আইইবি’তে কৃষিতে পানি সেচের সমস্যা ও সম্ভাবনা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
আইইবি’তে কৃষিতে পানি সেচের সমস্যা ও সম্ভাবনা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
২০১৬-০৬-০১ ০৩:১৬:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+


ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-র ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উদযাপন উপলক্ষে আইইবি’র অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন আইইবি’র কাউন্সিল হলের সেমিনার কক্ষে মঙ্গলবার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৭ টায় “Present Irrigation Status of Bangladesh-Prevailing Hindrances & Opportunities” শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে।

আইইবি’র ৬৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী অনুষ্ঠান কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লুতফর রহমান মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র সম্মানী সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নুরুজ্জামান(মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগ)।

সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের সম্মানী চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মোজাম্মেল হক।

এছাড়াও সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির মাননীয় চেয়ারম্যান মোঃ মকবুল হোসেন এমপি।

প্রথমেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সম্মানী সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সবুর। তিনি বলেন, “আইইবি’র ৬৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচী আজ শেষ হতে যাচ্ছে। এই এক মাস আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছি। এছাড়াও IEB এর প্রতিটি ডিভিশন থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে এই সময়ে”।

সেমিনারের আলোচ্য বিষয় সম্বন্ধে তিনি বলেন, “ কৃষিতে বিপ্লব ঘটার কারনেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর এই বিপ্লব ঘটেছে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং কারগরি দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে যার কৃতিত্বের ভাগীদার আমাদের আইইবি’র এগ্রিকালচারাল ডিভিশনও”।

এরপর সেমিনারের মূল বক্তা মোঃ লুতফর রহমান তার প্রকাশিত প্রবন্ধের অংশ বিশেষ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “কৃষিতে বৈপ্লবিক উৎকর্ষের ফলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর খাদ্য শস্য উৎপাদনে পানিসেচের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পানিসেচ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন কৃষি উৎপাদনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ডি এ ই এর তথ্য মতে, ১৯৬০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৫ কোটি যার বিপরীতে খাদ্য উৎপাদনের পরিমান ছিল ৭৮ দশমিক ২ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৪ সালে এসে জনসংখ্যা দাড়ায় প্রায় ১৬ কোটি আর মোট খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ দাড়ায় প্রায় ৩৪০ লাখ মেট্রিক টন! অর্থাৎ এই ৫৫ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে ২৯৬ শতাংশ আর খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে ৪৩৪ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে খাদ্য উৎপাদন প্রায় দিগুণ হারে বেড়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে ৫০ এর দশকে পানিসেচ ব্যবস্থার প্রচলন এবং এই ব্যবস্থার আরও উন্নয়নের মাধ্যমে”।

তিনি আরও বলেন, “গভীর নলকূপ এবং অগভীর নলকূপ উভয়ই কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। তবে পানিসেচের জন্য গভীর নলকূপের উপর অত্যধিক নির্ভরতার কারনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে যা অদূর ভবিষ্যতে কারন হতে পারে পরিবেশ বিপর্যয়ের। এর বিকল্প হতে পারে অগভীর নলকূপ ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ইত্যাদি। এছাড়াও দখল ও ভরাটকৃৎ খাল, বিল, হাওড় পুকুর খননে সরকার যদি আরও উদ্যোগী হয় তবে গভীর নলকূপের উপর নির্ভরতা আরও কমানো সম্ভব হবে”।

এরপর বক্তব্য রাখেন সেমিনারের মনোনীত আলোচক ডঃ সাইদুর রহমান সেলিম। তিনি বলেন, “পৃথিবীতে সুপেয় পানির পরিমাণ খুবই কম। বাংলাদেশে গত ৫০ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে ৩ গুন অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে ৪ গুন। এর প্রভাবেই আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে আমরা ব্যবহার করছি বিপুল পরিমাণ মিঠা পানি। অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞতাবশত অপচয়ও করছি। যার প্রভাবে আমাদের সুপেয় পানির পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। BADC এর হিসাব মতে, দেশে ৩৬ হাজার গভীর নলকূপ, অপরিকল্পিত প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ অগভীর নলকূপ দিয়ে দেশের কৃষি জমিতে পানিসেচ দেয়া হচ্ছে। । অন্যদিকে ঢাকায় প্রতিদিন সাড়ে তিন কোটি গ্যালন পানি উত্তোলন করা হয় গভীর নলকূপ দিয়ে। যার ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই, ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে পার্শ্ববর্তী নদী বা অন্য জলাধারগুলোকে নতুন বিকল্পে পরিণত করতে হবে”।

এরপর বক্তব্য রাখেন সেমিনারের বিশেষ অতিথি আইইবি’র সম্মানী সহ-সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রি শেখ হাসিনা বাংলাদেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার অন্যতম কারিগর। আমার কর্মক্ষেত্রে থাকতে আমি দেখেছি তিনি সবসময় পানিসেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সারফেস ওয়াটার ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আর আজকের সেমিনারের মত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজনে ও পৃষ্ঠপোষকতায় IEB সবসময় অগ্রগণ্য”।

সেমিনারে উপস্থিত প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির মাননীয় চেয়ারম্যান মোঃ মকবুল হোসেন এমপি বলেন, “আপনাদের মত মেধাবী জনগোষ্ঠীর অক্লান্ত গবেষণা, চিন্তা ভাবনা, নিত্য নতুন কৃষি প্রযুক্তি আবিস্কার আর একাগ্রতার ফলেই বাংলাদেশ আজ নিজস্ব খাদ্য চাহিদা পূরণ করে বহির্বিশ্বে খাদ্য রপ্তানি করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর নিবিড় পর্যবেক্ষণের কারনেই কৃষিতে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ২১ বছর এই সরকার ক্ষমতায় না থাকায় BADC প্রায় একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে যাচ্ছিল। কিন্তু এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুনঃউজ্জীবিত হয় BADC”।
(আবু সাঈদ)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর