প্রশাসন ক্যাডারের সাথে অন্যান্য ক্যাডারদের চলমান বৈষম্য আরও বাড়বে
প্রশাসন ক্যাডারের সাথে অন্যান্য ক্যাডারদের চলমান বৈষম্য আরও বাড়বে
২০১৬-০৬-২২ ০০:০৪:৪০
প্রিন্টঅ-অ+


চতুর্থ গ্রেডে বেতনভোগী কর্মকর্তারা আর উপসচিব হতে পারবেন না। এমন বিধিনিষেধ আরোপ করে সম্প্রতি আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের চলমান বৈষম্য আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রশাসনবহির্ভূত বা আদার্স ক্যাডার কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে তরুণ কর্মকর্তারা উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হবেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন ক্যাডারের তরুণ কর্মকর্তাদের সুযোগ দিতে এটি করা হয়েছে। তবে একটি ক্যাডারের কিছু কর্মকর্তা এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি।’

গত মাসে প্রশাসনে তিন স্তরের পদোন্নতির পর নতুন করে উপসচিব, যুগ্ম সচিব এবং অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিতে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রশাসন থেকে বিভিন্ন ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের কাছে সরকারের উপসচিব পদে পদোন্নতি পেতে ইচ্ছুক কর্মকর্তাদের তালিকা চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তারা তাদের নাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। সেখানে দেখা যায়, বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডে বেতন পান এমন কিছু কর্মকর্তা উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন। এরপর ২ জুন একটি আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, যা চিঠি আকারে বিভিন্ন ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

আদেশে বলা হয়, ‘সরকারের পঞ্চম গ্রেডভুক্ত উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য চতুর্থ বা তদূর্ধ্ব গ্রেডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম প্রেরণের প্রয়োজন নেই।’ কিন্তু ৯ মে যখন উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়, তখন এমন কোনো শর্ত ছিল না।

প্রসঙ্গত, উপসচিব পদটি জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেডের। আর চতুর্থ গ্রেড হল উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার মাঝামাঝি একটি অবস্থান। প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতো বেশ কয়েকটি ক্যাডারের কর্মকর্তারা যথাসময়ে পদোন্নতি পান না। সেজন্য তাদের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের মাধ্যমে আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হয়। এভাবে ত্রয়োদশ ও পঞ্চদশ ব্যাচের বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে চতুর্থ গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। তবে বাস্তবে তারা ষষ্ঠ গ্রেডের পদ-পদবির কর্মকর্তা।

এদিকে এ চিঠি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছার পর ভুক্তভোগী ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। লিখিত আপত্তি জানিয়ে ইতিমধ্যে কোনো কোনো ক্যাডারের কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও এপিডি উইং প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন কেউ কেউ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ আদেশকে আরও বৈষম্য বাড়িয়ে দেয়ার আদেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে বিসিএস সমন্বয় কমিটির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনীয় পদ না থাকার পরও প্রশাসন ক্যাডারে পদোন্নতি দেয়া হয়। চার শতাধিক সুপার নিউমারারি পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু বিসিএস ইকোনমিক, আনসার, পুলিশ, চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষাসহ ২৬টি ক্যাডারে নিয়ম হল- পদ না থাকলে পদোন্নতিও বন্ধ। এক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে অন্যান্য কাডারের চরম বৈষম্য রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। এ জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এর সুরাহা করা হচ্ছে না।

নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে প্রকৃচি (প্রকৌশল-কৃষিবিদ-চিকিৎসক) বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতৃত্বে ২৬ ক্যাডারের কর্মকর্তারা কালো ব্যাচ ধারণ, মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সমস্যা সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, অর্থসচিব ও জনপ্রশাসন সচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু অদ্যাবদি এর কোনো সমাধান হয়নি।

বিসিএস সমন্বয় কমিটির মহাসচিব মো. ফিরোজ খান বলেন, জনপ্রশাসনের এ আদেশ বা চিঠির কারণে বিভিন্ন ক্যাডারের বেশ কিছু দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা উপসচিব পদে তাদের পদোন্নতি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। মূলত তাদের বাদ দিতেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ ধরনের অন্যায় চিঠি জারি করেছে।

তিনি বলেন, এমনিতেই দীর্ঘদিন থেকে নানা বৈষ্যমের কবলে পড়ে প্রশাসনবহির্ভূত বেশ কয়েকটি ক্যাডার কর্মকর্তারা চাকরি জীবনে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এখন আবার নতুন বৈষ্যমের খক্ষ চাপিয়ে দেয়া হল।

ফিরোজ খান জানান, সচিব এর আগে কমিটির পক্ষ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে তাদের যৌক্তিক কিছু সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস দেন। বলা হয়, প্রত্যেক ক্যাডারের সাংগঠনিক কাঠামো যুগোপযোগী করে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। কিন্তু কিছুই করা হয়নি।

ত্রয়োদশ বিসিএসের তথ্য ক্যাডারের এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের ব্যাচের কেউই প্রকৃতপক্ষে চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা নন। বিসিএস (তথ্য সাধারণ) ক্যাডারের তফসিলভুক্ত চতুর্থ গ্রেডের পদের নাম সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর বা ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ড। তাই তার মতে, চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাদের উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া না হলে তাদের লাইন পদে তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হোক। কিন্তু সে রকম কোনো সুযোগও নেই। এছাড়া লাইন পদে তাদের পঞ্চম গ্রেডেই পদোন্নতি দেয়া হবে। তিনি মনে করেন, পদোন্নতির জন্য বেতনের গ্রেড বিবেচ্য বিষয় নয়। দেখতে হবে, বাস্তবিক অর্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোন পদে থাকার কথা আর কর্মরত আছেন কোন পদে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর