চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড অনুষ্ঠিত
চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড অনুষ্ঠিত
২০১৬-০৬-০৯ ০০:১৭:১০
প্রিন্টঅ-অ+


ঢাকা, গোপালগঞ্জ, বগুড়া, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও নোয়াখালীতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) এবং সায়েন্স ফোরাম ২১-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের (সিএসডব্লিউ) ১০টি পর্ব। ১০টি স্কুলের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এ আয়োজনে অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা এখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য ​দেন। গত ১১ মে শুরু হয়ে ৬ জুন এই আয়োজনগুলো শেষ হয়।

বগুড়ার প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ১১ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে সিএসডব্লিউর প্রথম পর্বটি। ‘ইলেকট্রনিকস : ব্যাকবোন অব দ্য মডার্ন ইরা’ বিষয়টি নিয়ে এতে বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মো. রেজাউল ইসলাম।

বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—বগুড়া জিলা স্কুল, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিয়াম মডেল স্কুল, পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী আয়োজনটিতে অংশ নেয়। বক্তৃতায় ইলেকট্রনিকসের প্রাথমিক ধারণা, পরমাণু ও তার শক্তি স্তর, সেমিকন্ডাক্টর, ট্রানজিস্টর, লাইট এমিটিং ডায়োড (এলইডি), কম্পিউটারের লজিক, মেশিন ল্যাংগুয়েজ, প্রোগ্রামিং, আগামী দিনে ইলেকট্রনিকসের চ্যালেঞ্জ এবং এ-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দ্বিতীয় পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় ১২ মে, দিনাজপুরের চেরাডাঙ্গী উচ্চবিদ্যালয়ে। ‘আইসিটি ইন আওয়ার ডেইলি লাইফ’ বিষয়টি নিয়ে এতে বক্তব্য দেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আহসান হাবীব। স্কুলটির চার শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়।

তৃতীয় পর্বে ঢাকার বারিধারার মার্টিন লুথার কলেজে ‘ন্যানোটেকনোলজি : আ ব্রাইড টু দ্য ফিউচার’ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এম নূরুজ্জামান খান। ন্যানোটেকনোলজি কী, প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার, প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত বিভিন্ন ন্যানোটেক, যেমন সেলফ ক্লিনিং ম্যাটেরিয়াল, ন্যানোটেকনোলজি নিয়ে বর্তমান গবেষণা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ড. নূরুজ্জামান আলোচনা করেন।

চতুর্থ ও পঞ্চম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ৪ জুন, গোপালগঞ্জের শেখ হাসিনা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ এবং এস এম মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে। ‘দ্য এজ অব আইটিসি রেভল্যুশন’ বিষয়টি নিয়ে পর্ব দুটিতে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক সজল হালদার। প্রতিটি স্কুলেই শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়।

বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার, ইন্টারনেট, সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসমূহ, সাইবার ক্রাইম, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ধারণাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় আয়োজন দুটিতে।

ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্ব দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪ ও ৫ জুন, ময়মনসিংহের জিলা পরিষদ উচ্চবিদ্যালয় ও মুগালটুলা উচ্চবিদ্যালয়ে। ‘সায়েন্টিফিক ইনভেনশনস ইন টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরি’ বিষয়টি নিয়ে এতে কথা বলেন ফ্রিল্যান্স আইটি ল্যাব, ময়মনসিংহের সিইও প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান। গত শতাব্দীর প্রধান প্রধান বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলো এবং বিজ্ঞানীদের অবদান নিয়ে এতে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া আমাদের চারপাশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার, বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণা করার পেছনের কারণগুলো নিয়েও মাহমুদুল হাসান কথা বলেন।

নোয়াখালীর অরুণ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, নোয়াখালী উচ্চবিদ্যালয় এবং নোয়াখালী ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ে ৬ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের শেষ তিনটি পর্ব।

‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেনস: ফিউচার অব দ্য কম্পিটিং’ বিষয়টি নিয়ে অরুণ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ে আলোচনা করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান। নোয়াখালী উচ্চবিদ্যালয়ে ‘কম্পিউটার্স : শ্যাপিং দ্য ফিউচার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন নোবিপ্রবির একই বিভাগের শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেন।

শেষ পর্বে ‘কম্পিউটার্স : আ মেশিন বিয়োন্ড ​ইমাজিনেশন’ বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালী ইউনিয়ন হাইস্কুলে আলোচনা করেন নোবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও টেলিকমিউনিকেশন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. ইয়াসিন কবির। প্রতিটি স্কুলেই শতাধিক শিক্ষার্থী আয়োজনগুলোতে অংশ নেয়।

চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের প্রতিটি পর্বেই মূল বক্তৃতার পর শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছে। বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের জন্য ছিল পুরস্কারের ব্যবস্থা।

ঢাকার মার্টিন লুথার কলেজের শিক্ষার্থী তিথি বলে, ‘আমি আগে ভাবতাম যে ন্যানোটেকনোলজি অনেক দামি প্রযুক্তি। কিন্তু আমাদের আশপাশে প্রকৃতির মাঝেই যে ন্যানোটেকনোলজির এত সব উদাহরণ লুকিয়ে আছে, সেটা জানতাম না। আজকে জানতে পেরে খুব অবাক লাগছে। আমি সব সময় বিজ্ঞানী হতে চাইতাম, এখন ভাবছি যে গবেষণাটা ন্যানোটেক নিয়েই করব।’

গোপালগঞ্জের একজন অভিভাবক বলেন, ‘এমন আয়োজন তো আমাদের বাচ্চাদের জন্য সহজে হয় না। আয়োজকদের ধন্যবাদ যে ঢাকার বাইরের স্কুলে এসেও তাঁরা এ আয়োজন করছেন।’

পুরো আয়োজনটির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল পাই নেট, জাপান।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিক্ষা এর অারো খবর