হিলারি-ট্রাম্পের চূড়ান্ত লড়াই শুরু
হিলারি-ট্রাম্পের চূড়ান্ত লড়াই শুরু
২০১৬-০৬-১১ ০১:০১:৪২
প্রিন্টঅ-অ+


হোয়াইট হাউস প্রতিযোগিতার দৌড়ে চূড়ান্ত রণে প্রস্তুত হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান দল থেকে ইতিমধ্যে মনোনয়ন পেয়ে গেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়াসহ ৬ অঙ্গরাজ্যের ৪টিতে জয় পেয়ে ডেলিগেটের ‘ম্যাজিক ফিগারে’ পৌঁছে গেছেন ডেমোক্রেট দলের হিলারি।

দুই শিবির থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও আসন্ন ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে নিশ্চিতভাবে শুরু হচ্ছে ট্রাম্প বনাম হিলারি লড়াই। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানের চূড়ান্ত প্রার্থিতার জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পেতে ১৮ থেকে ২১ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য দলীয় কনভেনশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও সব অনিশ্চয়তা, বিতর্ক ও দলীয় কোন্দল ছাপিয়ে হিলারি-ট্রাম্পই যে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হচ্ছেন তা প্রায় নিশ্চিত।

এদিকে ডেমোক্রেট দলের সমর্থকদের হিলারির পক্ষ নিয়ে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। খবর এএফপির।

ডেমোক্রেট দলের হয়ে এ জয়কে নারীদের জন্য ঐতিহাসিক ‘মাইলস্টোন’ বলে ঘোষণা করেন হিলারি। নিউইয়র্কের ব্র“কলিনে এক উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে নিজেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনীত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বলে ঘোষণা করেছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি। এ সময় তিনি নিজের সমর্থকদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন।

মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথম কোনো নারী রাজনীতিক হোয়াইট হাউসে প্রবেশের জন্য প্রধান একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করার রেকর্ড গড়লেন। এই মাইলফলক ছোঁয়ার জন্য হিলারিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আধুনিক গণতন্ত্রের এ দেশে দীর্ঘ ২২৭ বছর পর নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন হিলারি।

নিয়ইয়র্কের ওই সমাবেশে হিলারি বলেন, আমাদের অবশ্যই একত্রে কাজ করতে হবে। আমি আশা করি, ট্রাম্পকে ঠেকাতে বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থকরাও আমাকে সমর্থন দেবেন।

তবে হিলারির মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন স্যান্ডার্স। ভারমন্টের এ সিনেটর বৃহস্পতিবার বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ট্রাম্পের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য নিজেকে বেশি যোগ্য বলে ঘোষণা দেবেন।

স্যান্ডার্স মনে করেন, মার্কিন নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ওবামার গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে ডেমোক্রেট দলের জন্য হিলারিকে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবামা বলেন, স্যান্ডার্সের অধিকার রয়েছে লড়ে যাওয়ার, তবে প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর তার উচিত হবে হিলারিকে সমর্থন দেয়া।

এদিকে হিলারি-ট্রাম্পের মধ্যে চূড়ান্ত লড়াই শুরুর আগে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়েছেন দুই দলের দুই প্রার্থী। ট্রাম্পের অপরিপক্ব রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যকে বারবার সামনে আনার চেষ্টা করেছেন বাকপটু হিলারি। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বহুত্ববাদ ও সহনশীলতার নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ট্রাম্প মানুষের মাঝে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেন ৬৮ বছর বয়সী হিলারি। ট্রাম্পের নীতি জঙ্গিবাদকে উসকে দিচ্ছে উল্লেখ করে তাকে আইএসের মদদদাতা বলে মন্তব্য করেন নিউইয়র্কের সাবেক সিনেটর হিলারি। ট্রাম্পও কম নন। হিলারির স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে নিয়ে নারী কেলেংকারির বিষয়ে হিলারিকে টোকা দেন ট্রাম্প।

ওদিকে ট্রাম্পের ব্যাপারে মিথ্যাচারের জন্য হিলারির বিরুদ্ধে মামলা কতে প্রস্তুত হচ্ছেন ট্রাম্প। বুধবার এমন ঘোষণা দেন রিপাবলিকানের সিনিয়ন ক্যাম্পেইন উপদেষ্টা। ট্রাম্পের ব্যবসায়িক রেকর্ড ও অর্থনৈতিক এজেন্ডা প্রকাশ করা নিয়ে মিথ্যা মন্তব্য করায় এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে রিপাবলিকান শিবির।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর