নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং ঘাটতি রোধে বিদ্যুৎ খাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে : নসরুল হামিদ
নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং ঘাটতি রোধে বিদ্যুৎ খাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে : নসরুল হামিদ
২০১৬-০৬-২৭ ২০:৪৬:১২
প্রিন্টঅ-অ+


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধ করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণখাতে এ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়াও মোট সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ ২০২১ সালের মধ্যে ১৯ হাজার সার্কিট কিলোমিটার এ উন্নীত করার পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল অবিদ্যুৎতায়িত গ্রামগুলো পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানোর লক্ষ্যে আরো ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধে ও অবৈধ সংযোগ বন্ধে মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিম্নলিখিত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্কার কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনানুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার লক্ষ্যে সংস্থা ও কোম্পানিসমূহ কর্তৃক এপিএ (এনুয়াল পারফরমেন্স এগ্রিমেন্ট) কেপিআই বাস্তবায়ন করা, অবৈধ সংযোগ বন্ধের লক্ষ্যে সংস্থা ও কোম্পানিসমূহ কর্তৃক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

নসরুল হামিদ বলেন, জনসাধারণের মাঝে বিদ্যুতের অপচয় রোধ অথবা বিদ্যুৎ চুরি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা এবং লিফট লেট বিতরণ, মোটিভেশনের মাধ্যমে গ্রাহক উদ্বুদ্ধকরণ সভা পরিচালনা করা এবং সতর্ক বার্তা প্রচার অব্যাহত রাখা, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা, অপরাধ বিবেচনা করে আর্থিক জরিমানা অথবা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এনালগ মিটার পরিবর্তন করে ডিজিটাল ও প্রি-প্রেমেন্ট মিটার স্থাপন, গ্রাহকের জন্য অনলাইন সিস্টেমের অটোমেটিক মিটার রিডিং (এএমআর) ব্যবস্থা প্রবর্তন, পুরাতন জরাজীর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন মেরামত ও পরিবর্তন করা হচ্ছে।

তিনি আজ সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের ফলে প্রতি ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ৬ টাকা ২৭ পয়সা থেকে কমে ৫ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বাল্ক বিষয়ক মূল্য ৪ টাকা ৯০ পয়সা জ্বালানি খরচ কিছুটা হ্রাস পেলেও প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য বিক্রয় মূল্য অপেক্ষা এখনও গড়ে ৭০ পয়সা বেশি এবং এই অর্থ সরকার সাধারণত বাজেটারি সাপোর্ট হিসেবে এই খাতে প্রদান করে থাকে। যেহেতু বাল্ক বিক্রয় মূল্য বিদ্যুতে গড় উৎপাদন ব্যয় হতে কম সেহেতু সরকারের বিদ্যুতের মূল্য কমানোর বিষয়ে আপাততঃ কোন পরিকল্পনা নাই।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর