বিদ্যমান অবস্থায় শিল্প খাতে সীমিত হারে গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে : নসরুল হামিদ
বিদ্যমান অবস্থায় শিল্প খাতে সীমিত হারে গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে : নসরুল হামিদ
২০১৬-০৬-২৭ ২০:৩৯:৩২
প্রিন্টঅ-অ+


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বিদ্যমান অবস্থায় শিল্প খাতে সীমিত হারে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি সংসদে জাতীয় পার্টির বেগম সালমা ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কিছুটা কম। এমতাবস্থায় গ্যাস নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে গ্যাসের উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি পেলেও এখনও দেশে বিদ্যমান গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে দেশে গ্যাস চাহিদার পরিমাণ দৈনিক ৩ হাজার ২শ’ মিলিয়ন ঘনফুটের অধিক। এর বিপরীতে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ হাজার ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের বিদ্যমান নতুন এলাকায় নেটওয়ার্ক বর্ধিত না করে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে শিল্প খাতে সীমিত হারে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এছাড়া শুধুমাত্র সরকার ঘোষিত বিশেষ ইকোনোমিক জোনসমূহে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বে দেশের উন্নয়ন চাহিদামত জ্বালানি সরবরাহের উপর অধিকাংশে নির্ভরশীল। এ দেশের প্রধান জ্বালানি প্রাকৃতিক গ্যাস। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে জ্বালানির চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সেক্টরে দ্রুত উন্নতির লক্ষ্যে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাস্তবায়িত কার্যক্রমের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
নসরুল হামিদ বলেন, ২০০৯ সালে গ্যাসে দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে দৈনিক উৎপাদন প্রায় ২ হাজার ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে ৪২টি উন্নয়ন কূপ খনন করা হয়। উৎপাদন বজায় রাখার জন্যে ১৯টি কূপে ওয়ার্কওভার করা হয়।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাসের মজুদ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে ৬টি নতুন স্ট্রাকচার চিহ্নিত করা হয়।

তিনি বলেন, এ সময়ে ৮টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়। বাপেক্স ৯৭৮ লাইন কিঃ মিঃ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সম্পন্ন করা হয়। ৫ হাজার ৬৬০ লাইন কিলোমিটার (বাপেক্স-২৫৯৫, আইওসি-৩০৬৫) ২ডি সাইসমিক সার্ভে সম্পন্ন করা হয। ৩ হাজার ৯৬ বর্গ কিলোমিটার (বাপেক্স-২৩৮০ ও আইওসি-৭১৬) ৩ডি সাইসমিক সার্ভে সম্পন্ন করা হয়।

নসরুল হামিদ বলেন, গত সাড়ে সাত বছরে ৭৬১ কিলোমিটার উচ্চচাপবিশিষ্ট সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সঞ্চালন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উচ্চচাপ বিশিষ্ট সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে। গ্যাসের নি¤œচাপ সমস্যা সমাধানে মুচাই, আশুগঞ্জ, এলাকায় কম্প্রেসর স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মহেশখালী-আনোয়ারা (৩র্০র্ ব্যাসের ৯১ কিঃ মিঃ) সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া মহেশখালী-আনোয়ারা ৩৬র্ র্ ব্যাসের সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম-বাখরাবাদ ৩৬র্ র্ ব্যাসের সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নসরুল হামিদ বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ বাপেক্স ৫৩টি অনুসন্ধান কূপ ও আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিসমূহ ৪টি অনুসন্ধান কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাপেক্স ৩৫টি উন্নয়ন কূপ এবং ২০টি কূপ ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বরেন, অনুসন্ধানকৃত এলাকায় প্রাপ্য গ্যাসের পরিমাণ এবং তা দিয়ে ভবিষ্যতে চাহিদা মোকাবেলার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থাকায় সরকার অফশোরে টার্মিনাল স্থাপনের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, আগামী ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ ৫শ’ এমএমসিএফডি গ্যাসের সমতুল্য এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

নসরুল হামিদ বলেন, এছাড়া মহেশখালী ও পায়রায় ২০২২ সাল নাগাদ মোট ২ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন আরও দুটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর