ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মৌচাক মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশ
ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মৌচাক মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশ
২০১৬-০৬-০৬ ২০:৫০:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+


ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাজধানী ঢাকার মৌচাক মার্কেটের সকল দোকনপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুয়েটের প্রতিবেদনের আলোকে সংস্কার করা বা বিল্ডিং কোড অনুসারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সক্ষমতা সনদ না পাওয়া পর্যন্ত এসব দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

সোমবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদালত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব এবং রাজউক কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৭ মে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) মৌচাক মার্কেটের ভবন মালিককে চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ইমারতটি বহু পুরাতন ও বহুল ব্যবহৃত। প্রত্যহ হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। বর্তমানে ইমারতটি জীর্ণ ও দৃশ্যত ঝুকিপূর্ণ প্রতীয়মান হওয়ায় বুয়েট পুরকৌশল বিভাগ কর্তৃক পরীক্ষা-নীরিক্ষা পূর্বক কাঠামোগত উপযুক্ততার সনদ গ্রহণ করে চাওয়া তথ্যদি এই দপ্তরে (রাজউক) দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হলো। সেই সঙ্গে ভবনটির কাঠামোগত উপযুক্ততা নিশ্চিত হয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলো।

এর ধারাবাহিকতায় বুয়েটের দেওয়া সুপারিশ রাজউকে জমা পড়ে। এর প্রেক্ষিতে রাজউক গত ২ মে ভবন মালিককে আরেকটি চিঠি দেন।

২ মে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, বুয়েট প্রণীত কাঠামোগত মূল্যায়ন প্রতিবেদনের পরামর্শ ও কর্তৃপক্ষের ওই নির্দেশনা স্বত্বেও কাঠামোগত ঝুঁকি হ্রাসে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দায়িত্বহীনভাবে মার্কেট ব্যবহার অব্যাহত রেখেছেন, যা জীবন ও সম্পদের জন্য ঝুকিপূর্ণ এবং ইমারত নির্মাণ আইন-১৯৫২ এর সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। এ অবস্থায় মার্কেটটির ব্যবহার বন্ধ করে বুয়েট প্রণীত নকশা মোতাবেক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কাজ অবিলম্বে শুরু করার জন্য পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হলো। কাঠামোগত ঝুকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহারের দরুণ যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে একমাত্র আপনিই (মালিক) এবং আপনার ব্যবস্থাপনা দায়ী থাকবে এবং ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ অনুযায়ী যথাযথ আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটি চূড়ান্ত নোটিশ বলে গণ্য হবে।

এই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জেড কে লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভবন মালিক আশরাফ কামাল পাশা গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন। রিটের ওপর রোববার ও সোমবার শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ ওই আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন্। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. রাজিউদ্দিন সারওয়ার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান জানান, দোকান খালি করতে কেন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, রাজউকের অথরাইজড কর্মকর্তাসহ সাত বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মধ্যবিত্তের জনপ্রিয় বিপণি বিতান মৌচাক মার্কেটে এক হাজারের বেশি বিভিন্ন পণ্যের দোকান রয়েছে বলে জানা যায়।

ব্যারিস্টার মোতাহার হোসেন্ বলেন, ইমারত নির্মাণ আইন-১৯৫২ এর ৩(বি) ধারা অনুসারে, মার্কেট খালি করতে সাত দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দিতে হয়।

এক্ষেত্রে রাজউক সে রকম কোনো সময় উল্লেখ না করে দিয়ে দায়সারাভাবে মার্কেট বন্ধ করতে ও বুয়েটের সুপারিশ অনুসরণ করতে বলেছে। আইনের দৃষ্টিতে এটি কার্যকর হতে পারে না। এ কারণে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে মার্কেটের ভূমি মালিক রিটটি করেন, যাতে কোনো ধরনের দূর্ঘটনা ও ক্ষতিক্ষতি না হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর