মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬৫
মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬৫
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-১৬ ১৯:০৬:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+


সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬০ থেকে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সকালে এ বিষয়ে করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দীকী।

এর আগে এক রিটের শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি উক্ত রায় দেন হাইকোর্ট। ২০০৬ সালের ১২ জুলাই এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের বয়স ৫৭ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ওই সময় বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়নি।

এরপর ২০০৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে সরকারি চাকুরিজীবীর অবসর গ্রহণের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। সচিব কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধাদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর ও সাধারণ চাকরিজীবীদের বয়সসীমা ৬০ বছরে উন্নীত করার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো ধরনের নির্দেশনা ছাড়াই তা ফেরত আসে।

এরপর ২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গণকর্মচারী অবসর আইন ১৯৭৪ সংশোধন করে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়।

এদিকে ২০১২ সালের মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন শিকদারের এক রিটের প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধাদের ৬০ বছর করা হয়।

এছাড়া ২০০৬ সালের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসারে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ করতে আরেকটি রিট করেন জামাল উদ্দিন। এ রিটের শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ ৬০দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করার নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে সরকার।

আদালতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও আজহারুল্লাহ ভূঁইয়া। সোমবার সরকারের লিভ টু আবেদন খারিজ করে দেন বলে জানান আজহারুল্লাহ ভূঁইয়া।
এখন রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বয়স করার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করতে হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর