এখনো অরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংক
এখনো অরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংক
২০১৬-০৫-১৪ ১৩:৪৯:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+


অর্থ চুরির তিন মাস পেরিয়ে গেলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি বাংলাদেশ ব্যাংকের। হ্যাকারদের তিনটি দল এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি করছে। ফলে আবারো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে ব্যাংকটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনার তদন্তকারী যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর এক ফরেনসিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের বাংলাদেশ ব্যাংক হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার শ্রীলংকা থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ফিলিপাইনে প্রবেশ করা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের অধিকাংশই এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ চুরির ঘটনা তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সাহায্য চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই প্রতিষ্ঠানের ফরেনসিক প্রতিবেদনের একটি অংশ হাতে পেয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনো কিছু ঝুঁকি অবশিষ্ট আছে, যা (বাংলাদেশ ব্যাংকের) গভর্নর ও বোর্ডের বোঝা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্ক এখনো নিরাপদ নয়। সেখানে অপরাধীদের সন্দেহজনক কার্যকলাপের যথেষ্ট আশঙ্কা এখনো রয়েছে।

প্রতিবেদন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুরো প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে রয়টার্সকে জানাতে সম্মত হননি। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, এ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে ও চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে চলমান বহুজাতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

চলমান তদন্ত সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, আমরা পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছি।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় দায়ী হ্যাকার দলটিকে ‘গ্রুপ জিরো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এ দলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে এখনো রয়ে গেছে। তারা সম্ভবত তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি করছে অথবা অন্য কোনো পন্থায় ক্ষতিসাধনের সুযোগ খুঁজছে।

প্রাথমিক এ তদন্ত প্রতিবেদনে ‘গ্রুপ জিরো’ নামের দলটিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে হামলায় দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। এ গ্রুপ আরো কিছু ব্যাংকে হামলার চেষ্টা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী সংস্থা সুইফটের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংযোগ রক্ষাকারী নেটওয়ার্কের ওপর আরো দুটি দল নজর রাখছে। এর মধ্যে একটি দলকে ‘নেশন-স্টেট অ্যাক্টর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এ দলটি গোপনীয় তথ্য চুরিতে নিয়োজিত। তবে এ দলটির কার্যকলাপ ক্ষতিকর নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। তৃতীয় দলটি সম্পর্কে তদন্তকারীরা তেমন কিছু জানতে পারেননি বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

এ মাসের শুরুতে জমা দেয়া এ প্রতিবেদনে আর কোনো হ্যাকার দলের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে সুইফটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় বেশ কয়েকটি পক্ষ জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে শুরু থেকেই। এ ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিক্স ও ফায়ারআইকে নিযুক্ত করে। এ বিষয়ে ফায়ারআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র চলমান তদন্ত সম্পর্কে রয়টার্সের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর