দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের
দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের
২০১৬-০৬-০৩ ০২:১০:১৬
প্রিন্টঅ-অ+


২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তব্যে এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

বাজেটে হাতে বা অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৈরি বিড়ি এবং অন্যান্য তামাক পণ্য, অপটিক্যাল ফাইবার, বেকারি আইটেম, প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি পাদুকা, ট্যালকম পাউডার প্রভৃতির শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতি কেজি ১০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের পাউরুটি, বানরুটি ও এ ধরনের রুটি এবং হাতে তৈরি কেক ও বিস্কুট; ১২০ টাকা দাম পর্যন্ত প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি হাওয়াই চপ্পল এবং প্লাস্টিকের পাদুকা; স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হার্ডবোর্ড, বৈদ্যুতিক জেনারেটর ইত্যাদি পণ্য এবং ট্রাভেল এজেন্সি, মেডিটেশন সেবা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

হস্তচালিত লুমের তৈরি ফেব্রিক্সের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল রেখে পাওয়ার লুম থেকে তৈরি ফেব্রিক্সের ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মৃত্যু সংবাদজনিত বিজ্ঞাপন ব্যতীত পত্রিকায় প্রকাশিত সব ক্লাসিফাইড বিজ্ঞাপনের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহারপূর্বক ক্লাসিফাইড বিজ্ঞাপনকে ভ্যাটের আওতায় আনার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

সিগারেট: এবারের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর ও সম্পূরক শুল্ক হার বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া সিগারেট পেপার ও সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে আগামীতে সিগারেটের দাম বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি দাম বাড়বে সস্তা দামের সিগারেটের। কারণ, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্যস্তর ও সম্পূরক শুল্ক সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হচ্ছে।

ওয়াশিং মেশিন: এ পণ্যটির আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। তাই বাজেটের পর পণ্যটির দাম বাড়তে পারে।

ট্রাভেল ব্যাগ: বিগত দিনে ট্রলি ব্যাগ, স্যুটকেস, ট্রাভেল ব্যাগ আমদানিতে সুনির্দিষ্ট এইচএস কোড ছিল না। এর ফলে এসব পণ্য আমদানিতে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী বাজেটে এসব পণ্যের এইচএস কোড (৮৩ দশমিক শূণ্য দুই) নির্ধারণ করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

চা: আমদানি করা চায়ের দাম বাড়তে পারে। আগামী বাজেটে প্রতি কেজি আমদানি করা চায়ের ট্যারিফ মূল্য ২ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে আমদানি করা চায়ের দাম বাড়তে পারে। যদিও চা উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চাল: চাল আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এর ফলে আমদানি করা সব ধরনের চালসহ সুগন্ধিযুক্ত চালের দাম বাড়তে পারে। দেশীয় কৃষকদের সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

বই: শিশুদের ছবির বই, ড্রয়িং বই আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক আমদানিতে শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এ কারণে বইয়ের দাম বাড়তে পারে।

মশার ব্যাট: মশা ও পোকামাকড় মারার কাজে ব্যবহৃত ব্যাট আমদানিতে এইচএস কোড সৃষ্টি করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ কারণে পণ্যটির দাম বাড়তে পারে।

অপটিক ক্যাবল: দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার স্বার্থে ফাইবার অপটিক ক্যাবল আমদানির শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে পণ্যটির দাম বাড়তে পারে।

এছাড়া দাম বাড়তে পারে গাম রেজিন, ইউরিয়া রেজিন, ১০ থেকে ১২০ এমভিএ এবং ২০০০ ভিএ জেনারেটর, এলপিজি সিলিন্ডার, পার্টিক্যাল বোর্ড, এডহেসিভ টেপ, ফায়ারডোর, গ্রিজ, লুব্রিকেন্ট অয়েল ইত্যাদির।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর