২০ ওষুধ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল চেয়ে রিট
২০ ওষুধ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল চেয়ে রিট
২০১৬-০৬-০৬ ০০:১০:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+


বিশেষজ্ঞ কমিটির মূল্যায়নে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের দুই আইনজীবীর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি দায়ের করে।

সোমবার হাই কোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য তোলা হবে বলে মনজিল মোরসেদ জানিয়েছেন।

যেসব কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলো- এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল, এভার্ট ফার্মা লি., বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ড্রাগল্যান্ড লি., গ্লোব ল্যাবরেটরিজ (প্রাইভেট) লি., জলপা ল্যাবরেটরিজস লি., কাফমা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ন্যাশনাল ড্রাগ ফার্মা লি., নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যালস লি., রিমো কেমিক্যালস লি. (ফার্মা ডিভিশন), রিদ ফার্মাসিউটিক্যালস লি., স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যালস লি., স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস লি., স্টার ফার্মাসিউটিক্যালস লি., সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যালস লি., টুডে ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যালস লি. এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সক্রেটারি জেনারেল ও র্যা বের মহাপরিচালকসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে রিট আবেদনে।

২০১৪ সালের ২০ সেপ্টম্বর ভেজাল এবং নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে প্রধান করে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির চার সদস্য হলেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাবুদ্দিন কবীর চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।

বিশেষজ্ঞ কমিটি দেশের ৮৪টি ওষুধ কোম্পানি পরিদর্শন করে সেগুলোর সক্ষমতা মূল্যায়নের পর চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সংসদীয় কমিটিতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০টি কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল এবং ১৪ কোম্পানির সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক (নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপ) ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

যেসব কোম্পানির অনুমোদন বাতিলের সুপারিশ করা হয় সেগুলো হচ্ছে- আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল লি., আলকাদ ল্যাবরেটরিজ লি., বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যালস লি., বেঙ্গল ড্রাগস অ্যান্ড কেমিক্যালস (ফার্মা) লি., ব্রিস্টল ফার্মা লি., ক্রিস্ট্যাল ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যালস লি., এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলকেয়ার লি., অরবিট ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ লি., পনিক্স কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি (প্রা.) লি., রাসা ফার্মাসিউটিক্যালস লি. ও সেভ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

এ বিষয়ে ‘জীবন রক্ষাকারী ওষুধে ভেজাল’ শিরোনামে ১৯ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এ অবস্থায় বিষেশজ্ঞ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রোববার রিট আবেদনটি করা হয় বলে জানান আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

রিট আবেদনে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০ কোম্পানি এবং অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনে অক্ষম ১৪টি কোম্পানির অনুমোদন বাতিলে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।

এসব কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে।

রুল হয়ে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এসব কোম্পানির উৎপাদন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধে পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপ হাই কোর্টের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আদালতে দাখিলের আরজিও রয়েছে রিট আবেদনে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বাস্থ্য এর অারো খবর