৯ম গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্ত নন-ক্যাডারদের প্রারম্ভিক বেতন নির্ধারণে বৈষম্য
৯ম গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্ত নন-ক্যাডারদের প্রারম্ভিক বেতন নির্ধারণে বৈষম্য
২০১৬-০৫-২৬ ১৫:৩৮:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+


বেতন বৈষম্য দূর করতে গিয়ে নতুন বৈষম্য সৃষ্টি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আগে বৈষম্য ছিল ক্যাডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ননক্যাডার কর্মকর্তাদের। সেই সমস্যা মেটাতে গিয়ে বিসিএস ননক্যাডার এবং সরাসরি ননক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যেও এখন বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিগত ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ জারির মাধ্যমে সরকার প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীগণের জন্য আকর্ষনীয় বেতন-ভাতাদির প্রবর্তন করে যার জন্য সরকারের প্রশংসা প্রাপ্তির পাশাপাশি ক্যাডার-নন-ক্যাডার বৈষম্য সৃষ্টি হয়| বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের চাকরিতে প্রবেশ পদ নবম গ্রেড থেকে অষ্টম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। এর বিরুদ্ধে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু করেন বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তারাসহ ননক্যাডার কর্মকর্তারা। কারণ বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারাও তাঁদের মতো নবম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দিতেন। নতুন বেতন স্কেলে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের অষ্টম গ্রেডে উন্নীত করায় বেতন বৈষম্য সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়। তবে তা করতে গিয়ে ননক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়। বিগত ২০ এপ্রিল ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ (অনুচ্ছেদ ১২ এর উপ-অনুচ্ছেদ (৫)) অধিকতর সংশোধন (এস, আর, ও নং ১০৪-আইন/২০১৬) করা হয়।

উক্ত আদেশের দফা (ক) তে বিধান করা হয় যে, “ বিসিএস ক্যাডারভুক্ত এবং ৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীগণের বেতন জাতীয় বেতন স্কেল,২০১৫ এর ৯ম গ্রেডে একটি অতিরিক্ত বেতন বৃদ্ধির সুবিধাসহ নির্ধারিত হইবে; অর্থাৎ তাহাদের নির্ধারিত প্রারম্ভিক বেতন হইবে (২২০০০+১১০০)=২৩১০০ টাকা”।

কিন্তু দফা (খ) তে বিধান করা হয় যে, “পদোন্নতির মাধ্যমে ৯ম গ্রেডপ্রাপ্ত এবং বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়া কোন ক্যাডার পদে নিয়োগ লাভ করেন নাই কিন্তু বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সুপারিশক্রমে ৯ম গ্রেডে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ লাভ করিয়াছেন এইরূপ সকল কর্মচারীগণের বেতন জাতীয় বেতন স্কেল,২০১৫ এর ৯ম গ্রেডে নির্ধারিত হইবে; অর্থাৎ তাহাদের নির্ধারিত প্রারম্ভিক বেতন হইবে ২২০০০ টাকা”।

পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাডার কর্মকর্তারা আগের নিয়মে নবম গ্রেডেই চাকরিতে যোগ দেবেন। তবে তাঁদের একটা অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে। নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ননক্যাডাদেরও একই সুবিধা দেওয়া হবে। তবে বিসিএস পাসের মাধ্যমে ননক্যাডার পদে যোগদানকারীদের এই সুবিধা দেওয়া হয়নি।

এলজিইডি,DPHE,রেলওয়ে,কল-কারখানা পরিদর্শন,ভোক্তা অধিকার,পাসপোর্ট,EED,পরিবেশ,প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ পাওয়া বিসিএস ননক্যাডার কর্মকর্তারা বলেছেন, গত ২০ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় ১০৪ নম্বর এসআরওর মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত এবং নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের একটি ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এসআরও অনুযায়ী বিসিএস ক্যাডার ও নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ননক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রারম্ভিক বেতন ২২ হাজার টাকা। এর সঙ্গে তাঁরা এক হাজার ১০০ টাকার একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট পাবেন। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ক্যাডার বঞ্চিত ননক্যাডার কর্মকর্তারা এক হাজার ১০০ টাকার ইনক্রিমেন্ট পাবেন না। ফলশ্রুতিতে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ননক্যাডারপ্রাপ্ত নবম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তাদের ইনক্রিমেন্ট বঞ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি বিসিএস ননক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন ও মর্যাদার ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করবে। এই আদেশে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের অষ্টম গ্রেডে দেওয়া বেতন বৃদ্ধির সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের অষ্টম গ্রেডে যে বেতন হয়েছিল, নবম গ্রেডে ফেরত নিয়ে তার সঙ্গে একটি ইনক্রিমেন্ট যোগ করলে বেতন অষ্টম গ্রেডের চেয়ে কম হবে না। কোনো কারণে সমান না হলে তাঁদের বেতন পরবর্তী ধাপে নির্ধারণ করা হবে। এখানে নবম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ননক্যাডার কর্মকর্তাদের এই সুরক্ষার আওতায় আনা হয়নি।

এখানে স্পষ্টতই ৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত এবং বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৯ম গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্ত নন-ক্যাডার কর্মচারীগণের মধ্যে অনাকাংক্ষিতভাবে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। উক্ত বিধানের ফলে একই অধিদপ্তরে/বিভাগে/সংস্থায় একই নিয়োগের যোগ্যতাসম্পন্ন পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হবে এবং নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্মচারীর থেকে জুনিয়র কর্মচারী অধিক বেতন-ভাতাদি প্রাপ্ত হবেন। তাছাড়া ‘নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০১০’ এর অনুচ্ছেদ ২ এর উপ-অনুচ্ছেদ (৩) অনুযায়ী ‘নন-ক্যাডার পদ’ অর্থ কমিশনের সুপারিশের আওতাভুক্ত কোন সরকারী অফিসের রাজস্ব খাতের সরাসরি নিয়োগযোগ্য স্থায়ী বা অস্থায়ী প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড প্রারম্ভিক পদ। তাই এ-ধরনের বিভাজন স্পষ্টতই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন ও মনোবল-কর্মস্পৃহাকে দুর্বল করবে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে সুযোগের সমতা লাভের বিষয়টি থেকে বঞ্চিত করবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর