এক চোখে ফোন চালানোর ফল “স্মার্টফোন ব্লাইন্ডনেস”
এক চোখে ফোন চালানোর ফল “স্মার্টফোন ব্লাইন্ডনেস”
২০১৬-০৬-২৫ ২৩:২৩:০৭
প্রিন্টঅ-অ+


ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে যদি আপনার স্মার্ট ফোন চালানোর অভ্যাস থেকে থাকে তাহলে আজই সাবধান হোন। কারণ এ থেকে আপনি আক্রান্ত হতে পারেন অস্থায়ী ‘স্মার্টফোন অন্ধত্বে’। এমনটাই হুশিঁয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ডাক্তাররা।

যুক্তরাজ্যের দুই নারী অন্ধকার ঘরে উজ্জ্বল সেলফোন স্ক্রিনে তাকানোর পর তাদের একটি চোখে অস্থায়ী দৃষ্টি বৈকল্যে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলেছেন ডাক্তারদের।

২২ বছর বয়সী এক নারী রাতে তার ডান চোখে দেখতে সমস্যার কথা জানান। এক বছর ধরে বেশ কয়েকবার এই সমস্যা হয় বলে জানান তিনি। তবে তার বাম চোখে রাতে কোনো সমস্যা হতো না। আর দিনের বেলায় দুটি চোখেই কোনো সমস্যা হতো না।

৪০ বছর বয়সী অপর এক নারী সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে জাগার পর এক চোখে দেখতে না পাওয়ার সমস্যার কথা জানান। এই সমস্যা ১৫ মিনিট ধরে স্থায়ী হয় বলে জানান তিনি। প্রায় ছয়মাস ধরে তিনি এই সমস্যায় ভোগেন। দুটি ক্ষেত্রেই ডাক্তাররা দেখতে পান সমস্যার উৎপত্তি হয়েছে মূলত ও দুই নারীর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক মিনিটের জন্য স্মার্ট ফোনের দিকে এক চোখে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস থেকে। ডাক্তাররা বলেন, “এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে কারণ রোগীরা তাদের ফোনের দিকে এক চোখে তাকিয়ে থাকতো। তাদের অপর চোখটি বালিশের সঙ্গে লেগে বন্ধ হয়ে থাকতো। ফলে যে চোখটি বালিশে লেগে বন্ধ হয়ে থাকতো সেটি অন্ধকারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায় আর অপর চোখটি স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আলোর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। স্মার্টফোনটি যখন বন্ধ হয়ে যেত তখন আলোতে অভ্যস্ত হওয়া চোখটি কিছুক্ষণের জন্য ‘অন্ধ’ হয়ে যেত। রোগীরা জানান তাদের সত্যিকারের অন্ধত্বের অনুভুতিই হতো এবং এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন। এরপর যখন সাময়িক অন্ধ চোখটি ফের অন্ধকারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিত তখন সেটি স্বাভাবিক হয়ে আসত।

এরপর ওই রোগীদের ওপর একটি পরীক্ষা চালান ডাক্তাররা। দুজনকেই তাদের ফোনের দিকে একবার একসঙ্গে দুটি চোখ ব্যবহার করে এবং আরেকবার এক চোখ দিয়ে তাকানোর কথা বলা হয়। এরপর ওই রোগীরা জানান, একসঙ্গে দুই চোখ ব্যবহার করে তাকানোর পর তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু একচোখ ব্যবহার করে তাকানোর পরপরই সমস্যা হত। যে চোখটি ব্যবহার করে তারা স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়েছেন সেটি সাময়িকের জন্য অন্ধ হয়ে যেত। সূত্র: লাইভ সায়েন্স, ও নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বাস্থ্য এর অারো খবর