৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আইইবি-তে সেমিনার ও সম্মাননা
৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আইইবি-তে সেমিনার ও সম্মাননা
২০১৬-০৫-১১ ০০:৪৬:১৪
প্রিন্টঅ-অ+


ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-র ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উদযাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা কেন্দ্রের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১০ মে) সন্ধ্যা ৭টায় আইইবি অডিটোরিয়ামে "Reality of Padma Bridge-Creation of Technical, Social & Economic opportunities" শীর্ষক সেমিনার এর আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মোঃ মাসুদ “Reality of Padma Bridge- Creation of Technical, Social and Economic opportunity”শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রকৌশল ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় তিন খ্যাতিমান ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-এর মাননীয় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ-এর সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ কবির আহমেদ ভূঞা। সভাপতিত্ব করেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মেসবাহুর রহমান টুটুল। সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব জনাব আবুল কালাম আজাদ এবং পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশশন ( পিকেএসএফ)-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবি-র সম্মানী সহ সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইইবি ঢাকা সেন্টারের সম্মানী সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশীদ চৌধুরী মাসুদ।

অনুস্থানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আইইবি’র সম্মানী সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সবুর। তিনি তার বক্তব্যে পদ্মা বহুমুখী সেতুকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ বলে উল্লেখ করেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে আজকের সেমিনারের মূল বক্তা মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মোঃ মাসুদ (বিএসপি, চীফ কোঅর্ডিনেটর, সিএসসি, পদ্মা বহুমুখী সেতু) উপস্থিত সকলের সামনে তার প্রবন্ধের অংশ বিশেষ পাঠ করে শোনান।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পদ্মা সেতু আর স্বপ্ন নয় খুব শীঘ্রই বাস্তবে পরিণত হতে যাচ্ছে। অনেক বাধা এসেছে এই স্বপ্নের বাস্তবায়নে। বিশ্ব ব্যাংক মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। তবুও বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়ের ফলশ্রুতিতেই পদ্মা সেতু আজ দিবালোকের মত সত্য একটি প্রকল্প”।

তিনি আরও বলেন, “৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা বহুমখি সড়ক ও রেল সেতু বিশ্বের ২৫ তম দীর্ঘতম সেতু। এটি নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম নদী পদ্মার অববাহিকায়। এটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে যা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে মিলিত করবে”।

মেজর জেনারেল আবু সাঈদ তার বক্তব্যে পদ্মা বহুমুখী সেতুর বিভিন্ন কারিগরি বিষয়, সেতু অঞ্চলের মানুষের পুণর্বাসন এবং কিভাবে এই সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে পাল্টে দেবে তার রূপরেখা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত আলোচক পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশশন ( পিকেএসএফ)-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলেন, “পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ফিরিয়ে নেবার পর নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষকে বিশ্বাস করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন যে- আমরাও পারি”।

তিনি আরও বলেন, “বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণের উপর আমাদের নির্ভরতা যে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ”।

ড. খলিকুজ্জামান বলেন, “বড় প্রকল্পের পুনর্বাসন একটি জটিল প্রক্রিয়া কিন্তু পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের সুদক্ষ ভুমিকার কারণে তা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব জনাব আবুল কালাম আজাদ। তিনি প্রথমেই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য।

তিনি বলেন, “দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যে দূর্ভোগ তার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান এই পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প। এটি ঐ অঞ্চলের মানুষ তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ”।

তিনি আরও বলেন, “আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি বিশ্বব্যাংককে। কারণ তাদের ওই মিথ্যা এবং মনগড়া অভিযোগই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধাবিত করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে”।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ-এর সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ কবির আহমেদ ভূঞা। তিনি বলেন, “দূর্যোগে সংকটে এখন আর আমাদের বৈদেশিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। পদ্মা সেতুর মত এত বৃহৎ প্রকল্প নিজ অর্থায়নে নির্মাণ তাই প্রমান করে”।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-এর মাননীয় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপি বলেন, “বিশ্বব্যাংকের অলীক অভিযোগে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সকল মানুষ শঙ্কিত হলেও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শঙ্কিত হননি। বরং তার সুদৃঢ় মানসিকতা ও নেতৃত্বই পদ্মা সেতুকে বাস্তবে পরিণত করেছে”।

তিনি তার বক্তব্যে পদ্মা সেতুতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, নদী শাসন জটিল এবং কষ্টসাধ্য একটি কাজ। তিনি এই কাজটি বিশেষ সতর্কতা ও সুষ্ঠু তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে সম্পন্ন করার অনুরোধ করেন।

এছাড়া আই ই বি’র ৬৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবারের মত এবারো প্রকৌশল ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় তিন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

হাতিরঝিল প্রকল্পের নির্মাণশৈলীতে বিশেষ দক্ষতা দেখানোয় সম্মাননা প্রদান করা হয় ঐ প্রকল্পের অন্যতম পরিচালক মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মোঃ মাসুদকে।

কাঠামো নকশা ও পরামর্শক সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা দেয়া হয় Development Design Consultant এর মাননীয় পরিচালক এ কে এম রফিকউদ্দিনকে।

শিল্প বিকাশ ও কর্মসংস্থানে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্মাননা জানানো হয় কাজী ফার্মস লিমিটেড-এর মাননীয় পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কাজী জাহিদুল হাসানকে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর