শহরের সব গাড়ি হবে স্বচালিত
শহরের সব গাড়ি হবে স্বচালিত
২০১৬-০৬-০৪ ০১:০৭:০৮
প্রিন্টঅ-অ+


সারা বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা, বাড়ছে যানজট। এ সমস্যা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করছে যে, ২০২৬ সালের মধ্যেই হয়তো বিশ্বের বেশিরভাগ কর্মব্যস্ত শহরে রাস্তায় যানবাহনের ভিড়ে তিলধারণের জায়গাও থাকবে না।

এ সমস্যা সমাধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যাতায়াত বিভাগ আয়োজন করেছে স্মার্ট সিটিজ চ্যালেঞ্জ নামের একটি প্রতিযোগিতা। এতে বিজয়ী শহরকে নতুন উদ্ভাবনী যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চার কোটি ডলার পর্যন্ত দেওয়া হবে। এ ছাড়াও শহরটি আরও এক কোটি ডলার পাবে পল অ্যালেন-এর ভালকান ইনকর্পোরেটেড-এর পক্ষ থেকে।

এ প্রতিযোগিতায় ৭৮টি শহরের মধ্য থেকে অন্যতম ফাইনালিস্ট স্যান ফ্রানসিসকো নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক যাতায়াত ব্যবস্থার ধারণা। এই ধারণার মূল ভিত্তিই হলো গাড়িচালকের ভূমিকাটি উঠে দেওয়া, অর্থাৎ, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি। আর এখানেই জ্বলজ্বলে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন, "গোটা একটি শহরকে স্বয়ংক্রিয় গাড়িনির্ভর করে তোলা কি সম্ভব?"

স্যান ফ্রান্সিসকোর অফিস অফ ইনোভেশন-এর এ উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য অবশ্যই যানজট কমানো, এবং বাড়িঘর, পার্ক ও পার্কিং স্পেইসের জন্য আরও ফাঁকা জায়গা বের করা। এতে গোটা শহরটিই হবে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ও শাটল নির্ভর, আর এসব গাড়ির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রাস্তায় সেন্সর বসানো থাকবে। এ ছাড়াও গাড়িগুলোর নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে ছন্দময় একটি যাতায়াত ব্যবস্থা সৃষ্টি করা যাবে, যাতে যানজট এবং দূর্ঘটনার সংখ্যা কমে যাবে অনেকাংশেই।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাড়ির মালিক তার বৈদ্যুতিক গাড়িটি প্রথম স্টপ পর্যন্ত চালিয়ে নিয়ে গিয়ে সেখানেই রেখে আসবেন। এরপর অন্যান্য যাত্রীরা তা ভাড়া নিতে পারবেন, আর এ ভাড়ার টাকায় যাতায়াতসংক্রান্ত সব খরচ মেটাবেন গাড়ির মালিক। কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য তারা পাবলিক ট্রানজিট ব্যবহার করবেন, অথবা বাইক-স্কুটার বা কারে ভাগাভাগি করে চড়ে বসবেন। আর শপিংয়ের মতো কাজগুলো যাতে গাড়ি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, তা অন-ডিমান্ড সার্ভিসের মাধ্যমে সমাধা করা যাবে।

এ ছাড়াও এখানে থাকবে ভ্যানপুল, স্মার্ট ম্যাপ এবং লকার, যাতে রাতের বেলা রাস্তায় কম যানবাহন থাকা অবস্থায় ডেলিভারি ট্রাকে পণ্য পরিবহণ সহজ হয়।

এখানে সমস্যা একটাই, এ পরিকল্পনাটি কতটুকু কার্যকরী হবে তা পুরোপুরিই নির্ভর করছে গাড়ির মালিকরা তাদের গাড়ি ছেড়ে দিয়ে শহরব্যাপী ট্রানজিট সেবার উপর নির্ভর করতে রাজি হবেন কিনা। আর এর সমাধান: নতুন ট্রানজিট ব্যবস্থাটি স্যান ফ্রানসিসকোর বর্তমান পাবলিক ট্রানজিটের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুতগতির ও সফল হবে তা প্রমাণ করা। আর এ পরিকল্পনায় সাফল্য পেতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে যাত্রীদের জন্য একটি অ্যাপ ছাড়া হচ্ছে।

স্যান ফ্রান্সিসকো এ ডট চ্যালেঞ্জে জিতুক আর নাই জিতুক, শহরটির অব্যবস্থাপনাপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা অথবা নতুন কোনো কার্যকরী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অনেকটাই আবশ্যক হয়ে পড়েছে। অতি দ্রুতগতিতে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে কম আয়ের নাগরিকেরা শহরের কেন্দ্রের বাইরে বসবাস করতে এবং কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ছাড়াও বিশ্বের বৃহত্তম উদ্ভাবনী যাতায়াত প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলোই স্যান ফ্রানসিসকোভিত্তিক। এদের মধ্যে অনেকেই তাদের প্রযুক্তির ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে এ শহরেই, যা এ সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ প্রতিযোগিতার সাত ফাইনালিস্টের মধ্যে স্যান ফ্রানসিসকো ছাড়াও অনেকটা কাছাকাছি পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে পিটসবার্গ, ক্যানসাস সিটি এবং অস্টিন। প্রতিটি ফাইনালিস্ট শহরকে এরই মধ্যে এক লাখ ডলার করে দেওয়া হয়েছে। এ মাসেই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শহরের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর