ল্যান্ডিং রাইটস নির্ধারণে নীতিমালা করছে বিটিআরসি
ল্যান্ডিং রাইটস নির্ধারণে নীতিমালা করছে বিটিআরসি
২০১৬-০৫-১২ ০১:৫১:০৪
প্রিন্টঅ-অ+


বিদেশী স্যাটেলাইট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ল্যান্ডিং রাইটস (সম্প্রচারের অনুমোদন) বিষয়ক নীতিমালা করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর খসড়া তৈরিতে কাজ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটি কমিটি।

স্যাটেলাইট মূলত টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার, ব্যান্ডউইডথ ও টেলিযোগাযোগে ব্যবহার হয়। আর স্যাটেলাইট সেবাদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশে সেবা প্রদানের অনুমতি (ল্যান্ডিং রাইটস) বাধ্যতামূলক। তবে দেশে এখনো এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে সেবা দিচ্ছে বিদেশী স্যাটেলাইটগুলো।

সম্প্রতি দেশে ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সেবা চালু হয়েছে। এজন্য বিদেশী স্যাটেলাইট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ডিটিএইচের লাইসেন্স পাওয়া দুই প্রতিষ্ঠান। এশিয়া ব্রডকাস্ট স্যাটেলাইট (এবিএস) গ্লোবাল লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে বেক্সিমকো। বারমুডাভিত্তিক স্যাটেলাইট অপারেটর এবিএস ছয়টি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। ডিটিএইচ লাইসেন্স পাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠান বায়ার মিডিয়া লিমিটেড স্যাটেলাইট অপারেটর হিসেবে নিউ স্কাইস স্যাটেলাইটসের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

অস্থায়ী ভিত্তিতে স্যাটেলাইট ডাউনলিংক তরঙ্গ ব্যবহারের জন্য ডিটিএইচ লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ডলার। শর্ত সাপেক্ষে এ অনুমতি দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে স্যাটেলাইটের ল্যান্ডিং রাইটস-বিষয়ক নীতিমালা চূড়ান্ত হলে, সে অনুযায়ী ফি ও অন্যান্য চার্জ প্রদান করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ল্যান্ডিং রাইটস নির্ধারণ করা না হলে বিদেশী স্যাটেলাইট অপারেটরদের অবৈধভাবে সেবাদানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আর এতে দেশ খাতটি থেকে সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে। এজন্যই নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’-এর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী স্যাটেলাইটের আয়ের অন্যতম প্রধান খাত নির্ধারণ করা হয়েছে ডিটিএইচ সেবা। তবে স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই ডিটিএইচ লাইসেন্স দেয়ায় এ খাত থেকে প্রাক্কলিত আয়ের বিষয়টি ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছে বিটিআরসি। এজন্য ডিটিএইচের জন্য বিদেশী স্যাটেলাইট অপারেটরদের অস্থায়ী ভিত্তিতে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

স্যাটেলাইট উেক্ষপণ ও এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম সফল করতে স্যাটেলাইট-সংক্রান্ত সেবা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ল্যান্ডিং রাইটস নিয়ন্ত্রণ ও ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

দর্শকরা মূলত দুই ধরনের স্যাটেলাইট চ্যানেলের অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। একটি ফ্রি টু এয়ার, অন্যটি পে চ্যানেল। এর মধ্যে প্রথমটির জন্য অর্থ ব্যয় করতে না হলেও পে চ্যানেলগুলোর জন্য নির্দিষ্ট হারে সংশ্লিষ্ট চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে অর্থ দিতে হয়। দেশে ফ্রি টু এয়ার চ্যানেল সম্প্রচারের জন্য ল্যান্ডিং রাইটস দেয়া হয়েছে কেবল অপারেটরদের সংগঠন কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (কোয়াব)। আর পে চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার হচ্ছে তিনটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রতিটি পে চ্যানেলের জন্য বর্তমানে বার্ষিক দেড় লাখ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর