —মুম্বাই-এর ফর্টিস হসপিটাল-এর কসমিক সার্জন ভিনোদ ভিজ বলেন।

ইন্টারনেট এবং মোবাইল এসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (আইএএমএআই) -এর করা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে সেদেশের মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৭ কোটি ১০ লাখে পৌঁছে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশই ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সামনের দিকে ঝুঁকে থাকা অস্থিসারদেহের ভঙ্গিগত পরিবর্তনসহ সার্ভিকাল মেরুদণ্ড, কার্ভ, লিগামেন্ট, রগ আর পেশীতে পরিবর্তন ঘটায়।

ভারতের কসমেটিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ কসমেটিক সার্জন মোহান থমাস বলেন, “যেহুতু মানুষ তাদের ঘাড়ের হাড় আর চামড়ায় কী ক্ষতি করছে উপলব্ধি করতে পারে না, প্রযুক্তি আবিষ্ট মানুষদের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট অতিরিক্ত ব্যবহার না করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

তিনি জানান, স্মার্টফোন অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ঘাড়ের পেশী সংকুচিত হয়ে আসতে পারে।

ঘাড়ের পেশী সংকোচন ছাড়াও এটা চামড়ায় ‘মহাকর্ষীয় টান’ বৃদ্ধি করে। অবশেষে, ফলাফল চামড়া ঝুলে যায়, ডাবল চিবুক, ম্যারিওনেট দাগ আর চোয়াল ঝুলে যাওয়া হয়। এসব লক্ষণকে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় তিনি এক সঙ্গে ‘স্মার্টফোন ফেইস’ নাম দিয়েছেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর