আইইবি’তে সেমিনার অনুষ্ঠিত
আইইবি’তে সেমিনার অনুষ্ঠিত
২০১৬-০৫-১৭ ১০:৫৩:৫২
প্রিন্টঅ-অ+


ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ ( আইইবি)-র ৬৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ( ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উদযাপন উপলক্ষে আইইবি’র কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন আইইবি’র কাউন্সিল হলের সেমিনার কক্ষে “Environmental and Social Impact of Coal Fired Power Plant” শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডঃ কাজী বায়েজিদ কবির উক্ত বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র সম্মানী সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ কবির আহমেদ ভুঞা। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের সম্মানী চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন এবং সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার হাসানুল হক ইনু এমপি।

প্রথমেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সম্মানী সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সবুর।

তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে ব্যক্তিগত কিংবা শিল্প ক্ষেত্রে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। আর বিশ্বে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহৃত হচ্ছে তার মধ্যে কয়লা অন্যতম। বাংলাদেশে ৫ টি কয়লা খনি রয়েছে। আর এই কয়লা খনিগুলোতে আনুমানিক তিন হাজার ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লার মজুদ রয়েছে। তাই আমাদের দেশে গ্যাস এবং তেলের চেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা উৎকৃষ্ট বিকল্প। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমানোর জন্য বর্তমান সরকার রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং রামপাল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই, আমরা এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই”।

এরপর সেমিনারের মূল বক্তা কাজী বায়েজিদ কবির তার প্রবন্ধের অংশ বিশেষ উপস্থিত সকলের সামনে পাঠ করে শোনান। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে International Energy Agency(IEA) তাদের একটি রিপোর্টে উল্লেখ করে যে, ১৯৭৩ সালে সারা বিশ্বে কয়লা ব্যভারের পরিমান ছিল ৬ হাজার ১০০ মেট্রিক টন যা ২০১৩ সালে এসে দাড়ায় ১৩ হাজার ৫৪১ মেট্রিক তনে। এতেই খুব স্পষ্ট হচ্ছে শক্তির চাহিদা পূরণে কয়লা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাধ্যমে পরিনত হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে অনেক আগে থেকেই কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হয়ে আসলেও গত দশকের প্রথম দিক থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কয়লা ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়”।

তিনি আরও বলেন, “২০৪০ সালের মধ্যে শক্তি উৎপাদনে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কয়লার ব্যবহার করবে।

পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ গুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যাবে”। এসময় ডঃ বায়েজিদ সেমিনারে উপস্থিত সবাইকে আশ্বস্ত করেন এই বলে যে, “যেহেতু আমি একজন প্রকৌশলী এবং গবেষক তাই আমার কাজ হচ্ছে সঠিক তথ্য উৎঘাটন করা। আর যেহেতু আমি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছি তাই আমি দ্ব্যর্থ কণ্ঠে বলতে পারি এই প্রকল্প আমাদের পরিবেশের কোন ক্ষতি করবে না। এমনকি বাশখালি প্রকল্প নিয়ে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে এর মূল কারন ঐ অঞ্চলের মানুষকে এই প্রকল্পের ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয় সম্বন্ধে অবগত না করা”।

তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিবেশের উপর কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বরং যে অঞ্চলে এই কেন্দ্র নির্মিত হবে ঐ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আর্থসামাজিক ক্ষেত্রেও অনেক ইতিবাচক ভুমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের যেসব পরিবেশবাদী সংগঠন এসব প্রকল্প সম্বন্ধে নেতিবাচক কথা বলছেন সেটি তাদের মস্তিষ্কপ্রসূত এবং ভিত্তিহীন”।

এরপর সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সম্মানী সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ কবির আহমেদ ভুঞা।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশের যেসব তথাকথিত বিশেষজ্ঞরা রামপাল ও রূপপুরের বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর বিরোধিতা করছেন এটি প্রমান করে যে তাদের জ্ঞান এক্ষেত্রে কতটা সীমাবদ্ধ। তারা এই প্রকল্পগুলো পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করবে বলে যে অযৌক্তিক দাবি তুলছেন তা বিশ্বের কাছে আমাদের দেশের ইমেজকে নষ্ট করছে। পাশাপাশি এসব প্রকল্পে জড়িয়ে আছে দেশের স্বার্থ দেশের মানুষের স্বার্থ। তাই, তাদের এই অযৌক্তিক দাবি দেশের মানুষ মেনে নেবে না। আর আমাদের প্রকৌশলীদেরও কর্তব্য কীভাবে এসব প্রকল্পে কার্বনের নিঃসরণ কমানো যায় তা নিয়ে আরও গবেষণা চালিয়ে যেতে”।

সেমিনারে উপস্থিত প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার হাসানুল হক ইনু বলেন, “ নবায়নযোগ্য জ্বালানীর উপর নির্ভর করে দেশের বিদ্যুৎ শক্তির যে ক্রমবর্ধমান চাহিদা তা পূরন করা সম্ভব নয়। যদিও নবায়নযোগ্য জ্বালানী বিষয়ে সারাবিশ্বের বিশেষজ্ঞদের পক্ষে বিপক্ষে মতামত রয়েছে। সরকার অনেক গবেষণা ও পর্যালোচনা করেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই, কীভাবে আমরা এসব প্রকল্পে কার্বনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারি সে বিষয়ে আপনাদের প্রকৌশলীদের মতামত ও পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করব”।

তিনি আরও বলেন, “ আমাদের দেশের রাজনীতিতে প্রকৌশলীদের সংশ্লিষ্টতা অনেক কম হলেও উন্নত দেশগুলোর রাজনীতিতে তাকালে আমরা দেখি সেখানে প্রকৌশলীদের সংশ্লিষ্টতা অনেক বেশি। উন্নত তথ্য-প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে তারা অনেকটাই উদারনীতি অনুসরণ করে। কিন্তু বিএনপি সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে মনোযোগ না দেয়ায় আমরা এই খাতে প্রায় ১০ বছর পিছিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে মডেল তৈরি করেন তার ফলশ্রুতিতেই আজকের বাংলাদেশ বর্তমান অবস্থানে পৌছতে পেরেছে”।

এছাড়াও সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সেমিনারের বিশেষ অতিথি ছিলেন আইইবি’র কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের সম্মানী চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর