চীন রোজা নিষিদ্ধ করায় ব্যাপারটা মার্কেটে তেমন খাচ্ছে না
চীন রোজা নিষিদ্ধ করায় ব্যাপারটা মার্কেটে তেমন খাচ্ছে না
শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন
২০১৬-০৬-০৮ ১৮:০৩:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের উত্থান, সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি গ্রহন, এ রকম অনেক জিনিসই আছে যা চীনকে আজকের বিশ্বে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। চীন সে দেশের নাগরিকদের কঠোর ভাবে দমন করে। মত প্রকাশ, গণতন্ত্র এসব চীনের রাস্তায় দাঁড়াইয়া আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবিদের মত উচ্চারণ করলে পিছনের ছাল বাকলা তুলে ফেলবে চীনা সরকার। সেখানে কোন ফেসবুক ইউটিউব চালানো যায় না, নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া আছে, এর বাহিরে অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে না। চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া “ওয়েইবো”,”উইচ্যাট”। সেখানেও আছে আবার কঠোর সেন্সরশীপ, কে কি লেখালেখি করে চলে নজরদারি। ৮০ এর দশকে চীন সরকার ওয়ান চাইল্ড পলিসি গ্রহণ করে, কে কয়টা বাচ্চা নিবে সেটাও সরকার ঠিক করে দিতো...
এসবের পিছনে চীন সরকারের যুক্তি আছে, একটা দেশের জনসংখ্যা ১৪০ কোটির বেশি। এতো মানুষকে খাওয়ানো পরানো মায়ের হাতের মোয়া নয়। সেখানে যদি গণতন্ত্র হ্যান ত্যান টক শো সারাদিন চলে তাহলে এতো মানুষের কর্মসংস্থান করবে কে? যার কারণে চীন সরকার কঠোর দমন নিপীড়ন করে, আপাতদৃষ্টিতে খারাপ মনে হইলেও অর্থনীতিতে তারা আজকে ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে আমেরিকাকে টপকাইয়া এক নাম্বার পজিশনে চলে আসছে, কোন গণতন্ত্র ছাড়াই! গণতন্ত্র বাংলাদেশেও আছে, সেই গণতন্ত্র দিয়াই আমরা টানা ৫ বার দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হইছি। উন্নয়ন অবকাঠামো ছাড়া এসব গণতন্ত্রের ভ্যালু নাই সেটা চীন দেখাইয়া দিছে, গণতন্ত্র নয় উন্নয়নই হল মোদ্দা কথা।
এ ধরনের রাষ্ট্রকে সাধারণত বলা হয় “হার্ড স্টেট”, মাহাথিরের মালেশিয়া, লি কুয়ানের সিঙ্গাপুর, সব গুলা রাষ্ট্রই আজকের অবস্থানে এভাবেই আসছে। তা ছাড়া উপায়ও ছিল না তাদের। তবে একটা সময় হার্ড স্টেটের ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হয়, তা না হলে চীন মাও সেতুং এর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় যে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে, সে রকম সামনেও হতে পারে।
চীনের বর্তমান শাসক গোষ্ঠী কোন ধর্মে বিশ্বাস করে না, দে আর এভ্রি ইঞ্চ এ কমিউনিস্ট। এক কথায় নাস্তিক। তাই চীনা সরকারের ঘোষিত/অঘোষিত এক ধরনের নিয়ম থাকে সরকারী কর্মচারী কর্মকর্তারা রোজা রাখতে পারবে না। বিশেষত এটা কঠোরভাবে মানা হয় জিনজিয়াং প্রদেশের ক্ষেত্রে।
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশটি মুসলমান অধ্যুষিত, এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। জিনজিয়াং বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৯ গুণ বড়। জিনজিয়াং প্রদেশ চীনের মূল ভূখন্ডের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। জিনজিয়াং প্রদেশের উপর দিয়েই যাবে চীনের বিখ্যাত “ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড” বা সিল্ক রুট, যার মাধ্যমে চীন ৬৪ টি দেশের সাথে ব্যবসা সম্প্রসারিত করে বিশ্ব অর্থনীতিতে অদ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে।
চীনের সাথে মোট ১৪ টি দেশের সীমান্ত আছে, যার মধ্যে শুধু ৮ টি দেশের সীমান্ত আছে জিনজিয়াং প্রদেশের সাথে, ৮ টি দেশের ৬ টি আবার মুসলিম অধ্যুষিত। পাকিস্তানের মত জঙ্গি রাষ্ট্রের সীমান্তও আছে জিনজিয়াং প্রদেশের সাথে। তাই চীনের ভয় এসব রাষ্ট্র থেকে জঙ্গি রপ্তানি হওয়ার সম্ভাবনা আছে জিনজিয়াং প্রদেশে, তাই চীন প্রতিবারই মুসলমানদের জন্য অলিখিতভাবে রোজা রাখা নিষিদ্ধ করে। যদিও চীনের জনসংখ্যার ৯০ ভাগই নাস্তিক।
রাষ্ট্রের যেমন ধর্ম থাকা অনুচিত, তেমনি রাষ্ট্রের কে রোজা রাখবে,কে রাখবে না সেটাও ঠিক করে দিতে পারে না। মৌলবাদীদের আচরণ সবার এক রকম। নাস্তিক মৌলবাদী হোক, আস্তিক মৌলবাদী হোক। যে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সে সেখানে রাম রাজত্ব করে। ধর্ম কর্ম এসব ফ্যাক্ট না। আসিফ মহিষউদ্দিন টাইপের উগ্র নাস্তিক খাসিরা যদি আজকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হইত, তাহলে তাদের আচরণও হইত ঠিক এ রকম। চীন একটা নাস্তিক তথাকথিত মুক্তমনা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর রোল মডেল মাত্র।
চীন রোজা নিষিদ্ধ করায় ব্যাপারটা মার্কেটে তেমন খাচ্ছে না, কারণ এখানে ভারতের নাম নাই। যারা কথায় কথায় সাম্রাজ্যবাদী ইঙ্গ মার্কিন ভারতের ষড়যন্ত্র খুঁজে পায়, সে আনু গংদেরও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তারা এ ব্যাপারে একদমই নীরব। ছাগীয়তাবাদীরা না হয় ভারতের গন্ধ না থাকায় প্রতিবাদ করতাছে না!
কিন্তু ধর্মের সোল এজেন্টধারী হেফাজতকারীরা, বাংলাদেশে ইজরাইলের দূতাবাস না থাকলেও কথায় কথায় কল্পিত ইজরাইলের দূতাবাস অভিমুখে লং মার্চের ডাক দেয়, ইজরাইলি পণ্যে বর্জনের ডাক দেয়, কিন্তু চীন রোজা নিষিদ্ধ করার পরেও তারা চীনা পণ্য বর্জনের ডাক দিচ্ছেন না কেন? ভাসুরের নাম মুখে নিতে মানা নাকি!

(অপ্রস্তুত লেনিন এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে)

লিংক
https://www.facebook.com/lenin.oprostut/posts/1222945771063239

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ফেসবুক থেকে এর অারো খবর