আজ আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’
আজ আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’
২০১৬-০৫-২১ ০১:৪৩:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+


বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ শক্তিশালী হয়ে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। শনিবার বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সারা দেশের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর, কক্সবাজারকে ৬ নম্বর এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলবর্তী কয়েকটি জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। বেশ কয়েকটি জেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামাল সন্ধ্যায় বলেন, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজারের উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কোমেনের সময় ২১ লাখ ১৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এবারও প্রায় একই সংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সরকারের সেই প্রস্তুতি রয়েছে। সারা দেশে ৩ হাজার ৮৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, ঘূর্ণিঝড় আজ বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রম করার সময় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলা এবং এগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিসহ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপকূলীয় উপজেলায় মাইকিং করে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে। নগর এবং বিভিন্ন উপজেলায় ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রতি উপজেলায় একটি করে জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা দিয়েছি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য। যদি লোকজন না মানে, তাহলে আমরা চাপ দিয়ে সরিয়ে নেব।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু মোকাবিলায় নগরের ওয়াসা মোড় এলাকায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (বিদ্যুৎ) কার্যালয়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলেছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ৬৩০৭৩৯ ও ৬৩৩৪৬৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ০১৮১৯৩৮৭৪৬৩ মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

৭ নম্বর বিপৎসংকেত জারির পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩ নম্বর সতর্কতা জারি করেছে। এটি বন্দরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। এ সতর্কতা অনুযায়ী বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের মূল জেটি ও বিশেষায়িত জেটিতে নোঙররত জাহাজগুলো ধাপে ধাপে সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বন্দরে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৪৭টি জাহাজ অবস্থান করছিল। এর মধ্যে মূল জেটি ও বিশেষায়িত জেটিতে ছিল ২২ টি। বাকি সব জাহাজ ছিল বহির্নোঙরে। বন্দরে অবস্থানরত জাহাজের মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজ ছিল ১০৭ টি।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বরগুনাসহ দক্ষিণ উপকূলে টানা দুই দিনে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, অতিবর্ষণে জেলার ১০টি স্থানে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে শুক্রবার বেলা তিনটা পর্যন্ত দক্ষিণ উপকূলে ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার ৩৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং ৪৮টি চিকিৎসা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালীতে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণসহ সব নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজারে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বেড়ে উপকূলে আঘাত হানছে। জেলা প্রশাসন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করছে। সকাল থেকে জেলায় হালকা বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইছে। পুরো সৈকত পর্যটকশূন্য।
পাউবোর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাবিবুর রহমান বলেন, জেলার আটটি উপজেলায় পাউবোর বেড়িবাঁধ রয়েছে প্রায় ৫৯১ কিলোমিটার। এর মধ্যে মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নে আড়াই কিলোমিটার, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের ৮০ মিটার এবং কুতুবদিয়ার আকবরবলীঘাট এলাকার দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ভাঙা রয়েছে। এসব ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ৫০ টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। আরও দেড় শতাধিক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতে নোয়াখালীর জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় তিনটি উপজেলার ২৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। নদ-নদীর পানি বেড়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় পিরোজপুরে ১৯৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।

খুলনায় নয় উপজেলায় ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলীয় উপজেলা দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছায় মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে।

নৌযান চলাচল বন্ধ: রোয়ানুর প্রভাবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে গতকাল বিকেল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

পরিবেশ এর অারো খবর