ঢাকা-জয়দেবপুর আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো করতে চায় রেলওয়ে
ঢাকা-জয়দেবপুর আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো করতে চায় রেলওয়ে
২০১৬-০৫-১৮ ১৩:৪৩:০৬
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীতে যানজট কমাতে এবার আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল (সাবওয়ে) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর, টঙ্গী হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথের নিচ দিয়ে এটি নির্মাণ করা হবে। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাই প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে রেলওয়ে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।

সম্ভাব্যতা যাচাই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ঢাকার যানজট নিরসনে উপায় ও কৌশল নির্ধারণে গত ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সড়ক ও সেতু বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার যানজট হ্রাসে সাবওয়ে নির্মাণের সুপারিশ করেন। এর ভিত্তিতে কমলাপুর-জয়দেবপুর রুটে বিদ্যমান রেলপথের নিচ দিয়ে সাবওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আর বিদ্যমান রেলপথের নিচে কোনো ধরনের পরিবেশ লাইন না থাকায় সাবওয়ে নির্মাণে সমীক্ষা প্রস্তাব করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ঢাকা-টঙ্গী রুটে ৭২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এতে প্রায়ই সড়কগুলো সিগনাল দিয়ে বন্ধ করতে হয়। ফলে যানজট ব্যাপক আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে নতুন করে কমিউটার বা লোকাল ট্রেন চালানো সম্ভব নয়। ফলে সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে মাটির নিচের রেলপথ দিয়ে কমিউটার বা লোকাল ট্রেন চলাচল করতে পারবে। সড়কপথে যানবাহনের চাপ কমবে এবং সিগনালে রাস্তা বন্ধও রাখতে হবে না।

৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সাবওয়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরকারের তহবিল থেকে ৬৭ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। সম্প্রতি প্রস্তাবটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে অনুমোদনের পর তা যাবে পরিকল্পনা কমিশনে। এর পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা একনেকে উঠবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকার যানজট কমাতে সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে। এগুলোয় মূলত কমিউটার ট্রেন চলবে। এতে ৩০ মিনিটে কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর যাওয়া যাবে। আর ওপরের রেলপথগুলো বিদ্যমান সার্ভিস প্রদানে ব্যবহার করা হবে। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রকল্প নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় দুই ধাপে আরো চারটি সাবওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব করেছে সেতু বিভাগ। প্রথম ধাপে দুটি সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে। প্রথম সাবওয়ের প্রস্তাবিত রুট হলো টঙ্গী থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে মহাখালী, মগবাজার, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া পর্যন্ত। পরবর্তীতে তা নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারণ হবে। দ্বিতীয় সাবওয়েটির রুট প্রস্তাব করা হয়েছে আমিন বাজার থেকে কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, নিউমার্কেট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় ধাপে অন্য দুটি সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে একটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-১০, নেভি কলোনি, কাকলী, গুলশান-২, রামপুরা, খিলগাঁও, মতিঝিল হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত; পরবর্তীতে যা ঝিলমিল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। এটি সাবওয়ে-৩ নামে পরিচিত হবে। চতুর্থ সাবওয়েটি হবে রামপুরা থেকে নিকেতন, তেজগাঁও, সোনারগাঁও হোটেল, পান্থপথ, রাসেল স্কয়ার, ধানমন্ডি-২৭, রায়ের বাজার, জিগাতলা, আজিমপুর, লালবাগ হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৩ মার্চের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে সেতু বিভাগ।

এদিকে ট্রেনের কারণে ঢাকায় যানজট কমাতে আরেকটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে রেলওয়ে। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিদ্যমান রেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এজন্য ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আরেকটি প্রকল্প এরই মধ্যে অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে যেসব রেল ক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভার নেই, সেখানে ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর