বে-টার্মিনাল নির্মাণে নতুন জটিলতা
বে-টার্মিনাল নির্মাণে নতুন জটিলতা
২০১৬-০৫-১৬ ১৮:৪৬:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+


চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল (ছোট বন্দর) নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত ভূমির বড় অংশ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য এ ভূমি অধিগ্রহণ বা হস্তান্তর করতে হলে প্রথমে একে সংরক্ষিত অঞ্চল নয় (ডি-রিজার্ভেশন) বলে ঘোষণা করতে হবে। না হলে এ ভূমি অধিগ্রহণ বা হস্তান্তরের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগ। বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ ভূমি বরাদ্দ দিতে পারছে না চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এতে বে-টার্মিনাল নির্মাণে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, বে-টার্মিনাল নির্মাণসহ বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ৯০৭ একর ভূমি পেতে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। এর মধ্যে ৮২০ দশমিক ৫৬ একর সরকারি খাস ভূমি। বাকি ৮৬ দশমিক ৩৭ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন। কিন্তু সরকারি খাস হিসেবে প্রস্তাবিত ভূমির সিংহভাগই বর্তমানে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চাওয়া ভূমি হস্তান্তরে আপত্তি জানিয়েছে উপকূলীয় বন বিভাগ চট্টগ্রাম।

ভূমি বন্দোবস্ত ও অধিগ্রহণের জন্য সিপিএর আবেদনের পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সার্কেলের (আগ্রাবাদ) সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ভূমির অবস্থা জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে জমা দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত জমির মধ্যে উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ হালিশহরে অবস্থিত প্রায় ৪৬৫ একর ভূমি বন বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত এলাকা, যা ২০১৪ সালের ৫ জুন গেজেট আকারে প্রকাশ হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখা বন বিভাগের কাছে মতামত জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এতে তিনি ওই ভূমিকে সংরক্ষিত উল্লেখ করে ডি-রিজার্ভেশন ছাড়া তা হস্তান্তরের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন। এ অবস্থায় খাস খতিয়ানের বাকি ৩৫৫ একর ভূমি বন্দোবস্তের বিষয়ে প্রতিবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেলকে নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন।

ভূমি অধিগ্রহণ ও বে-টার্মিনালের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমি কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত ভূমিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল আছে বলে আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনো চিঠি আমরা পাইনি। এমন কিছু হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই বে-টার্মিনাল নির্মাণ হবে।

এদিকে আবেদনের পাঁচ মাসেও বে-টার্মিনাল নির্মাণে পরিবেশ ছাড়পত্র পায়নি সিপিএ। তবে পরিবেশ ছাড়পত্র পেতে বড় বাধা নেই জানিয়ে সিপিএ সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম বলেন, আবেদনের পর পরিবেশ অধিদপ্তর কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে বে-টার্মিনালের ফলে যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি না হয়, জীবন-জীবিকায় যাতে প্রভাব না পড়ে ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আমরা এসব শর্ত পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, শিগগিরই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি মিলবে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমার শেষ প্রান্তে পতেঙ্গায় নিজস্ব অর্থায়নে বে-টার্মিনাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে নৌ-মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এতে টার্মিনালটি নির্মাণ প্রক্রিয়ায় গতি আসে। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। এছাড়া ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই ধাপে বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজ করা হবে। ২০১৭ সালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের নির্মাণকাজ শেষ করে টার্মিনালের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে কনটেইনার ওঠানামা শুরু হবে। তবে টার্মিনালটি শতভাগ সম্পন্ন করতে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে।

বন্দরের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমার শেষ প্রান্তে পতেঙ্গার অদূরে ১২ কিলোমিটার লম্বা চর জেগেছে। এতে চর ও উপকূলের মাঝামাঝি এক-দেড় কিলোমিটার প্রশস্ত জাহাজ চলাচলের পথ বা চ্যানেল তৈরি হয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকার মতো চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে সরাসরি বড় জাহাজ ভেড়ার সুযোগ নেই। কিন্তু নতুন চ্যানেলে দিন-রাত জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ থাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে বেশি গভীরতা ও দৈর্ঘ্যের জাহাজ চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে নতুন বে-টার্মিনালটি ঘিরে সিপিএ ও আমদানি-রফতানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।

তবে বে-টার্মিনালের জন্য সিপিএর প্রস্তাবিত ভূমির অধিকাংশই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পড়ায় নতুন করে

এর নির্মাণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুচিন্তিতভাবে বিষয়টির মীমাংসা হওয়া দরকার। সংরক্ষিত বনাঞ্চল এড়িয়ে টার্মিনালটি করা যায় কিনা, তা দেখতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবেশ ও প্রতিবেশসংশ্লিষ্ট বিষয়ের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর