১৪ বছর আগের নকশায় ভবন নির্মাণ: ভেঙে দিয়েছে রাজউক
১৪ বছর আগের নকশায় ভবন নির্মাণ: ভেঙে দিয়েছে রাজউক
২০১৬-০৫-২১ ০১:৩৮:২৪
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীর ধানমণ্ডির গ্রিন রোডে একটি বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ৭২ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ভবনটিতে সম্প্রতি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অভিযান চালিয়ে কিছু অংশ ভেঙে দিয়েছে। একই সঙ্গে ভবন মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা যায়, গ্রিন রোডে ৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে প্লটটির মালিকদের পক্ষ থেকে ২০০২ সালে নকশা পাস করানো হলেও সময়মতো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। এ ছাড়া রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী ‘ফার’ সেট-ব্যাক না মানার অভিযোগও রয়েছে।

তবে ভবন মালিকের দাবি, ইমারত বিধিমালা মেনেই তাঁরা ভবনটি নির্মাণ করছেন। তবে আর্থিক দুর্বলতার কারণে কাজের গতি ধীর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ধানমণ্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালসংলগ্ন গ্রিন রোডে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। মূল ফটকের সামনে একটি সাইনবোর্ড ঝুলছে। তাতে রয়েছে ভবন নির্মাণ সম্পর্কিত তথ্য—‘রাজউক অনুমোদিত স্মারক/ন অ অ-১২০২-২০০/১৮১। একটি বেজমেন্টসহ ৯ তলা ভবন’।

রাজউকের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণাধীন ভবনের যে ধরনের তথ্য থাকা দরকার এখানে এর বেশির ভাগই নেই। ভবন নির্মাণের সময়কাল ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নাম ও পদবি নেই। এই সাইনবোর্ডও রাজউক থেকে তাগাদা দিয়ে লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী একটি ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার দুই বছরের মধ্যে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করতে হয়। সেই সময়ের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ না করা হলে দুই বছর পর সেই অনুমোদন আপনা থেকেই বাতিল হয়ে যায়। সে হিসাবে গ্রিন রোডের এ ভবন ১৪ বছর আগের নকশায় নির্মিত হওয়ায় আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে।

ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতেই এগিয়ে আসেন কেয়ারটেকার পারভেজ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবনটির নকশা রাজউকের আগের নিয়মে পাস করানো। তাই ভবন নির্মাণের সাইনবোর্ড টানানোর বাধ্যবাধকতা নেই। এর পরও রাজউক থেকে কর্মকর্তারা বলার পর সম্প্রতি এই সাইনবোর্ড লাগিয়েছি।’

ভবনের চারপাশ ঘুরিয়ে দেখানোর পর পারভেজ দাবি করেন, রাজউক থেকে নিয়ম অনুযায়ী সাত ফুট জায়গা ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা ছেড়েছেন আট থেকে দশ ফুট। পাশের একটি প্রতিষ্ঠান এই ভবন ভাড়া নিতে চেয়ে না পেয়ে উল্টোপাল্টা তথ্য দিয়ে লোকজনকে বিভ্রান্ত করছে।

ভবনটির আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০২ সালের আগে ওই এলাকায় কোনো বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার বিধান ছিল না। এ কারণে সংশ্লিষ্টরা ওই এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করতে পারেননি। পরে নানা অনিয়মের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়। ভবনটির পেছনেই রয়েছে ওয়াইডাব্লিউসিএ স্কুল। এত বিশাল একটি ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী জায়গা ছাড়া হয়নি। এতে সার্বিক পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। ব্যস্ততম গ্রিন রোডে যানজট আরো তীব্র হওয়ারও কারণ হয়ে দাঁড়াবে। রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উচিত হবে নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত এ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

রাজউকের অথরাইজড অফিসার জেড এম শফিউল হান্নান বলেন, ‘ভবনটি নির্মাণের জন্য রাজউক থেকে যথাযথ নিয়ম মেনে নকশার অনুমোদন নিয়েছে। এখনো পর্যন্ত আইনের বাইরে কিছু হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। রাস্তার পাশের অংশে কিছুটা ডেভিয়েশন ছিল, তা ভেঙে দিয়ে আমরা ভবন মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছি। এর পরও বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে ভবন মালিক মোস্তফা সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ২০০০ সালে নকশার জন্য আবেদন করলে তা ২০০২ সালে পাস হয়। এরপর ৭২ কাঠা জমির ওপর ভবন নির্মাণ শুরু করি। ভবনটির প্রথম ভাগে কাজ করা হয়েছে পেছনের দিক দিয়ে। আর গত কয়েক বছরে কাজ শুরু করেছি সামনের অংশে। আমরা রাজউকের যথাযথ নিয়ম মেনে কাজ করছি। সামনের অংশে একটু ডেভিয়েশন ছিল। রাজউক থেকে বলার পর সেটুকু ভেঙে ফেলেছি।’ একটি ৯ তলা ভবনের কাজ করতে ১৪ বছর সময় লেগেছে—এমন এক প্রশ্নে মোস্তফা সুমন বলেন, ‘আমাদের বিশাল এই ভবন নির্মাণ করতে কোনো ঋণ নিইনি। নিজস্ব অর্থে ধীরে ধীরে কাজটি করে যাচ্ছি। তাই একটু বিলম্ব হচ্ছে।’

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর