আবাসিক এলাকা থেকে তুলে দেয়া হচ্ছে হোটেল-রেস্টুরেন্ট
আবাসিক এলাকা থেকে তুলে দেয়া হচ্ছে হোটেল-রেস্টুরেন্ট
২০১৬-০৫-১৪ ১৪:০৩:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীর আবাসিক এলাকা থেকে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, রেস্ট হাউজসহ সব অবৈধ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তুলে দেয়া হচ্ছে।

গত এপ্রিলে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর আবাসিক এলাকা থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে আকস্মিকভাবে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও গেস্ট হাউজ বন্ধ করে দিলে দেশের পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও বিদেশী পর্যটক আকর্ষণে গত কয়েক বছরে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালের মধ্যে দেশে ১০ লাখ বিদেশী পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যে কাজ করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এদিকে গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলো থেকে সব বাণিজ্যিক স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে উচ্ছেদের ঘোষণা দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, এরই মধ্যে কিছু এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ অবস্থায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও গেস্ট হাউজ উঠিয়ে দিলে প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটকের আবাসন সুবিধা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তালিকায় রয়েছে— আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা বার, গেস্ট হাউজ, বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টার, ফিটনেস সেন্টার, স্পা, বিউটি পার্লার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লিনিক, কলেজ, কোচিং সেন্টার, বুটিকের দোকান। এছাড়া আবাসিক এলাকার কোনো প্লটের বেজমেন্ট বা ভূ-তলের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা বন্ধ রেখে তা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করলে, সেগুলোও উচ্ছেদ করা হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ফেডারেশন অব হোটেল গেস্ট হাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফ ম আলাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশী-বিদেশী পর্যটকের আবাসন ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিতে বেসরকারি উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। হঠাত্ করেই সরকার এসব প্রতিষ্ঠান সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পর্যটন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সূত্রমতে, রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা ও বারিধারা আবাসিক এলাকার সব অবৈধ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কয়েকটি দল এসব এলাকা পরিদর্শন করেছে। তবে এখনই স্কুল ও হাসপাতাল উচ্ছেদ না করে সেগুলোকে স্থানান্তরে নোটিস দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

রাজউকের নকশা অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৩ লাখ ২০ হাজার হোল্ডিংয়ের মধ্যে প্রায় পৌনে তিন লাখই আবাসিক ভবন। এর মধ্যে অনুমোদিত ৫৪ হাজার আবাসিক ভবন ও সাত হাজার সরকারি প্লটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে ঢাকার বনানী, গুলশান, বারিধারা, উত্তরা, ধানমন্ডি, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় রাজউক এবং পূর্ত বিভাগের দেয়া আবাসিক প্লট রয়েছে। এসব আবাসিক এলাকার বেশকিছু ভবনে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এর মধ্যে বনানীতে ৩৯৯, গুলশানে ৯০৪, উত্তরায় ১ হাজার ৪৯, মিরপুরে ১ হাজার ৮৩৬, মোহাম্মদপুরে ১ হাজার ৫৫২ ও ধানমন্ডিতে ১ হাজার ১৭০টি আবাসিক ভবনসহ মোট ৬ হাজার ৯১০টি ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। এছাড়া বারিধারার কয়েকটি ভবনেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পরিকল্পিত ঢাকা নগর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে অভিযান চলবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকেই নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। প্রথম দফায় রাজধানীর সাতটি এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। যেসব আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে, সেসব ভবনের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ ডিসেম্বর গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়, শিল্প, বাণিজ্যিক বা আবাসিক যা-ই হোক না কেন, কেউ যদি বেজমেন্ট বা গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা বন্ধ করে রাখেন বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করেন, তবে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে। সিটি করপোরেশন সেখানে ট্রেড লাইসেন্স দেবে না। আবাসিক এলাকায় কোনো হোটেল, গেস্ট হাউজ, রেস্টুরেন্ট থাকতে পারবে না।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন ওই সময় গণমাধ্যমকে বলেন, ঘরবাড়ি করার অনুমতি নিয়ে স্থাপিত গাড়ির শোরুম ও রেস্ট হাউজ উচ্ছেদ করা হবে। যেভাবেই হোক, আবাসিক এলাকা থেকে অবৈধ সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। তবে স্কুল ও হাসপাতালকে নোটিস দিয়ে স্থানান্তর করার সময় দেয়া হবে। আর যদি কেউ রাজউকের নির্দেশ না মানে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর