আইইবি’তে সেমিনার: ‘দেশের ৬০ ভাগ ভবন ভূমিকম্পে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে’
আইইবি’তে সেমিনার: ‘দেশের ৬০ ভাগ ভবন ভূমিকম্পে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে’
২০১৬-০৫-১৩ ০১:২৭:০১
প্রিন্টঅ-অ+


ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ ( আইইবি)-র ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উদযাপন উপলক্ষ্যে আইইবি’র সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন পুরাতন আইইবি ভবনের সেমিনার কক্ষে “Retrofitting of Buildings and Bridges in Bnangladesh: Needs and Intricacies” শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় অধ্যাপক ডঃ এ এফ এম সাইফুল আমিন উক্ত বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র সম্মানী সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ কবির আহমেদ ভুঞা। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের সম্মানী চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী মাসুদ হায়দার এবং সেমিনার সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন আইইবি’র সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের সম্মানী সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাবিব আহমেদ হালিম (মুরাদ)।

সেমিনারের প্রধান অতিথি পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি বৈরি আবহাওয়ার দরুন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।

প্রথমেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সম্মানী সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সবুর।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রায় ৬০ ভাগ ভবন যথাযথ নকশা অনুযায়ী নির্মিত না হওয়ায় তা মাঝারী মাত্রার ভূমিকম্পেই ভেঙে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মাটি পরীক্ষা থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণ শেষ পর্যন্ত যে ধাপগুলো রয়েছে তার মনিটরিং-এর দায়িত্ব আমাদের প্রকৌশলীদের হলেও অনেক ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় আমরা ঘটতে দেখি আমাদের কিছু প্রকৌশলীদের উদাসীনতার কারণে।” তাই এক্ষেত্রে তিনি প্রকৌশলীদের আরও তদারকির আহ্বান জানান।

এরপর সেমিনারের মূল বক্তা আ ফ ম সাইফুল আমিন তার প্রবন্ধের অংশ বিশেষ উপস্থিত সকলের সামনে পাঠ করে শোনান। তিনি প্রথমেই শিকাগো শহরের উদাহরণ টেনে তার বক্তব্য শুরু করেন।

তিনি বলেন, “স্থাপত্য শিল্পে শিকাগো শহরের আকাশচুম্বী দালানগুলোর ব্যাপক তাৎপর্য রয়েছে। আগুনে প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া শিকাগো বর্তমান অবস্থায় আসে অনেক স্থাপত্যবিদ এবং প্রকৌশলীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে। আর এর পেছনে অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন বাংলাদেশের গর্ব এফ আর খান; যিনি কাঠামো নকশার জন্য বিশ্ব নন্দিত। তার নকশাতেই নির্মিত হয় শিকাগোর সিয়ারস টাওয়ার যা বর্তমানে উইলিস টাওয়ার নামে পরিচিত”।

এরপর বঙ্গবন্ধু সেতুর সংস্কার এবং মজবুতকরন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে কাজ করা এই অধ্যাপক কিভাবে বাংলাদেশের ভবন এবং বৃহৎ সেতুগুলোকে আরও মজবুত করা যায় এবং এক্ষেত্রে প্রকৌশলীরা আরও কী কী বাঁধার সম্মুখীন হতে পারেন তার রূপরেখা তুলে ধরেন।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ শফিউল্লাহ। তিনি প্রথমেই অধ্যাপক ড. সাইফুল আমিনকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানান তার এই প্রবন্ধ উপস্থাপনার জন্য।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা বিশ্ব দরবারে তাদের প্রতিভা এবং কর্মদক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত কাঠামোগত প্রকৌশল বিদ্যায় অবদান রাখার জন্য কাউকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়নি।”

তিনি আশা করেন, খুব দ্রুতই এর সমধান হবে।

এরপর সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সম্মানী সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ কবির আহমেদ ভুঞা।

তিনি বলেন, “আমি অধ্যাপক ডঃ শফিউল্লাহ স্যারের সাথে একমত। দেশে বিদেশে আমরা প্রকৌশলীরা এত দক্ষতা এবং নৈপুণ্য দেখাবার পরেও আমাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আর এর পেছনে একটি গোষ্ঠী দায়ী... অবশ্য আমরা সরকারী সম্মাননার দিকে না তাকিয়ে আমাদের আইইবি’র পক্ষ থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা প্রকৌশলীদের সম্মাননা প্রদান করতে পারি”।

সেমিনারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল ক্রাউন সিমেন্ট।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর