রংপুরে ইউএনওকে বেতন ভাতার ক্ষমতা প্রদান: তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি
রংপুরে ইউএনওকে বেতন ভাতার ক্ষমতা প্রদান: তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-১৫ ২৩:২৯:১০
প্রিন্টঅ-অ+


দেশব্যাপী গত কয়েকমাস ধরে চলা প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির আন্দোলনকে উপেক্ষা করে কোনও সমঝোতা ছাড়াই উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বেতন ভাতা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে আন্দোলনকারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সহকারী কমিশনার জয়শ্রী রানী রায় স্বাক্ষরিত নির্দেশনা পত্রটিতে উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিষয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের উপজেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে ন্যস্তকরন এবং বেতন ভাতার প্রদেয় অর্থ পরিষদ তহবিলে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে গাইবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে।

নির্দেশনা পত্রটিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ অক্টোবর , ২০১৫ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কমিশনার সমন্বয় সভার কার্যবিবরণীর ১২(জ)নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত দপ্তর ও কাজের সঙ্গে যুক্ত উপজেলা ও ইউনিয়ন বা তদনিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ এবং তাঁদের বেতন ভাতাদি বাবত সরকার প্রণেয় অর্থ পরিষদের তহবিলে স্থানান্তরকরণ সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে জারিকৃত অফিস স্মারকের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এদিকে উপজেলা পরিষদের কাছে ১৭ দফতর হস্তান্তরের বিষয়ে মন্ত্রীসভা বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে ১৪ অক্টোবর একটি অফিস স্মারক জারি করা হয়। এতে বলা হয়, উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হিসাব এবং উন্নয়ক কর্মসূচি বাস্তবায়নের হিসাব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনওর স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে।

এই সার্কুলার জারির পর থেকে প্রকৌশলী, কৃষিবিদ এবং চিকিৎসকদের সংগঠন- প্রকৃচি, ১৭ ক্যাডার এবং বিসিএস কর্মকর্তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির ব্যানারে নানা কর্মসূচি পালন করছে। নভেম্বরেও মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি রয়েছে।

এমতাবস্থায় সমস্যার ব্যাপারে কোনও সমঝোতা ছাড়াই পেশাদার ও কারিগরিসহ উন্নয়নমুখী দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলন, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও তদরকিসহ সকল ক্ষেত্রে ইউএনওকে ক্ষমতা দেয়ার সিদ্ধান্তে সারা দেশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম তুহিন বলেন, এই ঘটনায় সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, একজন জুনিয়র কর্মকর্তা (ইউএনও) দিয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণ সরকারের প্রশাসনিক রীতির পরিপন্থী। এ ছাড়া ন্যস্ত কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বিল অন্য বিভাগের কর্মকর্তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা দেশের ফিন্যান্সিয়াল রুল পরিপন্থী।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী সাজাহান আলী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী ও অন্যান্য সংস্থার প্রকৌশলীসহ প্রায় সব কর্মকর্তা ইউএনওর সিনিয়র। জুনিয়র কর্মকর্তাকে দিয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার এ প্রচেষ্টা জনপ্রশাসনের রীতির পরিপন্থী।

প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, রংপুরের ঘটনাটি ‘আগুনে ঘি ঢালা’-র মত। এই ঘটনার মাধ্যমে উপজেলা পরিষদে কর্মকর্তাদের বিদ্যমান সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, কর্মপরিবেশ এবং টীম স্পিরিট বিঘ্নিত হবে। তিনি বলেন, কঠোর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোনও বিকল্প নেই।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর